kalerkantho


জয়পুরহাটে চারুকলা উৎসব

বরেণ্যদের পাশে খুদে শিল্পীরা

আলমগীর চৌধূরী, জয়পুরহাট   

১৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বরেণ্যদের পাশে খুদে শিল্পীরা

বাঁয়ের চিত্রকর্মটি এঁকেছেন ঢাবির চারুকলা অনুষদের গ্রাফিকস ডিজাইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হারুন অর রশীদ। জয়পুরহাট তেঘর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রদর্শনীতে এটি দেখছে খুদে শিক্ষার্থীরা। ছবিটি গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

কাপড়ের দেয়ালে পাশাপাশি শোভা পাচ্ছে দেশবরেণ্য চিত্রশিল্পী ও স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খুদে শিক্ষার্থীদের আঁকা ছবি। আর সেগুলো অবাক দৃষ্টিতে দেখছে নানা বয়সের মানুষ।

এ দৃশ্য চারুকলা উৎসব উপলক্ষে জয়পুরহাট তেঘর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অস্থায়ীভাবে তৈরি আর্ট গ্যালারির।

গতকাল শুক্রবার সকালে ঘণ্টা বাজিয়ে এ ছবি প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী সমরজিৎ রায় চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনুস ও জয়পুরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য সামছুল আলম দুদু। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা পরিষদ প্রশাসক এস এম সোলায়মান আলী, চারুকলা উৎসব উদ্যাপন পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক হারুন অর রশীদ, আহ্বায়ক আমিনুল হক বাবুল ও তেঘর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মোত্তালেব।

গ্যালারিতে গত মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার বরেণ্য শিল্পীদের আঁকা ৫৩টি ও স্থানীয় শিক্ষার্থীদের আঁকা ১২৭টি চিত্র সাজানো হয়েছে। এতে গ্রামবাংলা, জীবন ও প্রকৃতির কাব্যময় নানা দিক ফুটে উঠেছে। আজ শনিবার পর্যন্ত প্রদর্শন চলবে। উৎসবের প্রধান সমন্বয়ক হারুন অর রশীদ জানান, আগামী ২৬-৩১ মার্চ রাজধানীর জয়নুল গ্যালারিতে জয়পুরহাটের আঁকা ছবিগুলোর প্রদর্শনী হবে।

সমরজিৎ রায় চৌধুরী বলেন, ছবি দেখা ও বোঝার জন্য দর্শকের নিজস্ব ভাবনা থাকে। একই ছবি বিভিন্ন দর্শক বিভিন্নভাবে গ্রহণ করে।

এটা নির্ভর করে দর্শকদের রুচিবোধের ওপর। অনেক দর্শক ছবির গভীরে যেতে না পারলেও তাঁর দৃষ্টিতে ছবি সুন্দর লাগতে পারে। ছবি ভালো লাগার মধ্য দিয়ে শিল্পীর স্বার্থকতা ফুটে উঠবে।

শিল্পী আব্দুস শাকুর শাহ দুই দিনে দুটি ছবি এঁকেছেন। তাঁর একটি ছবি বাঙালির ঐতিহ্য, ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আঁকা। ছবিতে গ্রামবাংলা উঠে এসেছে। মৈমনসিংহ গীতিকা থেকে হাজার বছরের চরিত্রগুলো এঁকেছেন তিনি। নকশিকাঁথা, শীতলপাটি, গ্রাম-গঞ্জের আলপনা—এসবও তুলে এনছেন রংতুলিতে।

চারুকলা উৎসবে যোগ দিয়েছে জয়পুরহাট জেলার ১২টি বিদ্যালয়ের ১২৫ জন ছাত্রছাত্রী। তারা বরেণ্য শিল্পী ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের কাছে তিন দিন ধরে ছবি আঁকা শেখে। উদ্দেশ্য ছিল বরেণ্য শিল্পীদের আঁকা ছবির পাশে খুদে ছাত্রছাত্রীদের আঁকা ছবির স্থান করে দেওয়া।

শিক্ষার্থীরা বরেণ্য শিল্পীদের সান্নিধ্যে আসতে পেরে ভীষণ খুশি। জয়পুরহাট শহরের আল-হেরা একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির জান্নাতুল মাওয়া, তেঘর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী রাবেয়া খাতুন, ভাদসা উচ্চ বিদ্যালয়ের খাদিজা বেগম নিজস্ব ভাবনায় ছবি এঁকেছে। ঢাকার শিল্পীরা তাদের অনেক কিছু শিখিয়েছেন। এ উৎসবে এসে তারা অনেক কিছু শিখতে ও জানতে পেরেছে। জান্নাতুল মাওয়া বলে, এবারই সে প্রথম দেখলো তেঘর পালপাড়ার মৃিশল্প। সেখানে বসে সে নিজের মনে ছবি এঁকেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের মৃিশল্প বিভাগ থেকে পাস করা অসীম হালদার বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা পালপাড়ায় গিয়ে মৃিশল্পীদের কাজ দেখেছে। ২৫ জন শিক্ষার্থী ছবি এঁকেছে। তাদের আঁকাও ভালো। আমরা শুধু সহযোগিতা করেছি। ’

জয়পুরহাট তেঘর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মোত্তালিব জানালেন, তেঘর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১৯৫৫ সালে ১৪ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান বিশাল সমাবেশে বক্তব্য দিয়েছিলেন। তাই এ মাঠ ঐতিহাসিক। ঢাকার বরেণ্য শিল্পীরা এসে এ বিদ্যালয়কে আরেকবার ইতিহাসের পাতায় স্থান দিলেন। এ ধরনের উৎসবে অংশ নিয়ে ছাত্রছাত্রীরা রুচিশীল, মানবতাবোধ ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও এ থেকে অনেক কিছু শিখলেন।


মন্তব্য