kalerkantho

শুক্রবার । ২০ জানুয়ারি ২০১৭ । ৭ মাঘ ১৪২৩। ২১ রবিউস সানি ১৪৩৮।

ভোটের কথা বলতে ভয়

জামালপুর প্রতিনিধি   

২৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ভোটের কথা বলতে ভয়

নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে আওয়ামী লীগকর্মীরা। একের পর এক ঘটছে হামলা-সংঘর্ষ-মারধরের ঘটনা। ভোট কেড়ে নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে কোথাও কোথাও। ফলে নেতাকর্মী ও ভোটাররা আতঙ্কিত। এই অভিযোগ জামালপুরের মেলান্দহের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী ও তাঁর কর্মী-সমর্থকদের। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, নির্বাচনে পরাজয়ের ভয়েই এমন মিথ্যা অভিযোগ করছে প্রতিপক্ষ। একটি ইউনিয়নে মারধর ও পোস্টারে আগুন দেওয়ার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন স্বতন্ত্র ও আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। গত বুধবার সরেজমিনে গিয়ে মেলান্দহের চারটি ইউনিয়নে এ ছবি পাওয়া গেছে। দ্বিতীয় ধাপে আগামী ৩১ মার্চ জামালপুর সদর উপজেলার ১৫টি ও মেলান্দহের ১১টি ইউপিতে নির্বাচন হবে।

গত বুধবার দুপুরে মাহমুদপুর ইউনিয়নের বীর নলছিয়া গ্রামের কৃষক হায়দার আলী অভিযোগ করেন, মাহমুদপুর ইউপিতে বিএনপির প্রার্থীর জন্য ভোট চাইতে গেলে নৌকার কর্মীরা গণ্ডগোল করে। তাই তাঁদের গ্রামের মানুষ ভোটের কথা বলতে সাহস পাচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ভোট কাইড়া নিবে বলে হুমকি দিছে। ’ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ডরের চোটে আমরা কেউ ভোটের কথা বলতে পারি না। কারো কাছে ভোট চাইতে পারি না। ’ বাক্কা মোল্লা (৬০) বলেন, ‘আমাদের এলাকার অর্ধেকের বেশি ভোটার এবারও নৌকায় ভোট দিব। নৌকার প্রার্থী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এর আগে ৯ বছর চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি মানুষের অনেক উপকার করেন। তাই তিনি এবারও চেয়ারম্যান হইবেন। ’

খাসিমারা একতা বাজার মোড়ে বসে গল্প করছিলেন খসিমারা গ্রামের ফজলু মণ্ডল, জিন্নাহ, সুলতান, সাইফুল ইসলামসহ কয়েকজন। নির্বাচনের খবর জানতে চাইলে তাঁরা সমস্বরে বলে ওঠেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে বিএনপির প্রার্থী নূরে আলম তালুকদার রুনু ‘পার’ হবেন। নলছিয়া চরখাবুলিয়া গ্রামের অবিরন বেগম ও মর্জিনা খাতুন বলেন, যেভাবে গণ্ডগোলের কথা শুনছেন, তাতে নির্বাচনের দিন কেন্দ্রে যেতে পারবেন কি না, তা-ই ভাবছেন তাঁরা। নূরে আলম তালুকদার রুনু বলেন, শনিবার দুপুরে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কর্মীরা মাহমুদপুর বাজারে বিএনপির অফিসে তাণ্ডব চালায়। বিএনপিকর্মীদের মারধরসহ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা বাধা দিচ্ছে। নির্বাচনের দিন ভোট-ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের হুমকি দেওয়ায় ভোটাররা আতঙ্কিত। তবে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, মাহমুদপুর ইউনিয়ন নৌকার ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তাই অধিকাংশ ভোটার নৌকার পক্ষে। নির্বাচনী প্রচারে সুষ্ঠু, সুন্দর ও স্বাভাবিক পরিবেশ রয়েছে। তিনি জানান, এ ইউনিয়নে বিএনপি দুই ভাগে বিভক্ত। এ কারণে বিএনপির প্রার্থী ও তাঁর সমর্থকরা নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে।

নাংলা ইউপিতে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী শেখ মো. জাকির হোসেন অভিযোগ করেন, গণসংযোগ চলাকালে গত শনিবার তাঁকে এবং তাঁর কর্মী সরবেশ ও কবিরুলকে মারধর করে আহত করেছে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা। তারা নির্বাচনের দিন ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের হুমকি দেওয়ায় ভোটাররা আতঙ্কিত। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী মাহফুজুল হক মাফল বলেন, শনিবার সকালে জাকির হোসেন ও তাঁর সমর্থকরা আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পোস্টার ছিঁড়ে আগুনে পুড়িয়ে দেয়। মাফলের মাইক কেড়ে নিয়ে প্রচারকারীকে মারধর করায় সাধারণ কর্মীদের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কিছুটা হাতাহাতি হয়েছে। এসব ঘটনায় জাকির হোসেন ও নাংলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ রিটার্নিং অফিসারের কাছে এবং মেলান্দহ থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন।

শ্যামপুর ইউনিয়নের আমডাঙ্গা গ্রামে শুক্রবার রাতে আওয়ামী লীগকর্মীদের সঙ্গে বিএনপিকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী সিরাতুজ্জামান সুরুজ বলেন, বিএনপিকর্মীরা হামলা চালিয়ে তাঁর তিন কর্মীকে আহত করায় তিনি মামলা করেছেন। বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল হোসেন বাদলের অভিযোগ, আওয়ামী লীগকর্মীদের বাধায় তিনি নির্বাচনী প্রচার চালাতে পারছেন না। মেলান্দহ থানার ওসি নাসিমুল ইসলাম জানান, ইউপি নির্বাচন ঘিরে মাহমুদপুর, শ্যামপুর ও নাংলা ইউনিয়নে তিনটি সংঘর্ষের ঘটনা তিনি শুনেছেন। মাহমুদপুরে দুই পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছেছে। শ্যামপুরের ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। তবে নির্বাচনী সহিংসতা রোধে মেলান্দহের সব কটি ইউনিয়নে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।

দুরমুঠ ইউনিয়নে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী সৈয়দ রাশেদুজ্জামান অপু বলেন, তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কর্মীরা দফায় দফায় বাধা দিচ্ছে। বিএনপি অফিস থেকে তাঁর সমর্থক হাবিবকে ধরে নিয়ে মারধর শেষে পুলিশের হাতে তুলে দিয়ে মিথ্যা মামলায় জেলহাজতে পাঠিয়েছে। অপুর অভিযোগ, আওয়ামী লীগের সমর্থকরা বিএনপিকর্মীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো এবং নির্বাচনের দিন ব্যালট পেপার কেড়ে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। তবে দুরমুঠ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা সেলিম বলেন, বিএনপির প্রার্থী নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কায় আওয়ামী লীগের ‘জনপ্রিয়’ চেয়ারম্যান প্রার্থী সৈয়দ খালেদুজ্জামান জুবেরী ও তাঁর কর্মীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।


মন্তব্য