kalerkantho

৩৬ গুণ টাকা আদায়

দীঘিনালায় এসএসসি ব্যবহারিক পরীক্ষা

দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি   

১৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে কেন্দ্র ফির নামে বাড়তি টাকা আদায় করা হচ্ছে। ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য মোট ৫০ টাকা নেওয়ার নিয়ম থাকলেও আদায় করা হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৬ গুণ বেশি টাকা।

এই অভিযোগ করেছে শিক্ষার্থীরা। আর কেন্দ্রসংশ্লিষ্ট অনেকেই অভিযোগ অস্বীকার করেননি। তাঁরা বলেছেন, ওই বাড়তি টাকা নেওয়া রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। কোনো কোনো শিক্ষক ব্যবহারিক পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেওয়ার কথা বলে শিক্ষার্থীর কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সূত্র জানায়, প্রতি পরীক্ষার্থীর কেন্দ্র ফি ২৫০ টাকা। যারা ব্যবহারিক পরীক্ষা দেবে তাদের বাড়তি যোগ হবে ৫০ টাকা। পাঁচ-ছয়টি ব্যবহারিক পরীক্ষা দিলেও বাড়তি ফি ৫০ টাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে। সে হিসাবে প্রতি পরীক্ষার্থীর কেন্দ্র ফি ৩০০ টাকা। এটি পরীক্ষা শুরুর আগেই পরিশোধ করা হয়েছে।

কিন্তু এখন কেন্দ্রে প্রতি ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ৩০০ টাকা করে। এই বাড়তি অর্থ আদায় করা হচ্ছে উপজেলার তিনটি পরীক্ষা কেন্দ্রে। এতে সবচেয়ে বড় বিপাকে পড়েছে দরিদ্র পরিবারের পরীক্ষার্থীরা। এসব কেন্দ্রের কোনো কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাঁরা ব্যবহারিক পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেওয়ার কথা বলে কিছু পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে ১০০-২০০ করে টাকা নিয়েছেন।

পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থীকে চারটি ব্যবহারিক পরীক্ষা অবশ্যই দিতে হয়। সেগুলো হলো পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান এবং ছেলেদের কৃষি শিক্ষা ও মেয়েদের গার্হস্থ্যবিজ্ঞান। এ ছাড়া শিক্ষার্থীরা পছন্দ অনুযায়ী নিতে পারে উচ্চতর গণিত বা কম্পিউটার শিক্ষা। মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক পরীক্ষা কম।

গত রবিবার দীঘিনালা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে জীববিজ্ঞান পরীক্ষা দিয়ে ফেরার সময় নাজমুল, সুমাইয়া, হাসানসহ অনেক শিক্ষার্থীই জানায়, প্রতিটি ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য তাদের কাছ থেকে ৩০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। এ টাকা সংগ্রহ করতে তাদের পরিবারের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে।

গতকাল সোমবার দীঘিনালা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী শান্তিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক তমাল দাশ লিটন বলেন, গতকাল কৃষি শিক্ষা ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীরা ৫০-৬০ টাকা করে দিয়েছে। পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, তিনিও শুনেছেন কোনো কোনো শিক্ষককে কিছু পরীক্ষার্থী এ জন্য জোর করে টাকা দিয়েছে।

বাবুছড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং পরীক্ষা কেন্দ্রসচিব সত্যেন্দ্রিয় চাকমা ৩০০ টাকা করে নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘বিষয়ের ওপর নির্ভর করেই টাকা নেওয়া হয়েছে। ’

ছোটমেরুং উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং কেন্দ্রসচিব মো. মোখলেছুর রহমানও বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘বাড়তি টাকা নিতে নিষেধ করা হয়েছিল; তবুও নেওয়া হয়েছে বলে আমি শুনেছি। আসলে এটি এখন একটি রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। ’

তবে দীঘিনালা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং কেন্দ্রসচিব রাজীব ত্রিপুরা বলেন, এ রকম হলে তা বোর্ড সিদ্ধান্তের বাইরে কাজ করা হবে। এ রকম খবর তাঁর জানা নেই। এটি হয়ে থাকলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


মন্তব্য