kalerkantho


অবশেষে ধরা ‘মিটার চোরা’

জয়পুরহাট প্রতিনিধি   

২৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



জয়পুরহাটের কালাইয়ে গভীর নলকূপের (মোটর) বৈদ্যুতিক মিটার চুরির ‘মূল হোতাকে’ গত মঙ্গলবার রাতে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে মিটার, চাঁদা দাবি করা বিকাশ নম্বরসহ সিম কার্ড, মোবাইল ফোনসেটসহ মিটার চুরিতে ব্যবহৃত সরঞ্জাম ও ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

এ সময় ভুয়া ঠিকানায় বিকাশ অ্যাকাউন্ট খুলে চাঁদাবাজিতে সহযোগিতার অভিযোগে ক্ষেতলাল উপজেলার ইটাখোলা বাজারের শহিদুল ইসলাম নামের এক মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

বৈদ্যুতিক মিটার চুরির অভিযোগে আটক হাফিজার রহমান ওরফে লিটনের বাড়ি কালাই উপজেলার পশ্চিম কুজাইল গ্রামে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, কালাই, ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর উপজেলায় গত বোরো মৌসুম থেকে গভীর নলকূপের বৈদ্যুতিক মিটার চুরির ঘটনা ঘটে। চলতি বোরো মৌসুমে এটি বেড়ে যায়। মিটার চুরির পর মোবাইল ফোনে খুদে বার্তা (এসএমএস) পাঠিয়ে বিকাশ নম্বরে চাঁদা দাবি করা হয় তিন থেকে দশ হাজার টাকা। বিদ্যুৎ অফিস থেকে নতুন মিটার সংগ্রহ করতে সংযোগ ফিসহ প্রায় ২১ হাজার টাকা লাগে। তাই ঝামেলা এড়াতে বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠিয়ে চুরি করা মিটার ফেরত নেন সেচপাম্প (মোটর) মালিকরা। এভাবে বছরে তিনবার চাঁদা দিয়ে ফসলের মাঠে সেচকাজ করে আসছেন সেচপাম্প মালিক ও কৃষকরা। চলতি মৌসুমে তিন উপজেলার বিভিন্ন মাঠ থেকে শতাধিক গভীর নলকূপের মিটার চুরির মাধ্যমে চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেছে।

মিটার চুরির ঘটনা নিয়ে গত ১৩ মার্চ কালের কণ্ঠে ‘মিটার চোরা সাদ্দাম’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এরপর নড়েচড়ে বসে জেলার পুলিশ প্রশাসন। কালাই থানায় গত ৩ মার্চ মিটার চুরির অভিযোগে পশ্চিম কুজাইল গ্রামের আজিজুল হকের করা একটি মামলার সূত্র ধরে সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) অশোক কুমার পাল মাঠে নামেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ পশ্চিম কুজাইল গ্রামের হাফিজার রহমান লিটনকে মঙ্গলবার রাতে আটক করে। পরে সে মিটার চুরির কথা স্বীকার করে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী রাতে অভিযান চালিয়ে কালাই উপজেলার চকগাদুকা গ্রামের একটি পুকুর ও ক্ষেতলাল উপজেলার শাখারুঞ্জ চৌধুরীপাড়া গ্রামের রবিউল ইসলামের খড়ের পালা থেকে চুরি যাওয়া দুটি মিটার উদ্ধার করে পুলিশ।


মন্তব্য