kalerkantho

শনিবার । ২১ জানুয়ারি ২০১৭ । ৮ মাঘ ১৪২৩। ২২ রবিউস সানি ১৪৩৮।


বিএনপি প্রার্থী হাসপাতালে সমর্থকরা এলাকাছাড়া

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি   

১৬ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বিএনপি প্রার্থী হাসপাতালে সমর্থকরা এলাকাছাড়া

হামলায় আহত হয়ে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন চকরিয়া পৌর নির্বাচনে বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী নুরুল ইসলাম হায়দার। ছবি : কালের কণ্ঠ

কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার নির্বাচন আগামী ২০ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সংঘাত-সংঘর্ষ বেড়েই চলেছে। ফলে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, মেয়র পদে দুই প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি ও হামলা-সংঘর্ষের একাধিক ঘটনা ঘটছে। সরকারদলীয় মেয়র প্রার্থী ও তাঁর কর্মীরা বিএনপি প্রার্থীর প্রচারণায় বাধা, বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও হুমকি দেওয়ার কারণে তাঁরা এলাকা ছেড়েছেন বলে জানা গেছে।

এসব ঘটনা জানার পরও কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।

এ ব্যাপারে সংবাদ সম্মেলন করে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরী খোকন মিয়া অভিযোগ করেছেন, গত সোমবার সন্ধ্যায় ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভরামুহুরী এলাকায় ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপি প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র নুরুল ইসলাম হায়দার গণসংযোগ শেষে পথসভা করছিলেন। এ সময় সরকারদলীয় প্রার্থী আলমগীর চৌধুরীর লোকজন সেখানে সশস্ত্র হামলা চালায়। এতে নুরুল ইসলাম হায়দার, জেলা বিএনপির সহসভাপতি এনামুল হক ও মিজানুর রহমান চৌধুরীসহ কমপক্ষে ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে মেয়রপ্রার্থী নুরুল ইসলাম হায়দারকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এর আগে রবিবার সকালে হায়দারের স্ত্রী গণসংযোগে গেলে তাঁকেসহ মহিলা দলের দুই নেত্রীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আলমগীর চৌধুরী।

তিনি আরো জানান, দফায় দফায় বিএনপি প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হামলা ও বসতবাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনায় তাদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সরকার দলের প্রার্থী ও তাঁর কর্মীদের হুমকিতে অনেক নেতাকর্মী ইতিমধ্যে এলাকা ছেড়েছেন। এ ছাড়া আসামি ধরার নামে পুলিশও বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছেন। এসব ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও নির্বাচন কমিশন বা তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কোনো ধরনের তৎপরতা নেই।

এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মোহাম্মদ ছাবের জানান, ‘হায়দারের মাথা, বুকে ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তিনি বুকে ব্যথা অনুভব করছেন। তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে চমেকে পাঠানো হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী আলমগীর চৌধুরী সংবাদ সম্মেলন করে জানান, সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন হলে বিএনপি প্রার্থীর শোচনীয় পরাজয় হবে। তা ছাড়া গত পাঁচ বছরে লুটপাটের মাধ্যমে নিজে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। জনগণ উপযুক্ত সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তাই এবারের নির্বাচনেও ভোটারদের অনুকম্পা পাওয়ার চেষ্টার অংশ হিসেবে একের পর এক পরিকল্পিত ঘটনার জন্ম দিচ্ছেন বিএনপি প্রার্থী ও তার নেতাকর্মীরা।

চকরিয়া থানার ওসি মো. জহিরুল ইসলাম খান বলেন, ‘মামলার আসামি ধরার জন্য নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। এখানে কে বিএনপি তা দেখার দায়িত্ব পুলিশের নয়। মামলার আসামি হলে তাকে ধরতে পুলিশ অভিযান চালাবে। ’

রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মেছবাহ উদ্দিন বলেন, ‘বিএনপি প্রার্থীর পথসভায় হামলার ঘটনা শোনার পর কক্সবাজার সদর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম ও থানার ওসিকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছি। ’


মন্তব্য