kalerkantho

26th march banner

ওসির ঘুষের সাক্ষী আটক

কসবায় প্রতিবাদের মুখে ছাড়

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

২৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিউদ্দিনের ঘুষের সাক্ষীকে গত বুধবার গভীর রাতে আটক করে পুলিশ। পরে প্রতিবাদের মুখে আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

আটক ব্যক্তির নাম ফারুক মিয়া। তিনি কসবার বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা ও স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে কর্মরত।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত সোমবার বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. বাকিবুল ইসলাম পুলিশ সুপার বরাবর এক আবেদনে ওসির বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ আনেন। অভিযোগে উল্লেখ করেন, বিদেশে যাওয়াকে কেন্দ্র করে গত ১৮ মার্চ তাঁর চাচাতো ভাই ও চারগাছ এনআই ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আলমগীর কবিরকে আটকে রাখে এলাকার লোকজন। খবর পেয়ে পুলিশ আলমগীরকে থানায় নিয়ে আসে। পরে দুই দফায় ৫০ হাজার টাকা দিয়ে আলমগীরকে ছাড়িয়ে আনা হয়। ফারুক মিয়াসহ আরো কয়েকজনের সামনে ওসিকে ওই ঘুষের টাকা দেওয়া হয়।

এরপর গত বুধবার গভীর রাতে ফারুককে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে মানব পাচারের অভিযোগ আছে বলে উল্লেখ করা হয়। বিষয়টি জেনে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ফারুকের সহকর্মী ও এলাকার লোকজন থানায় আসে। পরে পুলিশ তাঁকে ছেড়ে দেয়।

ওসি মো. মহিউদ্দিন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘বিদেশে লোক নিয়ে চাকরি না দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে থানায় নিয়ে আসা একজনকে গত সোমবার স্বজনদের জিম্মায় ছাড়া হয়। গত বুধবার রাতে আরো একজনকে আটক করার পর অভিযোগকারীরা থানায় আসে। আগামী বুধবার এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে বৈঠক করে মীমাংসার স্বার্থে ফারুককে ছাড়া হয়। আলমগীর ও ফারুক মিলেই বিদেশে যাওয়ার টাকা নিয়েছে বলে আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ আছে। এখন তারা ওই টাকা দেওয়া থেকে বাঁচতে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। এলাকার চেয়ারম্যানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি ভালো বলতে পারবেন। ’

এ বিষয়ে মূলগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. মঈনুল ইসলাম বলেন, ‘মানিক বিদেশে থাকা অবস্থায় তাঁর ভাই আলমগীর এলাকার লোকজনকে বিদেশে নেওয়ার কথা বলে টাকা গ্রহণ করেন। তাঁর মাধ্যমেই সব কাজ হয়। কিন্তু তাঁদের মাধ্যমে যাওয়া লোকজন ঠিকভাবে কাজ ও বেতন পাচ্ছে না। অন্তত ১৫টি পরিবারকে নিঃস্ব করেছেন আলমগীর ও তাঁর ভাই। এ নিয়ে এলাকায় সালিস ডাকা হয়েছে। তবে আলমগীরকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য ওসি টাকা নিয়েছেন কি না তা আমার জানা নেই। ’


মন্তব্য