kalerkantho


ওবায়দুল-মওদুদের সম্মানের লড়াই

সামসুল হাসান মীরন, নোয়াখালী   

১৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ওবায়দুল-মওদুদের সম্মানের লড়াই

নোয়াখালী ৫ (কবিরহাট-কোম্পানীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ওবায়দুল কাদের। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং মন্ত্রী। অন্যদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মওদুদ আহমদেরও নির্বাচনী এলাকা এটি। আগামীকাল রবিবার কবিরহাট পৌরসভা নির্বাচন। এতে এ দুই প্রভাবশালী নেতার ‘আশীর্বাদপুষ্ট’ মেয়রপ্রার্থী হয়েছেন দুজন। তাই ভোটাররা এ নির্বাচনকে দেখছেন ওবায়দুল-মওদুদের সম্মানের লড়াই হিসেবে।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী হলেন জহিরুল হক রায়হান। তিনি কবিরহাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান মেয়র। বিএনপির প্রার্থী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মঞ্জু।

কবিরহাট পৌর নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণার শেষ দিন ছিল গতকাল শুক্রবার। গতকাল মধ্যরাত পর্যন্ত প্রচার-প্রচারণা চালান মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থীরা। এর আগে তাঁরা ভোট চাইতে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি, হাট-বাজারে গেছেন। করেছেন উঠান বৈঠক। এলাকার উন্নয়নে দিয়েছেন নানা প্রতিশ্রুতি। এবারই প্রথম দলীয় প্রতীকে পৌরসভা নির্বাচন হওয়ায় এখানে মেয়র প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে অন্যরকম আবহ বিরাজ করছে। সবাই আশা করছেন, একটা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে। তবে প্রচার-প্রচারণাকালে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন স্থানে কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির খবর পাওয়া গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১১ সালে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর জহিরুল হক রায়হান দলমতের ঊর্ধ্বে থেকে পৌরসভার উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। মেয়রের প্রতি সমর্থনে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং নোয়াখালী ৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের সংসদ সদস্য (জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক) একরামুল করিম চৌধুরী কবিরহাট পৌর এলাকার উন্নয়নে বিশেষ নজর দেন। মেয়র রায়হানের কার্যক্রমে সব দলমতের সরব উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এ সুবাদে পৌর এলাকায় দলীয় পরিচয়ের বাইরে তিনি একটি অবস্থান গড়ে তুলেছেন। তাই তিনি মনে করেন, তাঁর কাজের মূল্যায়ন করে পৌরবাসী তাঁকে পুনরায় বেছে নেবে। তিনি নিরপেক্ষ ভোট দাবি করেন এবং জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।

অন্যদিকে মোস্তাফিজুর রহমান মঞ্জু একজন ভালো ও তরুণ রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত। গত আন্দোলন-সংগ্রামে এলাকায় তাঁর সরব উপস্থিতি ছিল। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মওদুদ আহমদ এলাকায় এসে মঞ্জুকে কবিরহাট পৌরসভায় বিএনপির মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেন। ভোটের বিষয়ে জানতে চাইলে মঞ্জু বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ ভালো। তবে প্রচারণার প্রথম দিকে আমাকে একবার বাধা দেওয়া হলে বিষয়টি প্রশাসনকে জানাই। এরপর থেকে আর কোনো সমস্যা দেখছি না। ’ তিনি মনে করেন, কবিরহাট বিএনপির ঘাঁটি। তাই তাঁর বিজয়ের সম্ভাবনা শতভাগ। বর্তমানের মতো পরিস্থিতি থাকলে তাঁর বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।

ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্বাচনে সহিংসতার আশঙ্কা একেবারেই ক্ষীণ। কারণ এখানে দুই দল- আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সুসম্পর্ক রয়েছে। দুই মেয়র প্রার্থী ভালো। এখানে নির্বাচন ভোটারদের কাছে অনেকটা উৎসবের মতো। ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন বলে মনে করছেন।

তবে উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম হায়দার বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিয়ে ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে শঙ্কা রয়েছে। কারণ, বিভিন্ন স্থানে ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রচারণায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কর্মীদের বিরুদ্ধে। ’

অবশ্য উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আমিন রুমি বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ ভোট করার জন্য প্রশাসনকে অনুরোধ জানিয়েছি। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর খবর নেই। ’ তিনি আশা করেন, এখানে ভোট সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ হবে।

এ বিষয়ে সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও কবিরহাট পৌরসভার রিটার্নিং অফিসার মো. মনির হোসেন বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে কমিশন। ’

কবিরহাট পৌর নির্বাচনে সংরক্ষিত (নারী) কাউন্সিলর পদে ১০ জন এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৪০ জন প্রার্থী হয়েছেন। মোট ৯টি কেন্দ্রের ৩৯টি ভোটকক্ষে (পোলিং বুথ) ভোটগ্রহণ হবে। ভোটার সংখ্যা ১৩ হাজার ৩৯৭। এর মধ্যে ছয় হাজার ৬৭৬ জন পুরুষ ও ছয় হাজার ৭২১ জন নারী।


মন্তব্য