kalerkantho

রবিবার। ২২ জানুয়ারি ২০১৭ । ৯ মাঘ ১৪২৩। ২৩ রবিউস সানি ১৪৩৮।


নৌকার বিরুদ্ধে এমপি বদি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

২০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



নৌকার বিরুদ্ধে এমপি বদি

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বেশির ভাগ চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন দলীয় সংসদ সদস্য (এমপি) আবদুর রহমান বদি। এমনকি একটি ইউনিয়নে জামায়াত সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীকেও সমর্থন দিচ্ছেন তিনি। এই অভিযোগ করেছেন তাঁর দলের নেতারা। তাঁদের দাবি, আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বদির দিন শেষ হয়ে আসছে, এটি বুঝতে পেরেই তিনি এমন কাণ্ড করছেন। এ নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। অবশ্য কক্সবাজার-৪ (টেকনাফ-উখিয়া) আসনের সংসদ সদস্য বদি বলছেন, নির্বাচন কমিশনের বিধান মেনে তিনি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছেন।

এদিকে কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইশতিয়াক আহমদ জয় ও সাধারণ সম্পাদক ইমরুল হাসান রাশেদ আবদুর রহমান বদিকে ‘হাইব্রিড আওয়ামী লীগার’ উল্লেখ করে ছাত্রলীগের যেকোনো অনুষ্ঠানে তাঁকে (বদি) অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন। এক ফেসবুক মন্তব্যে (স্টেটাস) তাঁরা বলেন, বদি আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হলেও ছাত্রলীগের কোনো অনুষ্ঠানেই তাঁকে পাওয়া যায় না। কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের ১৪ মাসে একবার তাঁকে পাওয়া গিয়েছিল। এ মন্তব্য নিয়েও চলছে তুমুল আলোচনা।

ইশতিয়াক আহমদ জয় গত শুক্রবার কালের কণ্ঠকে বলেন, “এমপি বদি দলীয় নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন তো করেনই না, উল্টো তাদের বিরুদ্ধে নামেন। এমনকি চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অনেক দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তিনি ‘হাইব্রিড আওয়ামী লীগার’ হিসেবে প্রমাণ দিয়েছেন। ” ইমরুল হাসান রাশেদ বলেন, “এমপি বদিকে ‘হাইব্রিড’ আওয়ামী লীগার হিসেবে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে আমার দেওয়া স্টেটাসে শত শত ফেসবুক ইউজার লাইক এবং নানা মন্তব্য দিয়ে সমর্থন জুগিয়েছেন। ”

গত বৃহস্পতিবার টেকনাফ সদর ও সাবরাং ইউনিয়নে জেলা আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সংবর্ধনা সভা ছিল। অভিযোগ উঠেছে, এ দুটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া থেকে কৌশলে বিরত থাকেন বদি। এ প্রসঙ্গে বদি স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, তাঁকে সাবরাং ইউনিয়নের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি নুর হোসেনের সমর্থকরা সড়কে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। তাই তিনি কয়েক ঘণ্টা ধরে কোথাও যেতে পারেননি।

তবে টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল বশর বলেন, ‘দলীয় সংবর্ধনা সভায় যোগ দেওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য এমপি বদি অবরুদ্ধ থাকার নাটক সাজিয়েছিলেন। ওই সভা আমরাই আয়োজন করেছিলাম এবং সেখানে আমি নিজেও উপস্থিত ছিলাম। ’ তিনি বলেন, সভায় ওই দুই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। বদি দলীয় এই প্রার্থীদের সমর্থন দেননি। তাই তিনি ‘অবরুদ্ধ নাটক’ সাজান। নুরুল বশর বলেন, টেকনাফ সীমান্তের ইউনিয়নগুলোতে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীদের পরাজয় ঘটলে সে জন্য আবদুর রহমান বদির কর্মকাণ্ডকেই দায়ী করা হবে।

টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘টেকনাফ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের নির্বাচনে এমপি বদি কেবল একটিতে দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীকে সমর্থন দিচ্ছেন। অন্য পাঁচটিতেই বিদ্রোহী প্রার্থী এবং একটিতে জামায়াত প্রার্থীকে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন। ’ মোহাম্মদ আলী অভিযোগ করে বলেন, বদি যেসব বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীকে নীরব সমর্থন দিচ্ছেন তাঁদের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা কারবারিও রয়েছেন।

সূত্র জানায়, কক্সবাজারের রামুতে সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের দুটি ব্রিগেডসহ সাতটি ইউনিটের পতাকা উত্তোলনের গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান ছিল গত ১০ মার্চ। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে কক্সবাজারের অন্য সংসদ সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও বদির অনুপস্থিতি অনেক আলোচনার জন্ম দেয়। জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকেও উপস্থিত ছিলেন না বদি।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান বলেন, “আসলে এমপি বদি বিলম্বে হলেও হয়তো বুঝতে পেরেছেন, আগামীতে আওয়ামী রাজনীতিতে তাঁর দিন শেষ হয়ে আসছে। তাই তিনি আওয়ামী লীগের ছায়ায় থেকেই স্থানীয়ভাবে বিকল্প ‘রাজনৈতিক বলয়’ গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। ”

মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা দল মনোনীত প্রার্থীদের বিরুদ্ধাচরণকারী আটটি উপজেলার দলীয় নেতাকর্মীদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে গত শুক্রবার রাতে জেলা আওয়ামী লীগের জরুরি সভা ডেকেছিলাম। সভায় ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা দলের গঠনতন্ত্র লঙ্ঘনের অভিযোগে এমপি বদির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলে। কিন্তু তিনি দলীয় এমপি বলে বিষয়টি আমরা দলের ঊর্ধ্বতন মহলে অবহিত করেছি। তবে সভায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে জেলার ২৯ নেতাকে শোকজ করা হয়েছে। ’

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আবদুর রহমান বদি। তিনি বলেন, চলমান ইউপি নির্বাচনে একদম নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছেন তিনি। নির্বাচন কমিশনের বিধিবিধান মেনেই তিনি যা করার তাই করছেন।


মন্তব্য