kalerkantho

রবিবার। ২২ জানুয়ারি ২০১৭ । ৯ মাঘ ১৪২৩। ২৩ রবিউস সানি ১৪৩৮।


রাজবাড়ী সরকারি সেবা ইনস্টিটিউট

সেবা শিখতে দুর্ভোগ

রাজবাড়ী প্রতিনিধি   

২০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



গবেষণাগার, টিভি দেখার কক্ষ, অতিথিদের বসার জায়গা কিংবা গ্রন্থাগার—কোনো কিছুই নেই। তিন তলা ভবনের নিচতলায় একটি প্রশাসনিক ও দুটি শ্রেণিকক্ষ। দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় ৪০ ছাত্রীর আবাসন ব্যবস্থা; কিন্তু থাকতে হয় দুই শতাধিককে। ব্যবহারকারীর তুলনায় গোসলখালা ও শৌচাগারের অনুপাতও একই রকমের।

রাজবাড়ী সরকারি সেবা ইনস্টিটিউটের (এনসিটি) চিত্র এটি। বছরের পর বছর এমন পরিবেশের মধ্য দিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। পরিবেশ বদলানোর লক্ষ্যে ইনস্টিটিউটের তরফ থেকে সেবা অধিদপ্তরে একাধিকবার চিঠি পাঠানো হয়েছে, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি।

রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল এলাকায় ১৯৮১ সালে নির্মিত হয় এ ইনস্টিটিউট। শুরুতে সেখানে ছাত্রী ছিল ৪০ জন। ৩১ বছর পর ২০১৬ সালে এসে ছাত্রীসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২৫ জনে। সেখানে বর্তমানে ‘ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি’ এবং ‘ডিপ্লোমা ইন নার্সিং মিডওয়াইফারি’ নামে দুটি কোর্স চালু রয়েছে। কিন্তু অবকাঠামো আছে আগের মতোই।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার একটি কক্ষে দুই শিক্ষার্থীর থাকার কথা। কিন্তু থাকতে হচ্ছে ১০ জন করে। ছাত্রীদের অভিযোগ, চারটি ব্যাচের জন্য শ্রেণিকক্ষ আছে দুটি। ফলে একসঙ্গে দুটি ব্যাচের ক্লাস চললে বাকি দুই ব্যাচকে বাইরে ঘুরে বেড়াতে হয়। ছাত্রীরা আরো জানায়, তাদের থাকার জন্য মাত্র ২২টি কক্ষ আছে। সবটাতে গাদাগাদি অবস্থা। পর্যাপ্ত ফ্যান নেই। এ জন্য রাতে ঘুমাতে কষ্ট হয়। আর লেখাপড়া থেকে শুরু করে ঘুম—সব কিছু করতে হয় মেঝেতে।

শিক্ষার্থীরা জানায়, ১০টি শৌচাগারের চারটি নষ্ট। গোসলখানাও নেই পর্যাপ্ত। ফলে ভোররাত থেকেই গোসলখানা ও শৌচাগারে দীর্ঘ লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। ইনস্টিটিউটের বাইরে প্রশিক্ষণে যাওয়ার জন্য একটি মাইক্রোবাস ছিল। সেটি বিকল হয়ে পড়ে আছে। তাই ছাত্রীদের এখন বাইরে যেতে হয় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায়। ছাত্রীরা আরো জানায়, তাদের জন্য সরকারের মাসিক বরাদ্দ মাথাপিছু এক হাজার ৮০০ টাকা। এই টাকা দিয়ে তারা পুরো মাস চলতে পারে না। ফলে প্রতি মাসে বাড়ি থেকে বাড়তি টাকা আনতে হয়।

রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, সমস্যা সমাধানের জন্য সেবা অধিদপ্তরে একাধিকবার চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো কোনো সুফল পাওয়া যায়নি।


মন্তব্য