kalerkantho


আওয়ামী লীগ ও জাসদ মুখোমুখি

প্রায়ই ঘটছে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া   

১৬ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



আওয়ামী লীগ ও জাসদ মুখোমুখি

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে কয়েক দফা হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। অবশ্য তা ঘটছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তাদের জোট ১৪ দলের অন্যতম শরিক জাসদের মধ্যে।

কয়েক দিন আগে প্রশাসনের সঙ্গে প্রার্থীদের মতবিনিময় সভায়ও দুই পক্ষের প্রার্থীরা এমন অভিযোগ তুলেছেন। উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে একের পর এক সহিংস ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন এসবকে দেখছে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগামী ২২ মার্চ প্রথম ধাপে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় ১১টি ইউনিয়নের ১০১টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এখানে দুই লাখ এক হাজার ৯৬৮ জন ভোটার ভোট দেবেন। এদিকে প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। সর্বশেষ গতকাল সোমবারও উপজেলার ছাতিযান ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আওয়ামী লীগের জসিমউদ্দিন বিশ্বাস ও জাসদের জালাল উদ্দিনের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে জাসদ ও আওয়ামী লীগের মধ্যে যে তিক্ত সম্পর্ক বিদ্যমান, এটি তারই বহিঃপ্রকাশ। তাঁরা জানান, কয়েক দিন আগে মিরপুর উপজেলার আমবাড়িয়া ইউনিয়নের একটি গ্রামে প্রচারণা চালাতে গিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর ক্যাডারদের হামলার শিকার হন জাসদ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী মশিউর রহমান মিলন ও তাঁর লোকজন। তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আব্দুল বারী টুটুল।

এলাকাবাসী ও পুলিশের পক্ষ থেকে জানা গেছে, শুধু আমবাড়িয়া ইউনিয়নেই নয়, কুর্শা, তালবাড়িয়া, মালিহাদ, বারুইপাড়া, সুতাইল ও নতুন সুতাইল ইউনিয়নেও কিছু ঘটনার অভিযোগ প্রার্থীদের কাছ থেকে এসেছে। তবে স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, কোনো পেশিশক্তিকে ভয় পেয়ে নয়, যোগ্য প্রার্থীকেই ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করবেন তাঁরা।

এ ব্যাপারে আমবাড়িয়া ইউনিয়নের জাসদ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মশিউর রহমান মিলন বলেন, ‘আব্দুল বারী টুটুল ও তার ক্যাডার বাহিনী কয়েক দফা আমার ও দলীয় কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আমরা বিষয়গুলো পুলিশকে জানিয়েছি। কিন্তু পুলিশ এলে তারা পালায়, পরে তারা আগের অবস্থায় চলে আসে। ’

আমবাড়িয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল বারী টুটুল বলেন, ‘চেয়ারম্যান প্রার্থী মশিউর রহমান মিলন যে অভিযোগ করেছেন তা সঠিক নয়। বরং তিনি জাসদ গণবাহিনীর সন্ত্রাসীদের নিয়ে এলাকায় সন্ত্রাস চালাচ্ছেন। ’

তবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেও জাসদ ও আওয়ামী লীগের নেতারা দাবি করছেন মহাজোটের শরিকদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী বলেন, ‘তেমন কিছু ঘটেছে বলে আমার মনে হয় না। তবে প্রার্থীরা অবশ্যই সহনশীল আচরণ করবেন বলে আমি আশা রাখি। ’

অন্যদিকে কুষ্টিয়া জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম স্বপন জানান, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও তাঁদের লোকজন প্রায়ই জাসদের প্রার্থী ও তাঁর সমর্থকদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। এটা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য একটা অসুভ সংকেত।

এদিকে দেশের একটি বড় দল হিসেবে আমবাড়িয়া ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী (লুৎফর রহমান) থাকলেও এখানে লড়াই হবে মূলত সাবেক চেয়ারম্যান জাসদ প্রার্থী মশিউর রহমান মিলন ও বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল বারী টুটুলের মধ্যে। কেননা তাঁরা দুজনই দীর্ঘদিন ধরে এ ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে আসছেন। শুধু তা-ই নয়, মিরপুরের ১১টি ইউনিয়নের আটটিতেই বিএনপির প্রার্থীরা তেমন আলোচনায় নেই। তবে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তাঁরা বিজয়ী হওয়ার আশা করছেন।

এ ব্যাপারে আমবাড়িয়া ইউনিয়নে বিএনপির চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী লুৎফর রহমান বলেন, ‘ক্ষমতাসীন ও তাদের শরিকরা নির্বাচনের আগেই যে হারে হানাহানিতে মেতে উঠেছে, তাতে আমি তো বটেই সাধারণ ভোটাররাও খুবই শঙ্কিত। ’ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন জানান, ‘মিরপুরের অধিকাংশ ইউনিয়নে আমাদের দলীয় প্রার্থী রয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও তাদের লোকজন আমাদের প্রার্থীদের নানাভাবে হয়রানি করছে, হুমকি দিচ্ছে। তাতে দিনকে দিন সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ’

কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন বলেন, ‘আমরা কুষ্টিয়ার মিরপুরে যেকোনো মূল্যে সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চাই। আর সেই লক্ষ্যে এরই মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব প্রার্থীর সঙ্গে মতবিনিময় সভা করা হয়েছে। দু-একটি যে ঘটনা ঘটেছে, তা বিচ্ছিন্ন। ’


মন্তব্য