kalerkantho

সোমবার । ১৬ জানুয়ারি ২০১৭ । ৩ মাঘ ১৪২৩। ১৭ রবিউস সানি ১৪৩৮।


মনোনয়ন-ক্ষোভ আওয়ামী লীগে

চকরিয়া

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি   

২৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



মনোনয়ন-ক্ষোভ আওয়ামী লীগে

কক্সবাজারের চকরিয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে তৃণমূলে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে ‘অনুপ্রবেশকারী’, এলাকায় ভাবমূর্তি (ইমেজ) নেই, অপরাধীদের সঙ্গে চলাফেরা করেন—এমন কয়েকজন নেতাকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়েই হতাশ, ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের আশঙ্কা, সময় থাকতে ওই প্রার্থীদের পরিবর্তন করা না হলে এর খেসারত দিতে হবে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের। আর বিজয় চলে যাবে অন্য দলের ঘরে।

আগামী ২৩ এপ্রিল তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচন। এর মধ্যে চকরিয়ার ১২টি ইউপিও রয়েছে। সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ড চকরিয়ার ১২ ইউপিতে দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে লক্ষ্যারচর ইউনিয়নে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খ ম আওরঙ্গজেব বুলেট, খুটাখালী ইউনিয়নে বাহাদুর হক ও সাহারবিল ইউনিয়নে মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহসিন বাবুল মনোনয়ন পেয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খুটাখালী ইউনিয়নে মনোনীত প্রার্থী বাহাদুর হক একজন ‘আপাদমস্তক বিএনপি নেতা’। ২০০৯ সালে বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। এর পর থেকে আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে থানায় দালালি, অন্যের জমি দখলসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন তিনি। কিন্তু এখানে মনোনয়ন পাননি একাধিকবার নির্বাচিত ইউপি সদস্য ও জনপ্রিয় আওয়ামী লীগ নেতা জয়নাল আবেদীন।

আওয়ামী লীগের স্থানীয় একাধিক নেতা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘খুটাখালী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, প্রার্থীর যোগ্যতা—কিছুই বিবেচনা করা হয়নি। যিনি বেশি টাকা দিতে পেরেছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড তাকেই মনোনয়ন দিয়েছে। ’

বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে বাহাদুর হক বলেন, ‘আমি একসময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম। তবে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দিই। আমি ব্যক্তিগতভাবে একজন ব্যবসায়ী। এলাকায় মসজিদ-মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনেক দান-খয়রাত করেছি। থানায় দালালি বা অন্যের জায়গা দখলের মতো কোনো ঘটনায় আমার সম্পৃক্ততা নেই। তবে থানার ওসি আমাকে দাওয়াত করায় প্রতিনিয়ত থানায় আমি যেতাম, এটা ঠিক। ’

লক্ষ্যারচর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান চকরিয়ার আলোচিত যুদ্ধাপরাধ মামলার বাদী মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত আনোয়ার হোসেন বাঙালীর ছেলে ও লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি রেজাউল করিম সেলিম, সাধারণ সম্পাদক খ ম আওরঙ্গজেব বুলেট ও ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সাইকুল আহমেদ চৌধুরী। এর মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগ কেন্দ্রের মনোনয়ন বোর্ডে নাম পাঠায় সেলিম ও সাইকুলের। কিন্তু বোর্ড মনোনয়ন দেয় আওরঙ্গজেবকে।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দাবি, লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন বিএনপি-জামায়াতের ঘাঁটি। এখানে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আওরঙ্গজেবের ইমেজ প্রশ্নবিদ্ধ। অপরাধের সঙ্গে জড়িত কিছু উচ্ছৃঙ্খল যুবক তাঁর সঙ্গে চলাফেরা করে। মনোনয়ন পাওয়ার পর মঙ্গলবার এলাকায় এসে একটি শোডাউনও করেন বুলেট। কিন্তু তাতে দলের বেশির ভাগ নেতাকর্মী, এলাকার প্রবীণ-মুরব্বি থেকে শুরু করে চেনা কোনো মানুষকে দেখা যায়নি।

তৃণমূল নেতাকর্মীরা বলে, জেলা আওয়ামী লীগের পাঠানো তালিকার কাউকে প্রার্থী না করায় এ ইউপিতে বিরোধী পক্ষের বিজয় নিশ্চিত হয়ে গেছে। কিন্তু এখনো সময় আছে প্রার্থী পরিবর্তন করার।

মঙ্গলবার শোডাউন শেষে দলীয় কার্যালয়ে অনুুষ্ঠিত সভায় আওরঙ্গজেব বলেন, ‘আমার চাইতে এলাকায় জনপ্রিয় রেজাউল করিম সেলিম। দল যদি তাকে (সেলিম) মনোনয়ন দিত আমিও তার পক্ষেই কাজ করতাম। এখন দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। তাই আমি আশা করছি মনোনয়নপ্রত্যাশী সকলেই আমার পক্ষে কাজ করবেন। ’

রেজাউল করিম সেলিম বলেন, ‘আমার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন বাঙালী সারা জীবন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। লক্ষ্যারচর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের অবস্থা ছিল একেবারেই করুণ। বাবা মারা যাওয়ার পর দলের হাল ধরেছি। নিজের অর্থায়নে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয় স্থাপন করেছি। প্রতিনিয়ত এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থেকে তৃণমূল পর্যায়ে আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করেছি। কিন্তু দল আমাকে মনোনয়ন দেয়নি। এতে এলাকার মানুষ হতাশ। তাই বুলেটের শোডাউনে এলাকার মানুষের তেমন উপস্থিতি দেখা যায়নি। ’

সাইকুল আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘এলাকার মানুষের প্রত্যাশা ছিল আওয়ামী লীগ থেকে আমাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে। কিন্তু এর ব্যতিক্রম হওয়ায় আওয়ামী লীগের হাতছাড়া হবে চেয়ারম্যান পদটি। ’

এদিকে সাহারবিল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মহসিন বাবুলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. ছরওয়ার আলম। তবে অন্যান্য ইউনিয়নে প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে তেমন কোনো সমস্যা পরিলক্ষিত হয়নি।


মন্তব্য