kalerkantho


আ. লীগের প্রার্থী তালিকায় ‘বিএনপি সমর্থক’

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া   

১৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



আ. লীগের প্রার্থী তালিকায় ‘বিএনপি সমর্থক’

বগুড়ার ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীর তালিকায় বিএনপির এক সমর্থক আছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ক্ষেত্রে টাকা-পয়সা লেনদেন হওয়ার কথাও শোনা যাচ্ছে। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বিষয়টি লিখিত অভিযোগ আকারে দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে জানিয়েছেন। তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

গোসাইবাড়ী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় আছেন দলের স্থানীয় সহসভাপতি মাসুদুল হক বাচ্চু, যুগ্ম সম্পাদক আশরাফুল কবির বিপুল ও সদস্য সাংবাদিক জিয়া শাহীন। তালিকায় আছেন শামছুল বারি নামের একজন। দলীয় মনোনয়নপত্রে তিনি নিজেকে আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু দলের ভেতর থেআ. লীগের প্রার্থী তালিকায় ‘বিএনপি সমর্থক’কে অভিযোগ উঠেছে, তিনি আওয়ামী লীগের কেউ নন। দলের কোনো কর্মসূচিতেও কোনো দিন আসেননি। ওয়ার্ড কমিটির সদস্যও নন। টাকার বিনিময়ে তিনি আওয়ামী লীগের দলীয় তালিকায় ঢুকেছেন। সবচেয়ে বড় অভিযোগ, তিনি এলাকায় বিএনপি সমর্থক হিসেবে পরিচিত।

কয়েক দিন আগে সংবাদ সম্মেলন করে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মাসুদুল হক বাচ্চু বলেন, ‘গোসাইবাড়ী ইউনিয়নের একমাত্র গ্রাম জোড়খালী। ওই গ্রামে তালিকাভুক্ত কয়েকজন রাজাকার আছে। শামছুল বারির আত্মীয়রাও বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতিতে জড়িত। তাঁর বাড়িও ওই গ্রামে। শামছুল বারি মনোনয়ন নিতে গোসাইবাড়ী ইউনিয়ন ওলামা দলের সভাপতি ও বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ফিরোজের নেতৃত্বে মিছিল নিয়ে বর্ধিত সভায় আসেন। এ দৃশ্য জেলা-উপজেলা নেতারা দেখেছেন। এর পরও তাঁকে কিভাবে তালিকায় রাখা হলো?’

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আশরাফুল কবির বিপুল বলেন, ‘দলের অনেকেই প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা থাকলেও পারেননি। অথচ দল করে না এমন ব্যক্তিকে ফরম দেওয়া হয়েছে। এটা টাকা-পয়সার লেনদেন ছাড়া আর কী হতে পারে!’

তবে ব্যবসায়ী শামছুল বারি নিজেকে বিএনপির কর্মী অস্বীকার করে বলেন, ‘প্রার্থী বাছাইয়ের আগে দলীয় কার্যালয়ে ভোট হয়। তাতে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটির ৮৩ জন ভোট দেন। আমি পেয়েছি ৪৪টি ভোট। বিএনপি করলে এত ভোট পেতাম না। ’ টাকার বিনিময়ে নৌকা প্রতীক কেনার অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি।

গোসাইবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হান্নান বলেন, ‘শামছুল দলের কোনো পদে নেই সত্য, তবে তিনি ব্যবসায়ী এবং সমর্থক হিসেবে কাজ করছেন। এ কারণে তিনি মনোনয়ন পাওয়ার যোগ্য। ’


মন্তব্য