kalerkantho

সমাবর্তন ‘খরা’

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সমাবর্তন ‘খরা’

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উচ্চশিক্ষার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি)। নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে প্রতিষ্ঠার তিন যুগ পার করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স তিন যুগ পেরোলেও সমাবর্তন হয়েছে মাত্র তিনবার। এক যুগেরও বেশি সময় আগে ২০০২ সালে হয়েছিল সর্বশেষ সমাবর্তন। তবে মূল সনদ বিতরণ বন্ধ নেই।

সমাবর্তন ছাড়াই শিক্ষার্থীদের হাতে মূল সনদ তুলে দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে দারুণ ক্ষুব্ধ ইবির সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। তবে দীর্ঘ এক যুগেও সমাবর্তন না হওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনীহা, অর্থ ব্যয়ে হীন মনোভাব, প্রতিকূল পরিবেশ ও প্রশাসনিক দুর্বলতাকে দায়ী করছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ১৪ বছর পর ১৯৯৩ সালের ২৭ এপ্রিল প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সে সময় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও চ্যান্সেলর খালেদা জিয়া। দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯৯ সালের ৫ ডিসেম্বর।

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও চ্যান্সেলর শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। তৃতীয় ও শেষবার ২০০২ সালের ২৮ মার্চ সমাবর্তন অনুষ্ঠান করে বিশ্ববিদ্যালয়টি। এতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এবং চ্যান্সেলর শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ ও স্বর্ণপদক তুলে দেন। এরপর এক যুগ পার হলেও নতুন করে সমাবর্তনের কোনো উদ্যোগ নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

দীর্ঘ এক যুগ কোনো সমাবর্তন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইবির শিক্ষার্থীরা। কিন্তু শিক্ষার্থীদের কথা আমলে নিচ্ছে না প্রশাসন।

এ বিষয়ে ইংরেজি বিভাগের ২০০২-০৩ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ও বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ে কর্মরত আবদুল্লাহ হিল ওয়ারিশ মিরাজ বলেন, ‘সমাবর্তন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় উৎসব। এটি একটি মিলনমেলা। ক্যাম্পাসজীবনের সুখ-দুঃখের ঘটনাগুলো মাঝেমধ্যেই স্মৃতিকাতর করে তোলে। সমাবর্তন হলে হারিয়ে যাওয়া বন্ধুদের সঙ্গে আবারও দেখা হতো। মূল সনদ হাতে পেতাম। কিন্তু কিছুই হলো না। ’

বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন না হওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে শিক্ষার্থীরা জানান, মুক্তবুদ্ধিচর্চার অভাবেই সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় না। তা ছাড়া অস্থিতিশীল জাতীয় ও ছাত্ররাজনীতিও এ ক্ষেত্রে দায়ী।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলর বিভাগের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সাবেক মহাসচিব অধ্যাপক ড. রাশিদ আশকারী বলেন, ‘সমাবর্তন হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা বাড়ানো ও ইতিহাস-ঐতিহ্য তুলে ধরার বড় একটি ক্ষেত্র। প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন নিয়মিত হওয়া প্রয়োজন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে এক যুগেও সমাবর্তন না হওয়াটা আমাদের সবার জন্য দুঃখজনক। ’

এ ব্যাপারে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল হাকিম সরকার বলেন, ‘সমাবর্তন আয়োজনের ইচ্ছা থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থানগত ও পরিবেশ-পরিস্থিতির কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। আশা করছি, অদূর ভবিষ্যতে আমরা সমাবর্তন আয়োজন করতে পারব। ’


মন্তব্য