kalerkantho


এক ভোটও পায়নি নৌকা!

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

২৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



এক ভোটও পায়নি নৌকা!

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে গত মঙ্গলবার। অধিকাংশ ইউপিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা জয়লাভ করলেও পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার একটি কেন্দ্রে নৌকার পক্ষে একটি সিলও পড়েনি।

বিস্ময়কর ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের নারায়ণগছ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে।

জানা যায়, বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ছিলেন ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি বাদশা সুলায়মান। ওই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের একমাত্র কেন্দ্র ছিল নারায়ণগছ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ কেন্দ্রে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী তারেক হোসেন (চশমা প্রতীক) ৩৬৫ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুজ্জামান কামু (মোটরসাইকেল প্রতীক) ৭১ ভোট এবং বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কলিম উদ্দিন (ধানের শীষ প্রতীক) ৫৮ ভোট পান। কিন্তু বাদশা সুলায়মানের নৌকা প্রতীকে একটিও ভোট পড়েনি। সর্বশেষ ফলাফলে তারেক দুই হাজার ৭৭৬ ভোটে জয়ী হন। কামরুজ্জামান দুই হাজার ৭১০ ভোটে দ্বিতীয়, কলিম ৭০৩ ভোট পেয়ে তৃতীয় এবং বাদশা মাত্র ৯৯ ভোট পেয়ে চতুর্থ হন।

আরো জানা যায়, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কমিটি রয়েছে। প্রতিটি কমিটিতে ৫০ জনের বেশি সদস্য রয়েছে।

কেন্দ্রের দুজন পোলিং এজেন্ট ছিলেন আওয়ামী লীগের সমর্থক। এ ছাড়া একই ওয়ার্ডের বাসিন্দা মহাজোটভুক্ত জাসদের ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি আব্দুল গণিও ওই কেন্দ্রের ভোটার। কেবল টাকার জোরেই বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী তারেক হোসেন সবাইকে পেছনে ফেলে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন বলে এলাকায় প্রচারণা রয়েছে।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী বাদশা সুলায়মান অভিযোগ করেন, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী তারেক হোসেনের টাকার কাছে সবাই বিক্রি হয়ে যায়। টাকার জন্য সবাই নৌকার সঙ্গে বেঈমানি করেছে। তিনি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে জেলা নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মকছেদ আলী এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) প্রার্থী হিসেবে তারেক হোসেনকে ভোট দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলাম। এ জন্য নিজের ভোটটিও তাঁকে দিতে পারিনি। ’ অন্য নেতাকর্মীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সবাই হয়তো তারেককে ভোট দিয়েছে। ’ 

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইয়াছিন আলী মণ্ডল বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে তারেক হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমি মানুষের বিপদাপদে পাশে ছিলাম। এ জন্য দল-মত-নির্বিশেষে ভোটাররা আমার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন। ’ টাকা দিয়ে প্রভাবিত করার অভিযোগটি সত্য নয় বলে তিনি দাবি করেন।


মন্তব্য