kalerkantho


সোনাইমুড়ীতে সংঘর্ষে তিনজন নিহত

হিজবুত তাওহীদের ১১৩ জন জেলে, এলাকা থমথমে

নোয়াখালী প্রতিনিধি   

১৬ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় হিজবুত তাওহীদের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষে তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আবারও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। মামলার ভয়ে গ্রামের অধিকাংশ লোক গা ঢাকা দিয়েছে।

এদিকে উপজেলার আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক সভায় ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দেন।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম আশরাফুজ্জামান জানান, গ্রামবাসীর সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হিজবুত তাওহীদের ১১৩ জনকে উদ্ধার করে জেলা সদরের সুধারাম থানা হেফাজতে রাখা হয়। সেখান থেকে আহত ৪৭ জনকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতলে চিকিৎসা দেওয়া হয়। গুরুতর আহত হিজবুত তাওহীদের সদস্য গোলাম কবির (৩২), আবদুল আজিজ (২৬) ও বাবুল পাটোয়ারীকে (৩৩) পুলিশ প্রহরায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামান জানান, গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে হিজবুত তাওহীদের ১১৩ কর্মী-সমর্থককে জ্যেষ্ঠ বিচার বিভাগীয় হাকিম মাশফিকুল ইসলামের আদালত পাঠানো হয়। আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।

গত সোমবার দুপুর থেকে সোনাইমুড়ীর চাষীরহাট ইউনিয়নের পোরকরা গ্রামে হিজবুত তাওহীদের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষ হয়। হিজবুত তাওহীদ আলাদা মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার ঘটনা থেকে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। সংঘর্ষে সংগঠনটির দুই কর্মী ও এক গ্রামবাসী নিহত হন। আহত হয় অর্ধশতাধিক। মজিবুল হক নামের ওই গ্রামবাসীর লাশ গতকাল মঙ্গলবার দাফন করা হয়েছে।

এ ছাড়া নিহত হিজবুত তাওহীদের দুই কর্মীর পরিচয় জানা গেছে। তাদের মধ্যে ইব্রাহিম রুবেলের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এবং সোলেমান খোকনের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়ায়।

সোনাইমুড়ী থানার ওসি কাজী হানিফুল ইসলাম জানান, সোমবারের ঘটনায় থানায় আলাদা দুটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। গ্রামের অধিকাংশ লোকজন বাড়িঘরে দেখা যায়নি। তারা মামলার ভয়ে অন্য জায়গায় রয়েছে।

ওসি আরো জানান, হিজুবত তাওহীদের দুই কর্মীর লাশ ময়নাতদন্ত শেষে তাঁদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গ্রামের বাসিন্দা মজিবুল হকের লাশ স্বজনদের অনুরোধে বিনা ময়নাতদন্তে দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

নোয়াখালী-২ (চাটখিল-সোনাইমুড়ী) আসনের সংসদ সদস্য এইচ এম ইব্রাহিম গতকাল দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং সেখানে এক সমাবেশ করেন। সমাবেশে তিনি বলেন, যার যার ধর্ম সে পালন করবে, এতে বাধা দেওয়ার অধিকার কারো নেই। কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেয় সেদিকে খেয়াল রাখার জন্য এলাকাবাসীকে নির্দেশ দেন তিনি। যদি কেউ ঘটে যাওয়া ঘটনার পুনরাবৃত্তি করার চেষ্টা করে তাকে আইনের মুখোমুখি হতে  হবে বলে হুঁশিয়ার করে দেন সংসদ সদস্য। এ বিষয়ে তিনি পরে উপজেলা মিলনায়তনে আইনশৃঙ্খলা সভায় একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন।

স্থানীয় লোকজন জানায়, পোড়করা গ্রামের বাসিন্দা নুরুল হকের এক ছেলে লন্ডনে থাকাকালে বায়েজীদ খান পন্নির ভাইয়ের মেয়ের সঙ্গে বিয়ে হয়। পরে তিনি হিজবুত তাওহীদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন।


মন্তব্য