kalerkantho

শনিবার । ২১ জানুয়ারি ২০১৭ । ৮ মাঘ ১৪২৩। ২২ রবিউস সানি ১৪৩৮।


‘ভোট চাই না, বাঁচতে চাই’

বনগ্রাম

বাগেরহাট প্রতিনিধি   

২০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



‘ভোট চাই না, বাঁচতে চাই’

‘নির্বাচনের সাধ মিটে গেছে। ভোট চাই না, জীবনে বেঁচে থাকতে চাই। নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছি। আমাকে ভোট না দেওয়ার জন্য ভোটারদের জানিয়ে দিয়েছি। ’

গতকাল শনিবার দুপুরে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে চোখের জল ফেলে এসব কথা বলেন বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আব্দুল জব্বার মোল্যা (৫৯)। বনগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জব্বার মোল্যা অভিযোগ করেন, নির্বাচনে দাঁড়ানোর কারণে তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। তাঁর বাড়িতে হামলা হয়েছে।

বনগ্রাম ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান জব্বার মোল্যা জানান, ১৯৯৭ সালে ইউপি নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এর পরের সব ইউপি নির্বাচনেও তিনি বিজয়ী হয়েছেন। ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হয়েও দলীয় মনোনয়ন না নিয়ে তিনি ‘কৌশল’ হিসেবে স্বতন্ত্র (আনারস প্রতীক) প্রার্থী হয়েছেন। কিন্তু নির্বাচনে নেমে তিনি অসহায় হয়ে পড়েছেন। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পর থেকে নানাভাবে তাঁকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। ফলে তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় নামতে পারেননি। তাঁর পোস্টার লাগাতে পারেনি কর্মীরা। বাড়িতে বসেই প্রচারণা চালাচ্ছিলেন তিনি। ২৯ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টার দিকে তাঁর বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশের আশ্বাসে তিনি কর্মীদের নির্বাচনী মাঠে নামান। তাঁর কয়েকজন কর্মীকে মারধর করে আটকেও রাখা হয়েছিল। এরপর প্রকাশ্যে তাঁকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। মিথ্যা মামলায় তাঁকে জড়ানো হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

তাঁকে কে হুমকি দিচ্ছে? এমন প্রশ্ন করা হলে জব্বার মোল্যা অভিযুক্তদের নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘নির্বাচনে আমার বিপক্ষের লোকজন হুমকি দিচ্ছে। তারা সরকারি দলের লোক। ওরা এমন কারফিউ জারি করেছে যে আমার বাড়িতে লোকজনের ঢোকা নিষেধ। ’

এলাকায় নির্বাচনী পোস্টার ও প্রচার-প্রচারণা নেই কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে আব্দুল জব্বার মোল্যা অভিযোগ করেন, তাঁর কর্মীদের মারধর করে কোথাও পোস্টার লাগাতে দেওয়া হয়নি। একপর্যায়ে তিনি নির্বাচনী মাঠ থেকে কর্মীদের উঠিয়ে আনতে বাধ্য হন।

জব্বার মোল্যা বলেন, তিনি ১৮ বছর ধরে বনগ্রাম ইউপির চেয়ারম্যান। কিন্তু এবার নির্বাচন করে নিজেকে ‘হারাতে’ চান না। তাই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

আব্দুল জব্বার মোল্যা জানান, কিছু হিন্দু ভোটারের কথামতো কৌশল হিসেবে তিনি বিএনপির মনোনয়ন না নিয়ে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হয়েছেন। তাঁর বড় ভাই আব্দুস সামাদ মোল্যা বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী। বাড়িতে হামলার পর সামাদ মোল্যা বাড়ি থেকে অন্যত্র চলে গেছেন।

এদিকে বনগ্রাম ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী রিপন চন্দ্র দাস বলেন, ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগের জোয়ার দেখে জব্বার মোল্যা মিথ্যা অভিযোগ এনেছেন। তাঁর কর্মীরা জব্বার মোল্যার কর্মীদের বাধা দেয়নি। আর হুমকি দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। নির্বাচনে হেরে যাবেন বুঝতে পেরে জব্বার মোল্যা মিথ্যা প্রচার চালিয়ে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছেন।

বনগ্রাম ইউপি নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার মো. মঞ্জুরুল আহসান জানান, বাড়িতে হামলা ও হুমকির বিষয়ে জব্বার মোল্যার কাছ থেকে অভিযোগ পেয়েছিলেন। পরে তিনি ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের কাছে অভিযোগপত্রটি পাঠান।

মোরেলগঞ্জ থানার ওসি তারক বিশ্বাস জব্বার মোল্যার অভিযোগের বিষয়ে বলেন, নির্বাচন অফিসের মাধ্যমে একটি অভিযোগ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নতুন করে কোনো অভিযোগ আসেনি। উপজেলার সর্বত্রই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ কাজ করছে বলে ওসি জানান।  

আগামী ২২ মার্চ বাগেরহাটের ৭৩টি ইউপির নির্বাচন। রিটার্নিং অফিসার মঞ্জুরুল আহসান জানান, বনগ্রাম ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন আওয়ামী লীগের রিপন চন্দ্র দাস, বিএনপির আব্দুস সামাদ মোল্যা, স্বতন্ত্র আব্দুল জব্বার মোল্যা ও প্রশান্ত দাস। জানা গেছে, প্রশান্ত দাস রিপন চন্দ্র দাসের ছোট ভাই। প্রশান্ত নির্বাচনে বড় ভাইকে সমর্থন দিয়েছেন।


মন্তব্য