kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ জানুয়ারি ২০১৭ । ৪ মাঘ ১৪২৩। ১৮ রবিউস সানি ১৪৩৮।


গাজীপুরে ব্যাংক কর্মকর্তা খুন

স্ত্রী-ছেলে-শ্যালিকা আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

২০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



গাজীপুর শহরের পূর্ব বরুদা এলাকায় মো. গিয়াস উদ্দিন খান (৫৬) নামের এক ব্যাংক কর্মকর্তা খুন হয়েছেন। শুক্রবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। লাশের ঘাড়ের পেছনে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হত্যার ঘটনায় নিহতের স্ত্রী জাহানারা বেগম (৫০), ছেলে শাহরিয়ার মানিক (২৮) ও শ্যালিকা পারভীন আক্তারকে (৪০) আটক করেছে পুলিশ। গিয়াস উদ্দিন খান গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বোর্ড বাজারের আদেপাশা এলাকার মৃত সিরাজ উদ্দিন খানের ছেলে। তিনি গাজীপুরে সোনালী ব্যাংকের মুখ্য আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রিন্সিপাল অফিসার ছিলেন। বর্তমানে তিনি অবসর প্রস্তুতিকালীন ছুটিতে ছিলেন।

এ ব্যাপারে নিহতের ছোট ভাই ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন খান জানান, তাঁর ভাই ছেলে শাহরিয়ার মানিক ও স্ত্রী জাহানারা বেগমকে নিয়ে শহরের বরুদার বাসায় থাকতেন। মানিক বেশ কিছুদিন আগে নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। তার মা জাহানারা বেগমও বেপরোয়া চলাফেরা করতেন। মা-ছেলে বাড়িসহ অন্যান্য সম্পত্তি লিখে দেওয়া এবং টাকার জন্য তাঁর ভাইকে মারধর করত। তিনি অবসর প্রস্তুতিকালীন ছুটিতে যাওয়ার পর অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে যায়। ২০ দিন আগে তারা গিয়াস উদ্দিনকে বেধড়ক মারধর করে। এ ঘটনায় তিনি জয়দেবপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে তিনি গ্রামের বাড়িতে চলে যান। একপর্যায়ে তাঁকে ফিরিয়ে আনতে তাঁর স্ত্রী ও ছেলে গ্রামে গেলে তিনি আত্মীয়দের বলেছিলেন, ‘বাসায় গেলে ওরা আমায় মেরে ফেলবে। ’

মহিউদ্দিন খান আরো জানান, গত শুক্রবার রাত ৮টার দিকে তাঁর ভাই আত্মীয়স্বজনদের মোবাইল ফোনে জানিয়েছিলেন, স্ত্রী ও ছেলে তাঁকে হত্যা করতে পারে। রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি খবর পান গিয়াস উদ্দিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। রাত ১২টার দিকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। জয়দেবপুর থানার এসআই হুমায়ুন কবির জানান, নিহতের ঘাড়ে সুই জাতীয় বস্তুর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্ত্রী জাহানারা, ছেলে মানিক ও শ্যালিকা পারভীনকে আটক করা হয়েছে। শ্যালক আক্তার হোসেন দিপু পলাতক রয়েছে। তারা সবাই রাতে ওই বাসায় ছিল।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক আব্দুস সালাম জানান, গিয়াস উদ্দিনকে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল। তাঁর শরীরের কিছু অংশ রাসায়নিক পরীক্ষার জন্যে ঢাকায় পাঠানো হবে। সব প্রতিবেদন পাওয়ার পর হত্যার কারণ জানা যাবে।


মন্তব্য