kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ জানুয়ারি ২০১৭ । ১১ মাঘ ১৪২৩। ২৫ রবিউস সানি ১৪৩৮।


‘নৌকার লাইগা আইজ গুলি খাইয়া মরছে’

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, পিরোজপুর   

২৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



‘নৌকার লাইগা আইজ গুলি খাইয়া মরছে’

নৌকার জন্যই স্বামীর মৃত্যু। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে নিহত দিনমজুর বিল্লাল মোল্লার স্ত্রী সীমা আক্তার নৌকা প্রতীক সামনে রেখে গতকাল এভাবেই বিলাপ করছিলেন। ছবি : কালের কণ্ঠ

‘আমার দিনমজুর স্বামী নৌকার লাইগা আইজ গুলি খাইয়া মরছে। অহন আমি দুইডা পোলা লইয়া কেমনে বাঁচমু।

কে আমাগো দেখবে। আওয়ামী লীগ করতে যাইয়া সরকার হেরে কেন গুলি দিল? মোর স্বামীকে ফিরাইয়া দ্যান। ’

বিজিবি ও পুলিশের গুলিতে স্বামীকে হারিয়ে সীমা আক্তার (২০) তাঁর দুই সন্তান নিয়ে এভাবেই বিলাপ করছেন। এ সময় পাড়া-প্রতিবেশীদের সান্ত্বনাও তাঁর কান্না থামাতে পারছে না। দরিদ্র গৃহবধূ তাঁর স্বামীর লাশের জন্য অপেক্ষা করছেন।  

এলাকাবাসী জানায়, গত মঙ্গলবার ইউপি নির্বাচনে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার ধানীসাফা ইউনিয়নের সাফা ডিগ্রি কলেজ ভোটকেন্দ্রে হট্টগোলের মধ্যে ফলাফল ঘোষণার সময় বিজিবি ও পুলিশের গুলিতে নিহত হন বুড়িরচর গ্রামের দিনমজুর বিল্লাল মোল্লা (৩৫)। বিল্লাল ওই গ্রামের মৃত গাফ্ফার মোল্লার ছোট ছেলে। মঙ্গলবার দুপুরে ডাল-ভাত খেয়েই ভোট দিতে বের হয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সমর্থক বিল্লাল। পরে রাতে ওই ভোটকেন্দ্রে ভোটের ফলাফল ঘোষণার সময় বিজিবি-পুলিশ গুলি চালালে তিনি নিহত হন। লাশ উদ্ধার করে বুধবার ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর জেলা মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

নিহত বিলালের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, বাড়ির উঠানে তাঁর শোকার্ত স্ত্রী সীমা আক্তার দুই ছেলে সিফাত (৫) ও রিফাতকে (২) নিয়ে অবিরত কাঁদছেন। তাঁর অবুঝ দুই সন্তানও মায়ের কান্না দেখে কাঁদছে। অবুঝ শিশু দুটি বুঝতেই পারছে না তাদের বাবা আর কোনো দিন তাদেরকে কোলে তুলে আদর করবেন না।

পাড়া-প্রতিবেশীরাও কাঁদছে দিনমজুর বিলালের জন্য। শোকার্ত গৃহবধূ সীমাকে দিচ্ছেন সান্ত্বনা। কিন্তু কিছুতেই বিলাপ থামছে না সীমার।

এ বিষয়ে বিল্লালের বড় ভাই মো. আবুল কালাম বলেন, ‘একদিন কাজ না করলে যার পরিবারের পেটে ভাত পড়ে না, সেই উপার্জনের ভাই আজ গুলি খাইয়া মরল। এইটা কেমন বিচার। নৌকার প্রতি সমর্থন না দিলে আমার ভাই আইজ গুলি খাইয়া মরত না। বিজিবি আর পুলিশ আমার ভাইরে মারছে। এই হত্যার বিচার চাই। শেখ হাসিনার কাছে বিচার চাই। এখন ভাইয়ের স্ত্রী ও দুই সন্তান কিভাবে বাঁচবে। দুই শিশুর লেখাপড়াই বা কিভাবে হইব। ’

নিহতের বোন কোহিনূর বেগম বলেন, ‘আইজ নৌকা মার্কা করতে যাইয়া ভাই প্রাণ দিছে। ভাইকে আর ফিইরা পামু না। ভাই হত্যার বিচার চাই। আপনারা এই জীবনের বিহিত করেন। ’


মন্তব্য