kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ জানুয়ারি ২০১৭ । ৪ মাঘ ১৪২৩। ১৮ রবিউস সানি ১৪৩৮।


ভৈরব শহর কাঁপাচ্ছে ‘আরএনএবিএস’

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি   

১৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



কিশোরগঞ্জের ভৈরব শহরজুড়ে ‘আরএনএবিএস’ নামের এক বাহিনীর নানামুখী আক্রমণে দিশেহারা স্থানীয় লোকজন। এমনকি তাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও। সম্প্রতি ওই বাহিনীর হাতে খুন হন উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি।

এ অবস্থায় দিশেহারা ভৈরবের মানুষ সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়া শুরু করল। এর অংশ হিসেবে মঙ্গলবার শহরের ভৈরবপুর ঈদগাহ মাঠে জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল সাড়ে ৫টায় শুরু হয়ে রাত ৯টা পর্যন্ত চলা জনসভাটি ক্রমে প্রতিবাদ সভায় রূপ নেয়। স্থানীয় পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট ফখরুল আলম আক্কাছের আহ্বানে ওই সভায় যোগ দেয় আওয়ামী লীগ, বিএনপি, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি, পুলিশ, র্যাবসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

পুলিশ সূত্রের খবর, ‘আরএনএবিএস’ বাহিনীর প্রথম সারির সদস্যসংখ্যা ছয়জন। ওই ছয়জনের নামের প্রথম অক্ষর দিয়ে রাখা হয়েছে বাহিনীর নাম। তাদের প্রত্যেকের ডান হাতে ফুলকি এঁকে ‘আরএনএবিএস’ শব্দটি লেখা আছে। ওই বাহিনীর সহযোগী সদস্য রয়েছে ৭২ জন। শহর অঞ্চলে ঘটে যাওয়া প্রতিটি ছিনতাই, খুন, মাদক ব্যবসার সঙ্গে এ বাহিনী কোনো না কোনোভাবে যুক্ত রয়েছে। গত সোমবার রূপক নামের ‘আরএনএবিএস’ বাহিনীর এক সদস্য গ্রেপ্তার হয়। পুলিশের কাছে তার দেওয়া জবানবন্দিতে বেরিয়ে আসে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য।

মঙ্গলবার দুপুরে রূপক কিশোরগঞ্জে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতেও এসব কথা স্বীকার করেছে। সেই সঙ্গে স্বীকার করেছে উপজেলা ছাত্রলীগ সহসভাপতি তরুণ আইনজীবী ইসমাঈল হোসেন পলাশ খুনের দায়ও। পলাশের কাছ থেকে ছিনতাই করতে গিয়ে ‘আরএনএবিএস’ বাহিনীর চার সদস্য মিলে তাঁকে খুন করে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গত দেড় বছরে শহরের নাটাল মোড়, নদীর পাড়, মাতৃমঙ্গল মন্দির এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে দুই শতাধিক, ছিনতাইকারীদের হাতে খুন হয়েছেন দুজন। ছিনতাইয়ের কবলে পড়েছেন ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, রাজনীতিক এমনকি প্রশাসনের লোকজনও।

এদিকে মঙ্গলবারের ছিনতাই ও নৈরাজ্যবিরোধী জনসভা থেকে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা দেন নেতারা। তাঁদের ঘোষণা অনুযায়ী, ‘ভৈরবে হয়তো সন্ত্রাসীরা থাকবে, নইলে আমরা থাকব। ’

ভৈরব থানার ওসি বদরুল আলম তালুকদার বলেন, আরএনএবিএসের প্রতিটি সদস্যের বয়স ২০ বছরের নিচে। এখনই দমন করা না গেলে ভবিষ্যতে এরা দেশের জন্য হুমকি হয়ে উঠবে। এ বাহিনী নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালাচ্ছে।

পৌর মেয়র ফখরুল আলম আক্কাছ বলেন, ওই বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত ছেলেদের অভিভাবকদের বলা হবে, তারা যেন সন্তানকে পুলিশে ধরিয়ে দেয়। নইলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মন্তব্য