kalerkantho

বুধবার । ১৮ জানুয়ারি ২০১৭ । ৫ মাঘ ১৪২৩। ১৯ রবিউস সানি ১৪৩৮।


‘এদ্দিন পর ভোট বাহে!’

স্বপন চৌধুরী, রংপুর   

২১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



‘এদ্দিন পর ভোট বাহে!’

‘সারা জীবন তো মাইনষের কামই (কাজ) করি, তয় ভোটের দিনোত সউগ কাম বাদ দিচি। খুব সক্কালে আসি লাইনোত খারা হইচি। এদ্দিন পর ভোট আইচে বাহে! এতলা (এতগুলো) মানুষ দেকি আইজ ঈদের দিনের মতন নাগোচে। ’ উৎসবের আমেজে এমন অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন রংপুরের হারাগাছ পৌরসভার নির্বাচনে ভোট দিতে আসা বিড়ি শ্রমিক আমেনা খাতুন (৪৫)।

গতকাল রবিবার সকাল ৯টার দিকে চারুভদ্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। পৌর নির্বাচন ঘিরে গতকাল বিড়িশিল্প এলাকা বলে পরিচিত হারাগাছের কারখানাগুলো অঘোষিতভাবে বন্ধ ছিল। ২০টি ভোটকেন্দ্রে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই নির্বাচন হয়।

এ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী হাকিবুর রহমান মাস্টার (নৌকা), বিএনপির মোনায়েম হোসেন ফারুক (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জাহিদ হোসেন (হাতপাখা) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র সাদাকাত হোসেন ঝন্টু (মোবাইল) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এ ছাড়া সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৯টি ওয়ার্ডে ৩৮ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরের তিনটি ওয়ার্ডে ১৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

গতকাল নির্বাচনী এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ভোট ঘিরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে সর্বত্র। প্রার্থীদের টাকার অভাব নেই। কর্মী-সমর্থকরা দলীয় ও সাধারণ ভোটারদের আপ্যায়নে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতিটি কেন্দ্রের আশপাশে খাবারের দোকানের পসরা দেখে মনে হয়, যেন গ্রামীণ মেলা। দলীয় প্রতীকে মেয়র পদে প্রথম ভোট হওয়ার বিষয়টি সাদরে গ্রহণ করেছেন ভোটাররা। ভোট দেওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অনেকে জয় নিশ্চিত বলে পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে স্লোগান দেন।

দরদী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে কথা হয় কয়েকজন ভোটারের সঙ্গে। এ সময় আওয়ামী লীগ সমর্থক ভোটার গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘আগেকার দিনে মার্কার নাম গোপন রাখতে হতো। আর এখন আমি যে নৌকা মার্কায় ভোট দেব তা সবাই জানে। ’ বিএনপি সমর্থক ভোটার একরামুল হক ও জিয়াউল ইসলাম একই মনোভাব প্রকাশ করেন।

হারাগাছ ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় নারী ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। সকাল ৮টার আগে তাঁরা লাইনে দাঁড়িয়েছেন ভোট দেওয়ার জন্য। উপস্থিত ভোটাররা জানান, এর আগে কোনো নির্বাচনে এত ভোটার আসেনি। তবে এবার নারী ভোটারের উপস্থিতি বেশি বলে মনে হয়। এখানে ভোট দিতে আসা ওছমান আলী সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘আগে ভোটারদের নিয়ে টানাহ্যাঁচড়া হতো। এবার তা নেই। প্রার্থীরা ভোট চেয়েছেন, ভোটাররা কেন্দ্রে এসে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিচ্ছেন। কোথাও কোনো দাঙ্গা-হাঙ্গামা নেই। ’

নবীজননেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে কথা হয় নারী ভোটার বিড়ি শ্রমিক আয়শা বানু, বিলকিছ বেগম, শর্মিলা রায় ও হাছনা হেনার সঙ্গে। তাঁরা জানান, ভোটের দিনে তাঁরা কাজ বন্ধ রেখেছেন। আগের দিনই তাঁরা মহাজনের কাছে অনুমতি নিয়েছেন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাকিবুর রহমান মাস্টারের সঙ্গে কথা হয় হারাগাছ ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে। তিনি বলেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। ভোটারদের রায়েই এখানে মেয়র নির্বাচিত হবে। ’

স্বতন্ত্র প্রার্থী ও মেয়র সাদাকাত হোসেন ঝন্টু বলেন, ‘ভোটারদের উপস্থিতি আশাব্যঞ্জক। স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটাররা ভোট দিচ্ছেন। ’

তবে কারচুপির আশঙ্কা করেছেন বিএনপির প্রার্থী মোনায়েম হোসেন ফারুক। ভোটের আগের দিন বিএনপির ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেন তিনি।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জি এম সাহাতাব উদ্দিন বলেন, ‘নির্বাচনে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ ভোট পড়েছে। ’


মন্তব্য