kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আশাশুনিতে সংখ্যালঘু নির্যাতন ভাঙচুর লুটের অভিযোগ

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি   

২৬ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলা চেয়ারম্যান, আওয়ামী লীগ নেতা এ বি এম মোস্তাকিমকে দল থেকে বহিষ্কার ও সংখ্যালঘু নির্যাতনকারীদের গ্রেপ্তার দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে উপজেলার ঠাকুরাবাদ, গাইয়াখালী, হাঁসখালী ও বলাবাড়িয়া গ্রামের হিন্দুরা এ কর্মসূচি পালন করে।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে উপজেলা চেয়ারম্যান সমর্থিত প্রার্থীকে ভোট না দিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার অভিযোগে গত তিন দিন ওই চার গ্রামের হিন্দুদের মারধর, বাড়িঘর ভাঙচুর ও মালামাল লুট করা হয়।

মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এলাবাবাসীর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পিন্টু লাল মণ্ডল। বক্তব্যে বলা হয়, “সদ্য সমাপ্ত প্রথম পর্বের ইউপি নির্বাচনে উপজেলা চেয়ারম্যান এ বি এম মোস্তাকিম দলের (আওয়ামী লীগের) বিদ্রোহী প্রার্থী সেলিম রেজা মিলনকে (চশমা প্রতীক) সমর্থন করেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে তিনি সেলিমকে জয়ী করতে প্রচার-প্রচারণাও চালান। ভোটের আগে চশমা মার্কার লোকজন পাড়ায় পাড়ায় মিছিল করে স্লোগান দেয়, ‘উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তাকিমের মার্কা, চশমা মার্কা’। এমনকি ভোটের আগের দিন আমাদের হুমকি দেওয়া হয়েছিল, যাঁরা চশমা মার্কায় ভোট দেবেন না তাঁদের খুঁজে খুঁজে এলাকা ছাড়া করা হবে। ”

বক্তব্যে আরো বলা হয়, ‘সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কার প্রার্থী ছিলেন মহিদুল ইসলাম পিন্টু। তিনি উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরোধিতার কারণে ফেল করেছেন। আমরা যারা নৌকার পক্ষে কাজ করেছি, ভোটের পর থেকে তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করে লুটপাট করা হচ্ছে। গত তিন দিন ধরে এ অবস্থা চলছে। রাস্তাঘাটে দেখামাত্রই মারধর, মহিলা ও শিশুদের লাঞ্ছিত ও জোরপূর্বক ঘেরের মাছ লুট করে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার উপজেলা চেয়ারম্যানের লোকদের হুমকিতে বলাবাড়িয়া গ্রামের ডা. সুশীল চন্দ্র মণ্ডল ভারতে চলে গেছেন। ’

সংবাদ সম্মেলনে হামলা-নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের জন্য প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্টমন্ত্রী ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। এ বি এম মোস্তাকিমকে আশাশুনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ থেকে বহিষ্কারের দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে চার গ্রামের কয়েক শ নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিল। গ্রামবাসী জানায়, এ বি এম মোস্তাকিমের নির্দেশে ও নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান সেলিম রেজা মিলনের নেতৃত্বে মঙ্গল চন্দ্র মণ্ডল, সমরেশ সানা, রবীন্দ্রনাথ সানা, জনার্দন সানা, কার্তিক সরদার, এ বি এম মোস্তাকিমের ঘেরের কর্মচারী মনিরুল, আছাদুল, সুকৃতি সানা, প্রিয়ব্রত সরদার, বিশ্বজিৎ সানা, সঞ্জয় মণ্ডল, তারক চন্দ্র মণ্ডল, সঞ্জিত সানাসহ ৪০-৫০ জন দেখামাত্রই গ্রামবাসীর ওপর হামলা করছে। বাড়িঘর ভেঙে চুরমার করছে।


মন্তব্য