kalerkantho

25th march banner

চাঁদপুর

মোতালেবের যত কীর্তি

চাঁদপুর প্রতিনিধি   

১৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



চাঁদপুরের কচুয়ার আশ্রাফপুর গ্রামে মূর্তিমান এক আতঙ্কের নাম মোতালেব। এই মাদক ব্যবসায়ীর অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আশ্রাফপুর গ্রামের মৃত হাসান আলীর বড় ছেলে আব্দুল মোতালেব গত ২০ ফেব্রুয়ারি একই বাড়ির এক গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এর প্রতিবাদ করলে ওই গৃহবধূর শাশুড়িকে পিটিয়ে জখম করে। এর কিছুদিন আগে তিন সন্তানের এক মাকে মারধর করে সে। এসব ঘটনার কোনো বিচার পায়নি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। বেপরোয়া জীবন যাপন করা মোতালেব নারীদের মিথ্যা প্রলোভনে ফেলে একাধিক বিয়ে করেছে। পরে যৌতুক চেয়ে না পেয়ে নির্যাতন চালানোর কারণে তার দ্বিতীয় স্ত্রী শাহনাজ আক্তার শানু সংসার ছাড়তে বাধ্য হন। এ ঘটনায় তিনি চাঁদপুরের আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে গ্রামের অনেকেই জানায়, মোতালেব একসময় যুবদলের ক্যাডার ছিল। ক্ষমতার পটপরিবর্তনে সে এখন আওয়ামী লীগের লোকজনের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে চলছে। তার ঘরে প্রায়ই রাতে মাদকের আসর বসে। বিষয়টি জেনেও অনেকে ভয়ে চুপ থাকে। আবার কেউ কেউ আর্থিক সুবিধা পেয়ে তার পক্ষ নেয় বলে স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। তা ছাড়া স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল মাদক ব্যবসার কাজে তাকে ব্যবহার করে বলেও এলাকায় আলোচনা রয়েছে। স্থানীয় এক ইউপি সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মোতালেবের অপকর্ম নিয়ে কয়েকবার সালিস-বৈঠক হয়েছে। কিন্তু তাকে সতর্ক করার পরও সে সংশোধন হয়নি। দাপুটে ও সন্ত্রাসী প্রকৃতির হওয়ায় আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মোতালেবের কদর এখন অনেক প্রার্থীর কাছে। তাই তারা কেউই তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে চান না। এ অবস্থায় ঘটনার শিকার অনেকেই এখন অসহায়।

এ ব্যাপারে কচুয়া উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. হেলালউদ্দিন বলেন, ‘আবদুল মোতালেবের বিরুদ্ধে গ্রামের মানুষজনের কাছ থেকে অসংখ্য অভিযোগ পেয়েছি। তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে বলা হয়েছে। ’

তবে আশ্রাফপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাবেক বিএনপি নেতা মাসুদ এলাহী সুভাষ অভিযুক্ত মোতালেবের পক্ষ নিয়ে বলেন, ‘মোতালেব তেমন খারাপ ছেলে না। আপনি যার কথা বলছেন, সে অন্য মোতালেব হবে। ’ তবে পরে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তার বাড়ি থেকে আমার বাড়ি অনেক দূরে। সে কেমন ছেলে তা আমি জানি না। তার বাড়িতে মাদকের আসর বসে কি না তা আমার পক্ষে জানা সম্ভব না। ’

এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য অভিযুক্ত মোতালেবকে ফোন করা হলে সে বলে, ‘চিনি না জানি না, আপনাকে আমি কী বলব। ’ কয়টি বিয়ে করেছেন জানতে চাইলে সে বলে, ‘সাত-আটটি করেছি। আপনার কোনো অসুবিধা আছে?’ একপর্যায়ে সে বলে, ‘আপনি যা খুশি লিখে দেন। দেখি আপনি আমার কী করতে পারেন। আমিই আপনার বিরুদ্ধে মামলা করব। আপনি আমার কিছুই করতে পারবেন না। ’

কচুয়া থানার ওসি ইব্রাহিম খলিল বলেন, মোতালেবের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মন্তব্য