kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ জানুয়ারি ২০১৭ । ৪ মাঘ ১৪২৩। ১৮ রবিউস সানি ১৪৩৮।


মেয়েকে ধর্ষণ মাকে মারধর

নান্দাইল থানায় বসে কাঁদল পরিবার

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

২৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ময়মনসিংহের নান্দাইলে ধর্ষিতা শিশুকন্যাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে বাধা দিয়েছে অভিযুক্তরা। এ সময় মেয়ের মাকে মারধর করা হয়েছে। বাধ্য হয়ে গতকাল রবিবার পরিবারটি থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। এ সময় তাঁদের কাঁদতে দেখা গেছে।

মা অভিযোগ করে জানান, তাঁরা উপজেলার মেয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। মেয়েটি স্থানীয় বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। প্রতিবেশী মো. শাহজাহানের ছেলে কামরুল (২০) তাঁর মেয়েকে গত শুক্রবার দুপুরে নির্যাতন করে। মেয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে এলে তিনি ঘটনা জানতে পারেন। মেয়েকে নিয়ে অভিযুক্তের বাড়িতে গেলে তারা গুরুত্ব দেয়নি। উল্টো হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। পরে গ্রামের লোকজনকে ঘটনা জানান। লোকলজ্জার ভয়ে হাসপাতালে না গিয়ে পল্লী চিকিৎসকের সেবা নেন। কিন্তু রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়া, ব্যথা ও জ্বর না কমায় গত শনিবার রাতে তিনি মেয়েকে নিয়ে নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য মেয়েটিকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।

শিশুটির ফুফাতো ভাই জানান, গতকাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার সময় তাঁরা ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কে নান্দাইলের কানুরামপুর বাসস্ট্যান্ড পার হচ্ছিলেন। অভিযুক্তের লোকজন তাদের বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশার পথরোধ করে শিশুটিকে টেনে-হিঁচড়ে নামায়। তার মাকে মারধর করে হুমকি দিয়ে বাড়ি যেতে বলে। এ অবস্থায় ভয়ে তাঁরা থানায় চলে আসেন। থানায় গিয়ে দেখা যায়, মেয়েটি আতঙ্কে মায়ের কোলে মাথা লুকিয়ে বসে আছে। কাছে গেলে মেয়েটি ভয়ে মাকে আরো জোরে চেপে ধরে। তাকে জিজ্ঞেস করলে সে জানায়, তার প্রচণ্ড ব্যথা হচ্ছে। এ সময় শিশুটির সঙ্গে থাকা আত্মীয়রা কান্না করছিলেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কামরুলের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে প্রতিবেশীরা জানান, ঘটনার পর পরিবারের লোকজন গা ঢাকা দিয়েছে। নান্দাইল মডেল থানার ওসি মো. আতাউর রহমান বলেন, ‘শনিবার শিশুটিকে নান্দাইল হাসপাতালে দেখেছি। মামলার প্রস্তুতি চলছে। ’


মন্তব্য