kalerkantho


স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান

তিতাস ভাণ্ডারিয়ায় বর্জনকরলেন মুক্তিযোদ্ধারা

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) ও আঞ্চলিক প্রতিনিধি, পিরোজপুর   

২৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি অসম্মান দেখানোর অভিযোগে কুমিল্লার তিতাসে স্বাধীনতা দিবসে প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের নেতারা। এ ছাড়া তাঁরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুকিমা বেগমকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।

জানা গেছে, অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে এক মিনিট নীরবতা পালন ও মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সংবর্ধনা না দেওয়ায় মুক্তিযোদ্ধারা অনুষ্ঠান বর্জন করেন। এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের নেতারাও অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে চলে যান। পরে ক্ষুব্ধ মুক্তিযোদ্ধারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রত্যাহার চেয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, স্বাধীনতাযুদ্ধে যাঁরা জীবন দিয়েছেন সেই শহীদদের আত্মার শান্তি জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়নি। এ কারণে তাঁরা অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন।

তিতাস উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. শওকত আলী বলেন, ‘আমরা ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি বলে আজ তিনি তিতাস উপজেলা নির্বাহী অফিসার হয়েছেন। মহান স্বাধীনতা দিবসে শহীদদের আত্মার শান্তি জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন না করে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা না দেওয়ায় মুক্তিযোদ্ধারা বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। তাঁরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুকিমা বেগমকে প্রত্যাহারের জন্য দুই দিনের আলটিমেটাম দিয়েছেন। ’

অভিযুক্ত তিতাস উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুকিমা বেগম বলেন, ‘প্রথম পর্বের অনুষ্ঠান শেষে দ্বিতীয় পর্বের অনুষ্ঠান যখন শুরু হয় তখন মুক্তিযোদ্ধারা হইহাল্লা শুরু করেন। শহীদদের আত্মার শান্তি জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করার মতো সময় তাঁরা আমাকে দেননি। তাঁদের সম্মাননা জানোনোর আগেই সবাই অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেছেন। ’

এদিকে স্বাধীনতা দিবসে ভাণ্ডারিয়ায় উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত কুচকাওয়াজ ও মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা। পরে ক্ষুব্ধ মুক্তিযোদ্ধারা আলাদা কর্মসূচি দিয়ে স্বাধীনতা দিবস পালন করেন।

এ ব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধাদের অভিযোগ, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম উজ্জ্বলের পরিবার মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতা করেছে। মুক্তিযুদ্ধে তাঁদের পরিবারের বিতর্কিত ভূমিকা রয়েছে। এ কারণে তাঁরা অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন।

উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম উজ্জ্বল বলেন, ‘ভাই, এটা উপজেলা প্রশাসনের অনুষ্ঠান। এ বিষয়ে ইউএনও সাহেবকে জিজ্ঞাসা করেন। ’


মন্তব্য