kalerkantho

25th march banner

নতুন বাড়িতে ওঠা হলো না দম্পতির

জয়পুরহাট প্রতিনিধি   

১৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



নতুন বাড়িতে ওঠা হলো না দম্পতির

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মিজানুর রহমান (বাঁয়ে); করিমন নেছা

আজ শুক্রবার নতুন দোতালা পাকা বাড়িতে উঠবেন। এ বাড়িতে আগামী ২৫ মার্চ মেয়ের বিয়ে। গতকাল বৃহস্পতিবার পুরাতন বাড়িতে মিলাদ মাহফিল শেষ করেন। কিন্তু নতুন বাড়িতে ওঠা হচ্ছে না এই পরিবারের। এর আগেই তাঁরা চলে গেছেন না ফেরার দেশে।

গত বুধবার বিকেলে জয়পুরহাট-মোলামগাড়ি সড়কের কালাই উপজেলার বামনগ্রাম এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী মিজানুর ও তাঁর স্ত্রী করিমন নেছা মারা যান।

মিজানুরের বাড়ি জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল পৌর ধনকুড়াইল তালুকদারপাড়া মহল্লায়। প্রভাব-প্রতিপত্তির কোনো কমতি ছিল না। সচ্ছল এ দম্পতির দুই সন্তানের মধ্যে বড় ছেলে নুর এমরান শাহরিয়ার সরকার ঢাকার একটি বেসরকারি কম্পানিতে চাকরি করেন। তিনি বিবাহিত। একমাত্র মেয়ে মনিরা আখতার রুবা বগুড়ার আযিযুল হক কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষে পড়েন। সম্প্রতি ক্ষেতলাল থানা বাজারে অত্যাধুনিক একটি পাকা দ্বিতল বাড়ি তৈরি করেছেন মিজানুর। যেখানে মেয়ের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্নের পরিকল্পনা ছিল তাঁর। নতুন বাড়ির ভেতরে সব কাজ সম্পন্ন হলেও বাইরে কিছু কাজ বাকি থাকায় দ্রুত করার জন্য নির্মাণ শ্রমিকের সংখ্যা বাড়িয়েছিলেন তিনি।

কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় অকাল মৃত্যু তাঁদের সবকিছু ওলটপালট করে দিল। গত বুধবার বিকেলে তাঁদের মৃত্যুর খবর পৌঁছার পর শুধু পরিবার নয়, শোকের ছায়া নেমে আসে গোটা এলাকায়। খবর পেয়ে ঢাকা থেকে ছুটে আসেন ছেলে। বাবা-মার এ মর্মান্তিক মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না তিনি। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে শুধু কাঁদছেন আর একা একা প্রলাপ বকছেন। ভাইকে দেখে চিৎকার করে কাঁদছেন ছোট বোন। এ দুজনের কান্নায় চোখের পানি ধরে রাখতে পারছে না তাঁদের স্বজন, হিতাকাঙ্ক্ষী ও প্রতিবেশীরা।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় ক্ষেতলাল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তাঁদের জানাজায় মানুষের ঢল নামে। জানাজায় ২৫ মার্চ বিয়ের অনুষ্ঠান বাতিল করে ২৬ মার্চ নিহতদের কুলখানির জন্য মুসল্লিদের উপস্থিত হওয়ার জন্য বলা হয়। জানাজা শেষে ধনকুড়াইল গ্রামে তাঁদের পারিবারিক কবরস্থানে দুজনকে কবর দেওয়া হয়। দুর্ঘটনার পর বুধবার বিকেল থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জয়পুরহাট-মোলামগাড়ি সড়কে বাস যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। প্রতিবেশী স্কুল শিক্ষক মহিমা বেগম বলেন, ‘বুধবার সকালে ওই দুজনের সঙ্গে দেখা হয়। মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য আমাকে নিমন্ত্রণ করেন। প্রতিদিন তাঁদের সঙ্গে দেখা হতো। এখন তাঁরা নেই, এটা ভাবতেও কষ্ট হচ্ছে। ’ নিহত করিমনের ছোট ভাই ক্ষেতলালের ভাশিলা গ্রামের আহম্মেদ আলী বলেন, ‘দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ছুটে গিয়ে তাঁদের মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে আসি। ’

মিজানুরের ছেলে নুর এমরান শাহরিয়ার বলেন, ‘বাবা-মার কাছে ছোট বোনকে রেখে এত দিন ঢাকায় ছিলাম। কোনো দুশ্চিন্তা ছিল না। এখন বোনকে একা রেখে আমি ঢাকায় কিভাবে থাকব?’


মন্তব্য