kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ জানুয়ারি ২০১৭ । ১১ মাঘ ১৪২৩। ২৫ রবিউস সানি ১৪৩৮।


প্রচারে হেলিকপ্টার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

২৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



প্রচারে হেলিকপ্টার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিটঘর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে প্রচারণায় গতকাল রবিবার হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়েছে। এতে নির্বাচনী আচরণবিধি ভাঙলেও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

গতকাল সকাল পৌনে ১১টায় বিটঘর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মোরগ প্রতীকের সদস্য পদপ্রার্থীর পক্ষে মিছিল হচ্ছে। অনতিদূরে কয়েকটি শিশুকে দেখা গেল, ধানগাছ নিয়ে হেঁটে চলছে। তাদের একজন ভদ্রগাছা গ্রামের তানজিল জানায়, কেউ একজন হেলিকপ্টারে চড়ে আসবে বলে সবাই একসঙ্গে যাচ্ছে।

বাজারের পাশে মাঠে গিয়ে কথা হয় বেশ কয়েকজন গ্রামবাসীর সঙ্গে। তারা জানায়, বিএনপির চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এনামুল করিম কাজলের পক্ষে প্রচারণা চালাতে আসছেন গ্রামের ধনাঢ্য ব্যক্তি। কথা হলে সত্যতা স্বীকার করেন এনামুল করিম কাজল। সকাল সাড়ে ১১টায় হেলিকপ্টার থেকে যে তিনজন নামেন এর মধ্যে একজন কে এম শফিকুল আলম। দুবাইপ্রবাসী এই ব্যক্তি গ্রামে দানবীর হিসেবে পরিচিত। তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে মাঠে হাজারখানেক মানুষের জটলা লেগেছে। তিনি হেলিকপ্টার থেকে নামতেই বাজনার তালে তালে ধানের শীষের স্লোগান দিতে দিতে চলে জনতা। তখন এ শোডাউনের সামনে ছিলেন শফিকুল আলম ও প্রার্থী এনামুল।

নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, হেলিকপ্টারে কেউ আসা কিংবা এমন শোডাউন করতে পারেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে এনামুল করিম পরে জানাবেন বলে মোবাইল ফোনের সংযোগ কেটে দেন। কিছু সময় পর কল করলে এ প্রতিবেদককে ঘুষের প্রস্তাব দেন। পরে আবার কল করা হলে তিনি বলেন, ‘উনি (শফিকুল আলম) তো মাঝে মাঝে এমনিতেই গ্রামের বাড়িতে আসেন। ’ এ বিষয়ে নবীনগর থানার ওসি মো. ইমতিয়াজ আহম্মেদ বলেন, ‘হেলিকপ্টারে করে কেউ আসার বিষয়ে আমাদের জানা নেই। ’ শোডাউন করা নিয়ে বলেন, ‘এ বিষয়ে ইচ্ছা করলে অন্য প্রার্থী অভিযোগ দিতে পারে। ’

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন আল মামুন বলেন, ‘হেলিকপ্টারে করে কেউ এসে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে আমার জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। ’

বিদ্রোহে কাবু আ. লীগ : নবীনগর উপজেলার ১১টি ইউপিতে আগামী বৃহস্পতিবার ভোট। এ কারণে শেষ মুহূর্তের আলোচনায় মশগুল সবাই। প্রার্থীরা দিনরাত ছুটে চলছেন ভোটারদের বাড়ি বাড়ি। পাঁচটিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় নির্বাচন বেশ জমে উঠেছে বলে অনেকে মন্তব্য করেন। বিদ্রোহীরা দলীয় প্রার্থীর মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন বলে বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতাকর্মী ও প্রার্থীরা জানিয়েছেন।

গতকাল সকাল ১০টার দিকে কাইতলা বাজারের পাশে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর ক্যাম্পে কয়েকজনকে নির্বাচনী আলোচনা করতে দেখা যায়। উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আব্দুল কাইয়ুম, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া, আওয়ামী লীগ নেতা কাজী ফেরদৌসসহ অন্যদের আলাপচারিতার সারমর্ম হচ্ছে, এখানে বিদ্রোহীকে নিয়ে ভয় আছে। দুপুর ১টায় কাইতলা বাজারে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ছৈয়দ খালেদ আশিষ সংবাদ সম্মেলন করেন। নিজেকে খাঁটি আওয়ামী লীগার দাবি করে তিনি অভিযোগ করেন, এখানে যিনি মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি দলের সঙ্গে আদৌ সম্পৃক্ত নন। আগামী নির্বাচনে এখানকার মানুষ প্রমাণ করে দেবে—প্রতীক নয়, বঙ্গবন্ধুর আদর্শই বড়। তবে এ জন্য তিনি সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি দাবি করেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, বিটঘর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের রয়েছে বিদ্রোহী প্রার্থী। ওই ইউনিয়নে প্রার্থীরা হলেন আওয়ামী লীগের আবুল হোসেন, বিএনপির এনামুল করিম কাজল, স্বতন্ত্র প্রার্থী সুলতান আহম্মেদ, শরিয়ত উল্লাহ ও মাহবুবুল আলম। এদিকে বিদ্রোহ রয়েছে বীরাগাঁও ইউপিতেও। অবশ্য জামায়াত নেতা গোলাম আযমের ওই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. জহির রায়হানকে জেতাতে উঠেপড়ে লেগেছে নেতাকর্মীরা। তবে জহির রায়হান বলেন, ‘আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও তাঁর লোকজনের হয়রানির শিকার হচ্ছি আমি। ’

সার্বিক বিষয়ে নবীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডাভোকেট শিব শঙ্কর দাস বলেন, ‘দু-একটি ইউপিতে বিদ্রোহীদের নিয়ে আমরা বেশ বিপাকে আছি। তবে আমরা সমস্যা সমাধানে সিরিয়াসলি চেষ্টা করে যাচ্ছি। ’

 


মন্তব্য