kalerkantho


ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভায় ভোট কাল

শেষ মুহৃর্তে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

১৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বিএনপির অভিযোগ, মেয়র পদে প্রকাশ্যে ভোট নেওয়ার পাঁয়তারা করছে আওয়ামী লীগ। একটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর পক্ষে ফল ঘোষণা করা হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে ইসলামী ঐক্যজোট। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ বলছে, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতেই মিথ্যা কথা বলে বেড়াচ্ছে।

এ ধরনের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ চলছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর নির্বাচনকে ঘিরে। গত দুই দিনে পৃথক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করা হয়। আগামীকাল রবিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

এদিকে ১২টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত পৌরসভার ৪৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৫টি কেন্দ্রকেই অধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ প্রশাসন। এসব কেন্দ্রের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ৪৫টি কেন্দ্রে ছয়জন করে ও সাধারণ ১৩টি কেন্দ্রে পাঁচজন করে পুলিশ সদস্য থাকবেন। এ ছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রে ১২ জন আনসার সদস্যের মধ্যে দুজন অস্ত্রধারী থাকবেন। এ ছাড়া পুলিশের চারটি স্ট্রাইকিং ফোর্স, দুই প্লাটুন বিজিবি ও র্যাবের ১০টি টিম কাজ করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

নির্বাচন সুষ্ঠু করতে ইতিমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ১৯ ও ২০ জানুয়ারি পৌর এলাকায় যেন কোনো বহিরাগত অবস্থান না করে সে জন্য গতকাল শুক্রবার দিনভর মাইকিং করা হয়েছে।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী নায়ার কবির গতকাল শুক্রবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকার অভিযোগ করেন, বিভিন্ন কেন্দ্রে মাদ্রাসা ছাত্ররা থাকবে বলে ইসলামী ঐক্যজোট সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। আওয়ামী লীগ চেষ্টা করছে, কোনোভাবেই যেন দলের নেতাকর্মীরা নিয়ম ভঙ্গ করতে না পারে।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার সকালে বিএনপি মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী হাফিজুর রহমান মোল্লা কচির দক্ষিণ মৌড়াইলের বাসভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে শঙ্কা প্রকাশ কর হয়, মেয়রের ভোট গোপনে নয়, প্রকাশ্যে সিল মারার পরিকল্পনা করছে আওয়ামী লীগ। ইতিমধ্যে দলটির নেতাদের দেওয়া বক্তব্যের রেশ ধরেই বিএনপির পক্ষ থেকে এ ধরনের আশঙ্কার কথা বলা হয়। লিখিত বক্তব্যে ও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হাফিজুর রহমান মোল্লা বলেন, ‘আমার সঙ্গে কেউ বেরোলেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেওয়া হয়। পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে দলের ৪৪ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ’ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জহিরুল হক খোকন ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভয়ে কেউ এজেন্ট হতে চাইছে না।

ইসলামী ঐক্যজোট প্রার্থী মোহাম্মদ ইউসুফ ভুঁইয়া গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনে কেন্দ্র দখল, ভোট কাটা, আগের রাতে ব্যালট বাক্সে অবৈধ ভোট দেওয়ার পাঁয়তারা করলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন শঙ্কার কথা লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হলেও সরাসরি আওয়ামী লীগকে কোনো বিষয়ে দোষারোপ করেননি তিনি।

এ ব্যাপারে রিটার্নিং অফিসার মো. বশিরুল হক ভুঁইয়া বলেন, ‘সংবাদ সম্মেলনগুলোর কথা জেনেছি। তবে এসব উড়ো কথার কোনো ভিত্তি নেই। লিখিত অভিযোগ না পেলে এ বিষয়ে আমি কী করে ব্যবস্থা নিই?’


মন্তব্য