kalerkantho

সরগরম অলিগলি

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি   

১৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সরগরম অলিগলি

শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় এখন সরগরম কক্সবাজারের চকরিয়া। আগামী রবিবার পৌর নির্বাচনের ভোট।

তাই আজ শুক্রবার রাত ৮টার পর থেকে শেষ হচ্ছে প্রার্থীদের সব ধরনের প্রচার। শেষ সময়, সে কারণে গত কয়েক দিন ভোর থেকেই প্রচারণায় নেমে পড়েন প্রার্থীরা। দরজায় কড়া নাড়ার শব্দে ঘুম ভাঙে ভোটারদের। প্রতীক বরাদ্দের পর প্রচারণাকালে দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও গত দুই দিন শান্ত পরিবেশ বিরাজ করে এলাকায়। এ অবস্থা যাতে নির্বাচন শেষ হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকে সে জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ আশা করছেন প্রার্থী ও ভোটাররা। জানা গেছে, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন।

এদিকে হামলায় আহত বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী নুরুল ইসলাম হায়দার চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে গত বুধবার বিকেলে এলাকায় ফিরেছেন। এর পর থেকেই নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে পড়েন তিনি। আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী আলমগীর চৌধুরীও আরামকে ‘হারাম করে’ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন নির্বাচনী মাঠ।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের দুটি করে ১৮টি কেন্দ্রের ১২২টি বুথে ভোটগ্রহণ হবে। কেন্দ্রগুলোতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আনসার সদস্য সার্বক্ষণিক নিরাপত্তায় থাকবেন। এ ছাড়া দু-তিনটি কেন্দ্র মিলে দুজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে পুলিশের একটি ভ্রাম্যমাণ টিম এবং চারজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবি ও র‌্যাব সদস্যরা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে থাকবেন। আজ রাত থেকে ওয়ার্ড ও ভোটকেন্দ্রের আশপাশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবি ও র‌্যাব সদস্যরা দায়িত্ব পালন শুরু করবেন। এ ছাড়া নির্বাচনী প্রচার শুরুর পর থেকে আচরণবিধি লঙ্ঘনসহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে আছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রফিকুল হক। আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী ও অনেক কাউন্সিলর পদপ্রার্থীকে জরিমানা করেছেন।

চকরিয়া থানার ওসি মো. জহিরুল ইসলাম খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘১৮টি ভোটকেন্দ্রের সবকটিকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় জনবল চাওয়া হয়েছে। নির্বাচনকে কোনো অবস্থাতেই যাতে কেউ প্রশ্নবিদ্ধ করতে না পারে সে জন্য পুলিশ কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলবে আগামীকাল (আজ) রাত থেকে। ’

চকরিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘নির্দিষ্ট সময়ের (শুক্রবার রাত ৮টা) পর যাতে কেউ প্রচারণার নামে মাঠে থাকতে না পারে সে জন্য চারজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পৃথকভাবে স্ট্রাইকিং ফোর্সের দায়িত্ব পালন করবেন। ম্যাজিস্ট্রেটকে সহায়তায় এবং ভোটকেন্দ্রের আশপাশে নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে এক প্লাটুন বিজিবি ও র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ চারটি টহল টিম। ’

চকরিয়া পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দুজন। তাঁরা হলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আলমগীর চৌধুরী ও বিএনপির প্রার্থী বর্তমান মেয়র নুরুল ইসলাম হায়দার। সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ২০ জন এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৪৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মেছবাহ উদ্দিন বলেন, ‘নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয় এবং ভোটাররা যাতে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারেন, সেজন্য বিজিবি ও র‌্যাব সদস্যরা সার্বক্ষণিক টহলে থাকবেন। ’


মন্তব্য