kalerkantho

সোমবার। ২৩ জানুয়ারি ২০১৭ । ১০ মাঘ ১৪২৩। ২৪ রবিউস সানি ১৪৩৮।


রাজবাড়ীতে কলেজ ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা

রাজবাড়ী প্রতিনিধি   

২০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



রাজবাড়ীর আলীপুর ইউনিয়নের কল্যাণপুর এলাকায় কলেজ ছাত্র মাইনদ্দিন গাজীকে (১৮) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল শনিবার ভোরে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ (ফমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় গুরুতর আহত মাইনদ্দিনের বন্ধু নজরুল মিয়াকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল সকালে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ।

নিহত মাইনদ্দিন গাজী কল্যাণপুর এলাকার খলিলুর রহমানের ছেলে এবং জেলা সদরের খানখানাপুর কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্র।

গতকাল সকালে কল্যাণপুর মহিলা মাদ্রাসা এলাকায় নিহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, মাইনদ্দিনের মা সালেহা বেগম ও পরিবারের সদস্যরা একে অন্যেকে জড়িয়ে ধরে আহাজারি করছে। প্রতিবেশীরা আহাজারি থামানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছে। কান্নারত অবস্থায় সালেহা বেগম জানান, তাঁর চার ছেলের মধ্যে মাইনদ্দিন মেজো। মাইনদ্দিনের স্বপ্ন ছিল দক্ষিণ কোরিয়া যাওয়ার। এ জন্য সে কলেজে পড়ার পাশাপাশি রাজধানী ঢাকায় থেকে কোরিয়ান ভাষা শেখে ও প্রশিক্ষণ নেয়। গত বৃহস্পতিবার পাসপোর্ট নিতে সে রাজবাড়ীতে আসে। গতকাল তার ঢাকায় ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। সালেহা বলেন, ‘ওরা আমার বুকের ধনরে মাইরা ফেলাইছে। আমি ওগোর বিচার চাই। ’

নিহতের চাচাতো ভাই ইসমাইল গাজী বলেন, কয়েক দিন আগে স্থানীয় মোস্তফা মিয়ার বড় ছেলে কালু মিয়ার কাছ থেকে একই গ্রামের কাশেম খানের ছেলে ফয়সাল খান (১৮) মোবাইল ফোনের একটি মেমোরি কার্ড ছিনিয়ে নেয়। কার্ডটি ফেরত আনতে কালু তাঁর ছোট ভাই নজরুল মিয়া ও নজরুলের বন্ধু মাইনদ্দিন গাজীকে বলেন। এ নিয়ে গত শুক্রবার বিকেলে মাইনদ্দিন ও নজরুল ফয়সাল খানকে মারধর করে। পরে রাত ৯টার দিকে ফয়সালের নেতৃত্বে তার সহযোগীরা মাইনদ্দিন ও নজরুলকে কল্যাণপুর বাজারের পাশ থেকে ধরে আধা কিলোমিটার দূরে মালেকের নির্জন মেহগনি বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে তারা মাইনুদ্দিন-নজরুলকে বেধড়ক মারধরের পর গুরুতর অবস্থায় রাজবাড়ী-ফরিদপুর সড়কের সাধুর বটতলা এলাকায় ফেলে যায়। রাত ১২টার দিকে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। কিন্তু মাইনদ্দিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ওই সময়ই তাকে ফমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়।

রাজবাড়ী থানার ওসি শাহ মো. আওলাদ জানান বলেন, মূলত মেমোরি কার্ড ছিনিয়ে নেওয়ার তুচ্ছ ঘটনায় মাইনদ্দিনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় অভিযুক্তদের আটক করা হয়েছে। সহকারী পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে গতকাল বিকেল পর্যন্ত ওই ঘটনায় থানায় মামলা হয়নি।


মন্তব্য