kalerkantho


উখিয়ায় বঙ্গবন্ধুর অজ্ঞাতবাস

আদিবাসী সদস্যদের সম্মাননা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

১৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



উখিয়ায় বঙ্গবন্ধুর অজ্ঞাতবাস

বঙ্গবন্ধুর সেই অজ্ঞাতবাস স্থান কক্সবাজারের ইনানী চেনছড়িতে গতকাল আদিবাসীদের ফুল দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সেবক হিসেবে পরিচিত কক্সবাজারের ইনানী অরণ্যের সেই অজ্ঞাতবাস স্থানের আদিবাসী পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা জানানো হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় এমপি সাইমুম সরওয়ার কমল উখিয়া উপজেলার ইনানী চেনছড়ি গ্রামে গিয়ে ১০টি আদিবাসী পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের হাতে রজনীগন্ধা তুলে দিয়ে সম্মাননা জানান। বঙ্গবন্ধুর ৯৭তম জন্মদিন উপলক্ষে জেলা প্রশাসন এ ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণে উখিয়ার সাগরপাড়ের অরণ্যঘেরা ইনানী চেনছড়ি গ্রাম। ১৯৫৮ সালে পূর্ব পাকিস্তানে (বাংলাদেশ) নিষিদ্ধ রাজনীতির এক দুঃসময়ে অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু এখানেই এসেছিলেন অজ্ঞাতবাসে। গ্রামের আদিবাসী নেতা প্রয়াত ফেলোরাম রোয়াজা চাকমার বাগানবাড়িতে অবস্থান করেছিলেন তিনি। এ কারণে গ্রামটি এখন ইতিহাসের অংশ। দীর্ঘকাল ধরে জাতির কাছে অজানা ছিল এ ইতিহাস। এ-সংক্রান্ত ইতিহাস জানাজানি হয় ২০১০ সালের ১৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯১তম জন্মদিনে কালের কণ্ঠে এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর। ওই দুর্গম এলাকার বাসিন্দা প্রয়াত সখিনা খাতুন নামের এক শতায়ু নারীর বঙ্গবন্ধুকে রান্না করে খাওয়ানো এবং আদিবাসী নেতা ফেলোরাম রোয়াজা চাকমার পরিবারের কথাও উঠে আসে প্রতিবেদনে।

গতকাল কক্সবাজার সদর-রামু আসনের এমপি সাইমুম সরওয়ার কমল, জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন, পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা চেনছড়ি আদিবাসী পল্লীতে যান।

তাঁরা বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত স্থানটি পরিদর্শন করেন। ফেলোরাম চাকমার উত্তরসূরি আদিবাসী দরিদ্র পরিবারের সদস্যদের জন্য এমপি কমল এক লাখ টাকার অনুদানও ঘোষণা দেন। অন্যদের মধ্যে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ড. অনুপম সাহা, উখিয়ার ইউএনও মো. মাঈনুদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ শাহজাহান ও মুক্তিযোদ্ধা পরিমল বড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন।


মন্তব্য