kalerkantho

25th march banner

যারা পড়ে, তারাই পড়ায়

জাহাঙ্গীর হোসেন, রাজবাড়ী   

১৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



যারা পড়ে, তারাই পড়ায়

রাজবাড়ী জেলা সদরের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল কাশিমনগর গ্রামের ফুরসা হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণিতে পড়াচ্ছে ছাত্রী আশা খাতুন। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজবাড়ী জেলা সদরের প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের একটি গ্রাম কাশিমনগর। ওই গ্রামের ফুরসা হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। শ্রেণিকক্ষ থেকে খানিকটা দূরে দাঁড়িয়ে বোঝা গেল, কেউ একজন কবিতার একেকটি লাইন পড়ছে; আর বাকিরা তা অনুকরণ করছে। এরপর ভেতরে গিয়ে দেখা গেল, শ্রেণিকক্ষে কোনো শিক্ষক নেই। বই হাতে ছাত্রী আশা খাতুন অন্যদের পড়াচ্ছে।

এটি গত শনিবারের দৃশ্য। কিন্তু সপ্তাহজুড়ে এ দৃশ্যের কোনো হেরফের হয় না। তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী আশার ভাষ্য, ‘হেড ম্যাডাম ক্লাসে এসেছিলেন। রোল কল করে, পড়া দিয়ে অন্য ক্লাসে গেছেন। আমাকে বলেছেন সবাইকে পড়াতে, তাই আমি পড়াচ্ছি। আমরা প্রতিদিন এভাবেই পড়াশোনা করি। ম্যাডাম তো একা, তাই তাঁর কিছু করার নেই। ’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিদ্যালয়টিতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট চলছে। টানা দুই মাস মাত্র একজন শিক্ষক সব ক্লাস নিয়েছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে প্রেষণে একজন শিক্ষক যোগ দিয়েছেন। এখন ওই দুই শিক্ষক মিলে শিশু, প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস নিচ্ছেন। যে কারণে একসঙ্গে তাঁরা সব ক্লাসে পড়াতে পারেন না, সহযোগিতা নিতে হয় মেধাবী শিক্ষার্থীদের। তবে বিদ্যালয়ের ফল কিন্তু শিক্ষক সংকটের কাছে হার মানেনি। ২০১১ সাল থেকে সমাপনী পরীক্ষায় বিদ্যালয়টিতে পাসের হার শতভাগ।

কথা হয় বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফাতেমা খাতুনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘১৯৭২ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে পদ্মার ভাঙনে ২০০৪ সালে স্থানান্তর করা হয়। এখন নদী থেকে বেশ খানিকটা দূরে কাশিমনগর গ্রামে টিনের ঘরে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। বিদ্যালয়ে আসতে প্রায় আধা কিলোমিটার ক্ষেতের আইল ধরে হাঁটতে হয়। কোনো রাস্তা নেই। আমি ১৯৯৯ সালের ডিসেম্বর থেকে এখানে আছি। ’

ফাতেমা খাতুন জানান, গত ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত শিক্ষক বলতে তিনি ও প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ ছিলেন। তবে আবুল কালাম আজাদ অবসরে যাওয়ার পর তিনি বিপাকে পড়ে গিয়েছিলেন। পাঁচজন শিক্ষকের পদ থাকলেও গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে তিনি একা চালিয়েছেন। যখন কোনো কাজে আসতে পারেননি, দ্বারস্থ হতে হয়েছে আবুল কালাম আজাদের। বর্তমানে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৫৯।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি আরজু প্রমাণিক বলেন, ‘ফাতেমা খাতুনের প্রচেষ্টায় স্কুলটি এখনো চলছে। কর্তৃপক্ষ এর আগে একাধিক শিক্ষককে এখানে বদলি করেছে। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় কেউ থাকেননি। শিক্ষক না থাকায় এখানে শিক্ষা কার্যক্রম চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা নিজেদের ক্লাস নিজেরাই চালাচ্ছেন। ’

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম জানান, ‘মাত্র একজন শিক্ষক স্কুলটি চালাচ্ছেন—এমন কথা জানার পর রবিবার প্রেষণে এক শিক্ষককে সেখানে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ’ তাঁর দাবি, পুরো জেলাতেই শিক্ষক-সংকট রয়েছে।


মন্তব্য