kalerkantho


ফুরফুরে আ. লীগ বিপাকে বিএনপি

কুমিল্লা (দক্ষিণ) প্রতিনিধি   

১৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ফুরফুরে আ. লীগ বিপাকে বিএনপি

আগামী ২০ মার্চ কুমিল্লার নাঙ্গলকোট পৌরসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে। এ নির্বাচনে দলের একক প্রার্থী থাকায় ফুরফুরে অবস্থানে রয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। তবে বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী থাকায় বিপাকে রয়েছে বিএনপির নেতাকর্মীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তফসিল ঘোষণার পর পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল (লোটাস কামাল) উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আবদুল মালেককে দলের মনোনয়ন দেন। উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি মোবাশ্বের আলম ভুঁইয়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম মজুমদারকে দলের মনোনয়ন দেন। তবে এ সিদ্ধান্তের বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা যুবদলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ওরফে ছোট নয়ন। আনোয়ার হোসেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল গফুর ভুঁইয়ার অনুসারী। শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ইতিমধ্যে আনোয়ারকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে জেলা যুবদল। এ ছাড়া নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হয়েছেন জাতীয় পার্টির কাজী জামাল উদ্দিন ও ইসলামী আন্দোলনের ইসমাঈল হোসেন।

পৌর বিএনপি সূত্র জানায়, এ নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণার আগে মোবাশ্বের আলম ভুঁইয়া একজনকে এবং আবদুল গফুর ভুঁইয়া আরেকজনকে প্রার্থী করার জন্য তৎপরতা চালান। সর্বশেষ মোবাশ্বের আলম ভুঁঁইয়ার অনুসারী জাহাঙ্গীর আলম মজুমদারকে কেন্দ্র মনোনয়ন দেয়। পরে ক্ষোভের কারণে প্রার্থী হন আনোয়ার হোসেন।

উপজেলা ও পৌর বিএনপির অন্তত পাঁচজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, জাহাঙ্গীর আলম মজুমদারের চেয়ে দলে আরো যোগ্য ও ত্যাগী প্রার্থী ছিলেন। আর প্রার্থী হিসেবে সব দিক থেকে এগিয়ে ছিলেন যুবদলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন। কিন্তু তিনি আবদুল গফুর ভুঁইয়ার অনুসারী হওয়ায় তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। তবে দুই ভুঁইয়ার দ্বন্দ্বে যোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন না পাওয়ায় দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয় বিএনপিকর্মী আবদুল মান্নান ও মোক্তার হোসেন বলেন, একসময় নাঙ্গলকোট বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল। আজ দুই ভুঁইয়ার দ্বন্দ্বে এখানে বিএনপি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। এখন আনোয়ারকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলে কি এর সমাধান হবে? এতে বিএনপি আরো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কারণ আনোয়ার যে ভোটগুলো পাবেন তা বিএনপির। এতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী খুব সহজে জয়লাভ করবেন।

নাঙ্গলকোটের বাসিন্দা ও কুমিল্লা জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি শাহাদাত হোসেন জাবেদ বলেন, ‘আমাদের একক প্রার্থী। সব নেতাকর্মী দলীয় প্রার্থীকে জেতাতে দিনরাত কাজ করছে। আশা করি, আমাদের প্রার্থী বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন। ’

আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবদুল মালেক বলেন, ‘আমি মেয়র নির্বাচিত হলে নাঙ্গলকোট পৌরবাসীর সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করব। পৌরবাসীর সার্বিক উন্নয়নে কাজ করে যাব। ’

বিএনপির প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম মজুমদার বলেন, ‘আমাকে নির্বাচিত করলে একে একটি আধুনিক পৌরসভায় রূপান্তর করব। পৌরবাসীর জীবনমান উন্নয়নে চেষ্টা চালিয়ে যাব। মাদকের হাত থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করাই হবে আমার প্রধান কাজ। ’

বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আনোয়ার হোসেন ওরফে ছোট নয়ন বলেন, ‘তৃণমৃল নেতাকর্মীরা আমার পক্ষে রয়েছে। বহিষ্কার নিয়ে এখন ভাবছি না। আমি এখন স্বতন্ত্র প্রার্থী। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমার বিজয় সময়ের ব্যাপার মাত্র। ’

উল্লেখ্য, নাঙ্গলকোট পৌরসভার মোট ভোটার সংখ্যা ১৭ হাজার ২১৮। এর মধ্যে পুরুষ আট হাজার ৫৯৪ এবং নারী আট হাজার ৬২৪ জন। মোট ৯টি ওয়ার্ডে সাধারণ সদস্য হিসেবে ২২ জন, সংরক্ষিত তিনটি আসনের মধ্যে দুটিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় বাকি একটি আসনে দুজন প্রার্থী এ নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।


মন্তব্য