kalerkantho


মন্ত্রী ১১, আ. লীগ ২

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

২৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



মন্ত্রী ১১, আ. লীগ ২

নিয়ম অনুসারে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মতামত কিংবা সরাসরি ভোটে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী বাছাই করার কথা। এ থেকে কেন্দ্র প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করবে।

কিন্তু এ প্রক্রিয়ায় যাননি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী অ্যাডভোকেট ছায়েদুল হক। নিজ এলাকার (নাসিরনগরের) আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাদের ডেকে এনে তাঁদের মতামত নিয়ে দলের প্রার্থী বাছাই করে ১৩ জনের তালিকা কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেন।

জেলা আওয়ামী লীগও নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেনি। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের ডাকা হলে তাঁরা জেলার নেতাদের আহ্বানে সাড়া দেননি। জেলা আওয়ামী লীগ নাসিরনগরের ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে পাঁচটিতে নতুন নাম দিয়ে কেন্দ্রে তালিকা পাঠায়। মন্ত্রীর পাঠানো তালিকা থেকে ১১ জন ও জেলা আওয়ামী লীগের তালিকা থেকে দুজন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলের প্রার্থী মনোনয়ন পেয়েছেন। নানা নাটকীয়তার পর গত বুধবার এ মনোনয়ন দ্বন্দ্বের অবসান হয়। জেলা আওয়ামী লীগের সূত্র ১৩ ইউনিয়ন পরিষদে মনোনয়নপ্রাপ্তদের নাম নিশ্চিত করেছে। কেন্দ্রের মনোনয়নের পর মন্ত্রী না জেলা আওয়ামী লীগ জিতল, তা নিয়ে আছে ব্যাপক আলোচনা।

তৃতীয় দফায় নাসিরনগরের ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।

মন্ত্রীর তালিকা থেকে মনোনয়নপ্রাপ্তরা হলেন চাতলপাড়ে শেখ আব্দুল আহাদ, ভলাকুটে এস এম বাকি বিল্লাহ, গোয়ালনগরে মো. কিরণ মিয়া, কুন্ডায় ওয়াছ আলী, নাসিরনগর সদরে মো. আবু হাসেম, বুড়িশ্বরে এ টি এম মোজাম্মেল হক সরকার, ফান্দাউকে ফারুকুজ্জামান ফারুক, চাপরতলায় আব্দুল হামিদ, গোকর্ণে মো. হাসান খান, ধরমণ্ডলে মো. বাহার চৌধুরী ও পূর্বভাগে জানু মিয়া। জেলা আওয়ামী লীগের তালিকা থেকে মনোনয়নপ্রাপ্তরা হলেন গুনিয়াউকে গোলাম সামদানী ও হরিপুরে আতিকুর রহমান। মন্ত্রীর তালিকায় গুনিয়াউকে হুমায়ুন কবির দরবেশ ও হরিপুরে মো. ফারুক মিয়ার নাম ছিল।

নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের লক্ষ্যে এলাকায় আসেন নাসিরনগরের সংসদ সদস্য ছায়েদুল হক। সম্প্রতি তিনি দুই দিন আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে কথা বলে ১৩ ইউনিয়ন পরিষদের জন্য দলের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বাছাই করেন। বিষয়টি জানতে পেরে জেলা আওয়ামী লীগ কেন্দ্রে নালিশ করে। নালিশে বলা হয়, মন্ত্রী ছায়েদুল হকের বাছাই প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে। তিনি স্বজনদেরও মনোনয়ন দিয়েছেন। এ অবস্থায় মন্ত্রীর আটটি বাছাই ঠিক আছে ধরে নিয়ে বাকি পাঁচটিতে নতুন প্রার্থীর নাম পাঠায় জেলা আওয়ামী লীগ।

উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ‘এ নিয়ে কিছু বলতে গেলে মন্ত্রীকে ভুল বোঝানো হবে। যেহেতু মন্ত্রীর পাঠানো নামের তালিকা থেকে দুজন বাদ পড়ে গেছেন, সে কারণে বিষয়টি নিয়ে কিছু না বলাই ভালো মনে করি। ’

এ প্রসঙ্গে নাসিরনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. রাফিউদ্দিন গত বুধবার বিকেলে মোবাইল ফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মন্ত্রীকে নিয়ে করা চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নামের তালিকা আমরা কেন্দ্রে পাঠিয়ে দিয়েছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কী হয়েছে আমি জানি না। শরীর ভালো না থাকায় আমি খবর নিতে পারিনি। এ নিয়ে নানা কথা হচ্ছে। সঠিকভাবে না জেনে আমি কিছু বলতে পারব না। এ বিষয়ে আমি খোঁজ নেব। ’

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকার বলেন, ‘নাসিরনগরের মন্ত্রী নিয়ম না মেনেই কেন্দ্রে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নামের তালিকা পাঠিয়ে দেন। আমরা খোঁজ নিয়ে যেগুলোতে অনিয়ম হয়েছে জানতে পারি সেগুলোতে নতুন প্রার্থীর নাম পাঠাই। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ মন্ত্রীর দেওয়া তালিকা থেকে দুজনকে বাদ দিয়েছে। মনোনয়নের চিঠি বিলি করা হয়েছে। ’


মন্তব্য