kalerkantho


বিএনপির ভোট বর্জনের পর ককটেলের গর্জন

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া   

২১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বিএনপির ভোট বর্জনের পর ককটেলের গর্জন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ কেন্দ্রের সামনে অর্ধশতাধিক ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। ছবি : কালের কণ্ঠ

দুপুর সোয়া ১২টায় বিএনপি মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী হাফিজুর রহমান মোল্লা মৌড়াইলের নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। দুপুর সাড়ে ১২টায় তিনি সংবাদ সম্মেলনস্থল ছেড়ে যেতেই বিকট শব্দে একের পর এক ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে।

বাইরে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। অর্ধশত ককটেলের বিস্ফোরণে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ কেন্দ্র ও আশপাশের এলাকা। বন্ধ থাকে ভোটগ্রহণ। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। দুপুর ২টার দিকে আবারও সেখানে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। বিকেল সোয়া ৩টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কেন্দ্রটিতে ভোটগ্রহণ শুরু হয়নি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গতকাল রবিবার আরো দুটি কেন্দ্রের পাশে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই দুটি কেন্দ্রেও কিছু সময়ের জন্য ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকে। এর বাইরে বিচ্ছিন্ন আরো দুই-একটি ঘটনা ঘটেছে ভোটগ্রহণ চলাকালে।

এসবের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী ছাড়াও চারজন কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, কোথাও কোথাও উৎসবের আমেজে ভোট চলছে। কোথাও আবার আতঙ্ক। তিনটি ভোটকেন্দ্রের পাশে ককটেলের বিস্ফোরণ, কয়েকটি কেন্দ্রে কাউন্সিলর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনায় ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়। যে কারণে সকালের দিকে ভোটার উপস্থিতি লক্ষণীয় হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটকেন্দ্রগুলো ফাঁকা হয়ে যায়। তবে যেসব কেন্দ্রে কোনো সমস্যা দেখা দেয়নি, সেগুলোতে দুপুর নাগাদ বিপুলসংখ্যক ভোটার উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। দুপুর ২টা নাগাদ সবকটি কেন্দ্রে গড়ে ৬০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। ভোটগ্রহণ চলাকালে কেন্দ্রে নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকার পাশাপাশি সড়কে ছিল র্যা ব, বিজিবি ও পুলিশের টহল।
বিএনপি মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী হাফিজুর রহমান মোল্লা ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জহিরুল হক খোকন অভিযোগ করেন, ভোটগ্রহণে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপি হয়েছে। তাঁদের এজেন্টদের বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। মাথায় লাল ফিতা বাঁধা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জোর করে কেন্দ্রে ঢুকে ব্যালটে সিল মেরেছে। আগের রাতেও ব্যালটে সিল মারা হয়েছে। নৌকা প্রতীকে সিল মারা ব্যালটের ছবিও তাঁদের কাছে রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে ওই দুই নেতা দাবি করেন।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকার কালের কণ্ঠকে বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া বিএনপির পুরনো অভ্যাস। বিএনপির লোকজন পুনিয়াউট কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করেছিল। কলেজ কেন্দ্রে ককটেল হামলার জন্য তিনি বিএনপিকেই দায়ী করে বলেন, নির্বাচন বানচাল করতেই তারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এদিকে সকাল পৌনে ১০টার দিকে কাউতলীর শহীদ লুত্ফুর রহমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে জানা যায়, কেন্দ্রটির পাশেই ককটেল হামলা হয়। যে কারণে সেখানে ভোটার উপস্থিতি কমে যায়। ওই সময় ভোটগ্রহণ সাময়িক বন্ধ রাখা হয় বলে জানান প্রিসাইডিং অফিসার মো. নাসির উদ্দিন। এর আগে সকালে ভোটগ্রহণ শুরুর পরপরই পুনিয়াউট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের পাশে ককটেল বিস্ফোরিত হলে সেখানে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।
দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ভাদুঘর পূর্ব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে নারী ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। একটি বুথে গিয়ে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থীর এজেন্ট মো. নাজমুল হাসান ও বিএনপি প্রার্থীর এজেন্ট মো. মুসলিম উদ্দিন একসঙ্গে বসে খাচ্ছেন। জানালেন, এখানে কোনো সমস্যা নেই। সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিচ্ছে। ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী মো. ইউসুফ ভূঁইয়ার এজেন্ট রায়হান আহমেদও জানান একই কথা। কেন্দ্রটিতে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার এসআই মো. নুরুল আমিন বলেন, সকাল সাড়ে ৭টা থেকেই এখানে ভোটাররা আসতে শুরু করে। সবাই লাইনে দাঁড়িয়ে সুশৃঙ্খলভাবে ভোট দিয়েছে।
কথা হয় ভাদুঘর দারুসসুন্নাহ কামিল (এমএ) মাদ্রাসা কেন্দ্রের ভোটার সোহরাব মোল্লার সঙ্গে। তিনি কেন্দ্রটিতে কোনো সমস্যা নেই বলে জানান।
এ প্রসঙ্গে রিটার্নিং অফিসার মো. বশিরুল হক ভূঞা বলেন, ‘সার্বিকভাবে নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ভোটগণনা চলছে। বিএনপি প্রার্থী ভোট বর্জন করেছেন বলে শুনেছি। কিন্তু ওনার পক্ষ থেকে বিষয়টি আমাকে জানানো হয়নি। ’

 


মন্তব্য