kalerkantho


দুই কেন্দ্রে ভোট স্থগিত

সামসুল হাসান মীরন, নোয়াখালী   

২১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



দুই কেন্দ্রে ভোট স্থগিত

নোয়াখালীর কবিরহাট পৌরসভায় দুটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে একটি কেন্দ্রে উদ্দেশ্যমূলক কারণে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয় বলে অভিযোগ তুলেছেন আওয়ামী লীগদলীয় প্রার্থী।

আরেকটি কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার সময় হাতেনাতে ধরে ফেলে ভোটগ্রহণ স্থগিত করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। পাশাপাশি এ ঘটনায় দুজনকে সাজা দেওয়া হয়।

গতকাল সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি কেন্দ্রেই লম্বা লাইন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লাইন আরো দীর্ঘ হতে থাকে। এর আগে রাতে আকাশ কিছুটা মেঘলা থাকলেও আলো ঝলমলে ভোরে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ সূর্য মেঘের আড়ালে চলে যায়। পরে সকাল ১১টার দিকে অঝোর বর্ষণ শুরু হয়।

এ সময় কবিরহাট পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা নারী-পুরুষ বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে লাইন ছেড়ে দ্রুত কেন্দ্রের ভেতরে গিয়ে আশ্রয় নিতে শুরু করে। এ সময় কেন্দ্রের নিরাপত্তার কথা ভেবে তাদের ভেতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়।

পাশাপাশি ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার সামসুল ইসলাম চারটি বুথ থেকে ব্যালট বাক্স তাঁর কক্ষে নিয়ে আসেন। এ সময় তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন জানিয়ে বার্তা পাঠান পৌরসভার নির্বাচনের দায়িত্বরত রিটার্নিং অফিসারের কাছে। সঙ্গে সঙ্গে রিটার্নিং অফিসার মনির হোসেন দুই গাড়ি র‌্যাব নিয়ে এসে ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দিয়ে ভোট দিতে আসা নারী-পুরুষকে লাঠিপেটা শুরু করে। তখন ভোটকেন্দ্র জনশূন্য হয়ে পড়ে। পরে তিনি নির্বাচন কর্মকর্তাদের নিয়ে ব্যালটবাক্সসহ উপজেলা সদরে নিয়ে যান। আকস্মিক রিটার্নিং অফিসার ভোটগ্রহণ স্থগিত করায় ভোট দিতে না পারা লোকজন বিক্ষোভ করে প্রতিবাদ জানায়।

ভোট দিতে আসা শিক্ষক নুরুল আলম জানান, কী কারণে প্রিসাইডিং অফিসার ভোটগ্রহণ স্থগিত করলেন, তা তার বোধগম্য নয়। তিনি নিজেও র‌্যাবের হামলার শিকার হয়েছেন। সাধারণত ভোটে সহিংসতা ঘটলে অথবা ব্যালট বাক্স ছিনতাই হলে, জাল ভোট দিলে ভোট বন্ধ করার নিয়ম রয়েছে। এখানে সে ধরনের কোনো ঘটনা না ঘটলেও ভোট বন্ধ করে দেওয়া হলো।

সেখানে দায়িত্বরত ধানের শীষ প্রতীকের এজেন্ট আজাদ মিয়া জানান, অতি বৃষ্টির কারণে কিছু লোক ভেতরে ঢুকে পড়ায় প্রিসাইডিং অফিসার সব বাক্স নিয়ে যান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার সামসুল ইসলাম প্রথমে মুখ খুলতে না চাইলেও পরে জানান, অন্ধকার হয়ে আসার পর জাল ভোট দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ায় তিনি বিষয়টি রিটার্নিং অফিসারকে জানান। তারই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এসে ভোটগ্রহণ বন্ধ করেন। রিটার্নিং অফিসার মনির হোসেন জানান, প্রিসাইডিং অফিসার নিরাপত্তাহীনতায় ছিলেন। সেখানে হামলা ও জাল ভোট দেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। বিষয়টি জানতে পেরে তিনিসহ র‌্যাব গিয়ে বহিরাগতদের বের করে দিয়ে ভোট বন্ধ করে দেন।

এ ছাড়া দুপুর ২টার দিকে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আলীপুর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এক কাউন্সিলর প্রার্থীর দুই কর্মীকে ব্যালট পেপারে সিল দেওয়ার সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত হাতেনাতে ধরে ফেলে। ওই দুজনকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। পরে ওই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। এ ছাড়া অন্য কেন্দ্রগুলোয় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়।

এদিকে এ ঘটনায় নোয়াখালীর জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা কবিরহাট পৌর নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মনির হোসেনের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলক কারণে দুটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। সরকারদলীয় মেয়র প্রার্থী বর্তমান মেয়র জহিরুল হক রায়হান ওই অভিযোগ তোলেন। এ সময় তিনি স্থগিত হওয়া কেন্দ্র দুটির ফল ঘোষণারও দাবি জানান। বিকেলে কবিরহাট নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি বলেন, রিটার্নিং অফিসার ছাত্রজীবনে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের কর্মী ছিলেন। ওই দলের ভরাডুবি নিশ্চিত জেনে তিনি দুটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করেন। এ ঘটনা তদন্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।


মন্তব্য