kalerkantho

বুধবার । ১৮ জানুয়ারি ২০১৭ । ৫ মাঘ ১৪২৩। ১৯ রবিউস সানি ১৪৩৮।


মেহেরপুরে সড়কে ঝরল ছয় যুবলীগকর্মীর প্রাণ

মেহেরপুর প্রতিনিধি   

১৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



মেহেরপুরে বাস ও নছিমনের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই গ্রামের ছয় ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুই ভাইও রয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন পালন শেষে বাড়ি ফেরার পথে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মেহেরপুর-মুজিবনগর সড়কের চকশ্যামনগর ঈদগাহ এলাকায় তাঁরা এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পড়েন। এতে আরো পাঁচজন আহত হন। তাঁরা রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

স্থানীয়রা জানায়, নিহত ছয়জনই যুবলীগকর্মী। তাঁদের বাড়ি মুজিবনগর উপজেলার বাগোয়ান গ্রামের পাঠানপাড়ায়। তাঁরা দিনমজুর। মূলত তাঁদের আয়েই চলত ছয় পরিবার। তাঁদের মৃত্যুতে শোকার্ত পরিবারগুলো ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

নিহতরা হলেন বাগোয়ান গ্রামের মৃত আব্দুর রহমান খানের ছেলে টুকু খান ও তাঁর ভাই মিঠুন খান, ইউনুস খানের ছেলে নাজমুল খান, হাবেল খানের ছেলে আন্নিস খান, লালু খানের ছেলে তুফান খান ও মৃত জানা শেখের ছেলে সোহরাব উদ্দিন। তাঁদের মৃত্যুর ঘটনায় জেলায় বইছে শোকের আবহ। তাঁদের স্মরণে জেলা যুবলীগ তিন দিন ও জেলা ছাত্রলীগ দুই দিনের শোক পালন করছে।  

গতকাল শুক্রবার দুপুর আড়াইটায় বাগোয়ান গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হাজার হাজার মানুষের অংশগ্রহণে জানাজা হয় নিহত ছয়জনের। পরে টুকু খান, মিঠুন খান, নাজমুল খান, আন্নিস খান ও তুফান খানকে পাশাপাশি কবরে শোয়ানো হয়। পারিবারিক সিদ্ধান্তে সোহরাব উদ্দিনকে শায়িত করা হয় গ্রামের অন্য কবরস্থানে।

একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ওই দিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি মাঠ থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় মুজিবনগর থেকে একটি পিকনিকের বাস চকশ্যামনগর ঈদগাহের কাছে সড়কের মাঝখান দিয়ে আসছিল। আর তিনটি নছিমন মুজিবনগরের দিকে যাচ্ছিল। দুটি নছিমন ভালোভাবেই বাসটি অতিক্রম করে। শেষের নছিমনটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে নছিমনচালক মিঠুন ঘটনাস্থলেই মারা যান। অন্যদের উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সূত্র জানায়, হাসপাতালে পৌঁছানোর পরপরই নাজমুল, টুকু ও তুফানের মৃত্যু হয়। পরে রামেক হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত ৯টার দিকে সোহরাব ও ১১টার দিকে আন্নিস মারা যান। নছিমনটিতে চালকসহ ১১ জন ছিলেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাবনার সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া কোচিং সেন্টার থেকে শিক্ষার্থীদের একটি দল কৌশিক পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-গ ১৪-৩২৮৪) ভাড়া নিয়ে মুজিবনগরে পিকনিকে এসেছিল। ওই দুর্ঘটনার পর বাসচালক ও তাঁর সহকারীরা পালিয়ে যান। বিক্ষুব্ধ জনতা বাসটি আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেয়। খবর পেয়ে মেহেরপুর সদর থানার পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে বাস ও নছিমনটি থানায় নেওয়া হয়। এদিকে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন পরিবহনে পাবনায় পৌঁছায়।

মিঠুন ও টুকুর ভগ্নিপতি আবুল কালাম কালের কণ্ঠকে বলেন, তাঁর দুই শ্যালকসহ নিহত ছয়জনই দিনমজুর। তাঁরা একদিন কাজ না করলে বাড়িতে খাবার হয় না। ছয় পরিবারের রোজগার করার প্রধান মানুষগুলোই মারা গেলেন। এখন অনাহারে কাটাতে হবে তাঁদের পরিবারকে। প্রতিবেশীরাও জানায় একই কথা। সোহরাব উদ্দিনের দুই মেয়ে, টুকুর দুই ছেলেমেয়ে, মিঠুনের দুই ছেলে, নাজমুলের দুই ছেলে ও এক মেয়ে, আন্নিসের দুই ছেলে ও এক মেয়ে এবং তুফানের দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার চৌধুরী জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও নছিমনটি পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। বাসচালক ও তাঁর সহকারীরা পলাতক। এ ঘটনায় গতকাল বিকেল পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি।


মন্তব্য