kalerkantho


পাঁচ প্রার্থীর যত অভিযোগ

নীলফামারী প্রতিনিধি   

২৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



পাঁচ প্রার্থীর যত অভিযোগ

দ্বিতীয় ধাপে নীলফামারী জেলা সদরের পাঁচটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচন আগামী ৩১ মার্চ। এবার পলাশবাড়ী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পাঁচজন প্রার্থী। গত বুধবার সরেজমিনে ওই ইউনিয়নে গেলে প্রার্থীরা একে অন্যের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করেন। বেশি অভিযোগ পাওয়া গেছে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে। তবে এসব অস্বীকার করে তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন, বিএনপি-জামায়াতের লোকজন অপপ্রচার চালাচ্ছে।

ওই ইউনিয়নের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ আলী প্রামাণিক (নৌকা), ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জগদীশ চন্দ্র রায় (ধানের শীষ), ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির (জাপা) সভাপতি চঞ্চল চ্যাটার্জী (লাঙ্গল), জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান তপন কুমার রায় (হাতুড়ি) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইব্রাহিম তালুকদার (আনারস)।

জাপা প্রার্থী চঞ্চল অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ প্রার্থী নিজেকে সরকারদলীয় লোক পরিচয় দিয়ে বলছেন, ‘আমাকে ভোট দিলে সরকার এই ইউনিয়নের অনেক উন্নয়ন করবে। তিনি সরকারের লোক হলে, আমরা কার লোক?’ এ প্রতিবেদককে পাল্টা প্রশ্ন করেন জাপা প্রার্থী।

ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান তপন কুমার অভিযোগ করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ পদপ্রার্থী নানা মিথ্যাচার করে বেড়াচ্ছেন। আমার সময়ে বরাদ্দ হওয়া রাস্তা তিনি তাঁর সময়কার বলে অপপ্রচার করছেন। ’ অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইব্রাহিম অভিযোগ করেন, ‘আওয়ামী লীগ প্রার্থীর ছেলে ও ছেলের বন্ধু-বান্ধবদের দিয়ে ভোটারদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। ’

তবে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মমতাজ আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এসব কথা বিএনপি-জামায়াতের লোকজন ছড়াচ্ছে। তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন, জগদীশ চন্দ্র রায় ও তাঁর কর্মীরা ভোটারদের নানা ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। ধানের শীষে ভোট না দিলে ভোটের পর বিগত সহিংসতার দিনগুলো আবারও ফিরে আসবে বলে তারা হুমকি দিচ্ছে।

বিএনপি প্রার্থী জগদীশ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ প্রার্থীর লোকজন বলে বেড়াচ্ছে আমাদের সরকার আছে, মন্ত্রী আছে, আমাদের পক্ষে প্রশাসন আছে, একটা ভোট পেলেও আমরা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হব। আওয়ামী লীগ প্রার্থী নিজে এবং তাঁর লোকজন আমার কর্মী-সমর্থকদের মামলার ভয় দেখাচ্ছে, ভোটারদের মধ্যেও ভয়ভীতি ছড়াচ্ছে। ’

এ বিষয়ে পলাশবাড়ি ইউপি নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার (উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা) আব্দুল ওয়াহেদ মণ্ডল বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ওই ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রার্থী ও তাঁর কর্মী-সমর্থকরা তাঁদের কাছে আসছে, ভোট চাইছে। তাঁরাও (ভোটার) তাঁদের কথা শুনছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁরা পছন্দের প্রার্থীকেই বেছে নেবেন।


মন্তব্য