kalerkantho

25th march banner

দীঘিনালায় সংবাদ সম্মেলন

বসতভিটা ফেরত নয়, ২১ পরিবারের দাবি পুনর্বাসন

দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি   

২৬ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় বিজিবির সদর দপ্তর স্থাপনের ফলে উচ্ছেদ হওয়া দাবিদার পরিবারের লোকজন পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছে। প্রতিটি পরিবারের জন্য বাস উপযোগী বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়া এখন তাদের মূল দাবি। গতকাল শুক্রবার সকালে দীঘিনালা প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। এর মাধ্যমে বসতভিটা ফেরতের দাবি থেকে সরে এলো তারা।

২১ পরিবার থেকে ২৫ জন নারী-পুরুষ আসে সম্মেলনে। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মূল বসতভিটায় ফিরে যাওয়ার একক দাবি থেকে তারা সরে এসেছে। তারা চায়, সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা হোক। প্রতিটি পরিবারকে জমি দিয়ে পাকঘর (রান্নাঘর), টয়লেট, টিউবওয়েলসহ বসতবাড়ি নির্মাণ করে দেওয়া হোক। সেই সঙ্গে বিজিবির করা মামলা প্রত্যাহারসহ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে ২১ পরিবারের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কিরণ চাকমা। বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন পাড়াপ্রধান নতুন চন্দ্র কার্বারী, দেবতরু চাকমা, গোপা চাকমা ও সুদর্শনা চাকমা।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধূরী জানান, বিষয়টি নিয়ে আলোচনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। স্বাধীনতা দিবসের পর আলোচনা করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ভারতের সঙ্গে অরক্ষিত সীমান্ত সুরক্ষায় বাবুছড়ায়  ৫১ বিজিবির সদর দপ্তর স্থাপনের জন্য ৪৫ একর জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয় ১৯৯৫ সালে। সব আইনি প্রক্রিয়া, যাচাই-বাছাই শেষে অধিগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয় ২০০৫ সালে। কিন্তু নিজেদের বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ হতে হবে—এমন আশঙ্কায় স্থানীয় পাহাড়িরা বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতে একটি রিট পিটিশন করে। পিটিশনে উল্লিখিত জায়গা বাদ দিয়ে জেলা প্রশাসক ২০১৪ সালের ১৪ মে বিজিবিকে ২৯ দশমিক ৮১ একর ভূমি কাগজপত্রসহ হস্তান্তর করে। পরদিন থেকে স্থাপনা নির্মাণকাজ শুরু করে ৫১ বিজিবি। একই বছরের ২২ মে ৫১ বিজিবির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আনুষ্ঠানিকভাবে বাবুছড়াতেই পালন করা হয়। এর পর থেকে ভূমি নিয়ে বিজিবির সঙ্গে স্থানীয় পাহাড়িদের বিরোধ প্রকাশ্য রূপ নেয়। তখন থেকেই বিজিবির স্থাপনা নির্মাণ বন্ধের দাবিতে দীঘিনালা ভূমি রক্ষা কমিটির ব্যানারে মানববন্ধন, স্মারকলিপি দেওয়াসহ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছিল।

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ২১ পরিবার নয়, অধিগ্রহণ করা জায়গার মধ্যে চার পরিবারের বসবাস ছিল। তাদের ক্ষতিপূরণের টাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমা রয়েছে। সেই টাকা নেওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হলেও তারা নেয়নি। তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, ২১ পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল।


মন্তব্য