kalerkantho


মাঠ বিদ্রোহীদের দখলে

নিয়ামুল কবীর সজল, ময়মনসিংহ   

২০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



মাঠ বিদ্রোহীদের দখলে

ময়মনসিংহের গৌরীপুরের ভাংনামারী ইউনিয়নে গত ইউপি নির্বাচনে অল্প ভোটের ব্যবধানে হেরে গিয়েছিলেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আনন্দ মোহন কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস মফিজুর নূর খোকা। বর্তমানে শহরের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজের অধ্যাপক খোকা ময়মনসিংহের সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে এখনো একজন সরব ব্যক্তি।

এবারের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দল তাঁকে মনোনয়ন দেয়নি। দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান ফজলে মাসুদ। যাঁর বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ এনে গত ২০০০ সালের দিকে চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় এলাকাবাসী দিনের পর দিন ময়মনসিংহ শহরে এসে মিছিল-সমাবেশ করেছে, মানববন্ধন করেছে, প্রশাসন বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে। বিতর্কিত সেই মাসুদের প্রার্থিতা মানতে না পারা এলাকাবাসীর অনুরোধে প্রার্থী রয়ে গেছেন মফিজুর নূর খোকা। নৌকা প্রতীক না পেলেও এলাকায় তিনিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে আলোচিত প্রার্থী।

শুধু ভাংনামারী নয়, গৌরীপুরের ১০টির মধ্যে বেশির ভাগ ইউনিয়নেই আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত বিদ্রোহী প্রার্থীরাই ভোটারদের কাছে বেশি আলোচিত। একাধিক ইউনিয়নে বিদ্রোহীরা সরব সমর্থন আর সহযোগিতা পাচ্ছেন ভোটারের। বিদ্রোহীদের কারণে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা অনেক জায়গায় বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন।

সাংগঠনিকভাবে শাস্তির ভয়ে দলের নেতাকর্মী প্রকাশ্যে কিছু না বললেও অনেকে গোপনে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আগামী ৩১ মার্চ গৌরীপুরের ১০টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ ক্ষেত্রে দলীয় প্রার্থিতা ঘোষণার পরপরই বিভিন্ন ইউনিয়নে দল মনোনীত প্রার্থীকে মেনে নিতে পারেনি সাধারণ ভোটার এমনকি দলের তৃণমূলের নেতাকর্মী। তাই অনেক জায়গায়ই দলীয় নেতাকর্মী মনোনয়নবঞ্চিতদের নির্বাচনে থেকে যাওয়ার জন্য চাপ দেয় বা অনুরোধ করে। শেষ পর্যন্ত অর্ধেক ইউনিয়নেই দলের বিদ্রোহী প্রার্থী থেকে যান। এমনকি অনেক ইউনিয়নে দলের একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থীও রয়েছেন।

সূত্র মতে, উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে সাতটিতেই বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। মাওহা, অচিন্ত্যপুর, রামগোপালপুর, সহনাটি, গৌরীপুর, ভাংনামারী ও ডৌহাখলাতে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়ে গেছেন। এর মধ্যে কয়েকটি এলাকায় বিদ্রোহীরাই বেশি আলোচিত হচ্ছেন ভোটারদের কাছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতীক নিয়ে তাঁরা মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন।

এ ব্যাপারে গৌরীপুর ইউনিয়ন থেকে স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিদ্রোহী প্রার্থী আনোয়ার হোসেন জানান, তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। এবারের নির্বাচনে দলে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু ঢাকায় প্রার্থী হিসেবে অন্য ব্যক্তির নাম ঘোষণার পর তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন আর নির্বাচন করবেন না। কিন্তু এলাকায় এসে দেখেন এলাকাবাসী স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁকে নির্বাচন করার জন্য চাপ দিচ্ছে। তাই শেষ পর্যন্ত তিনি আর নির্বাচন থেকে সরে যেতে পারেননি।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রমিজ উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘আমি মনোনয়ন চেয়েছিলাম। গরিব মানুষ, তাই পাইনি। ’ তিনি চশমা প্রতীক নিয়ে মাওহা ইউনিয়ন থেকে প্রার্থী হয়েছেন। রামগোপালপুর ইউনিয়নে প্রার্থী হওয়া আবদুল্লাহ আল আমিন জনি জানান, তিনি পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। মনোনয়ন চেয়েও পাননি। তাই স্বতন্ত্র হিসেবে প্রার্থী হয়েছেন।

ডৌহাখলা ইউনিয়ন থেকে প্রার্থী হয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান জনাব আলী। বর্তমানে দলের কোনো পদে না থাকলেও একসময় উপজেলা কমিটির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক পদে দায়িত্বে ছিলেন বলে জানান। জনাব আলী বলেন, ‘দলের মনোনয়ন চেয়েও পাইনি। এলাকাবাসীর অনুরোধে প্রার্থী হয়েছি। ’ ভাংনামারী ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতা অধ্যাপক মফিকুর নূর খোকা বলেন, ‘গতবার অল্প ভোটে ফেল করেছিলাম। তখন থেকেই এলাকাবাসী আবার নির্বাচন করার জন্য অনুরোধ করছিল। এলাকাবাসীর অনুরোধেই প্রার্থী হয়েছি। ’

নির্বাচনের ব্যাপারে গৌরীপুর উপজেলার বাসিন্দা ও বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যসচিব ফেরদৌস আলম বলেন, নৌকার পক্ষেই ভোটাররা। তবে মনোনয়নের ভুলে কিছু জায়গায় বিদ্রোহীরাই সুবিধাজনক অবস্থায় আছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিধুভূষণ বলেন, নৌকার প্রার্থীদের বিজয়ী করার জন্য তাঁরা কাজ করছেন। শেষ পর্যন্ত দল সমর্থিত প্রার্থীরাই বিজয়ী হয়ে আসবেন বলে তিনি আশা করছেন।


মন্তব্য