kalerkantho


মঠবাড়িয়ায় বিএনপির ৩৭ নেতার পদত্যাগ

মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, পিরোজপুর   

১৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ১০টি ইউনিয়নে বিএনপির চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বাছাই বা মনোনয়নে বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন দুলালের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তুলে তুষখালী ইউনিয়ন বিএনপির ৩৭ নেতা পদত্যাগ করেছেন।

গত রবিবার রাতে তুষখালী ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তাঁরা পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এ ছাড়া নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করারও অভিযোগ তোলা হয় বিএনপির উপজেলা নেতাদের বিরুদ্ধে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তুষখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শ ম তারিকুল ইসলাম স্বাধীন। বক্তব্যে তিনি বলেন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন দুলাল ১ নম্বর তুষখালী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে অধিকতর দুর্বল ও বিতর্কিত চেয়ারম্যান প্রার্থী ছগির হাওলাদারের নাম বিএনপির কেন্দ্রে পাঠান। পরে কেন্দ্র সেটি অনুমোদন করে। আওয়ামী লীগ চেয়ারম্যান প্রার্থীর সঙ্গে যোগসাজশে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়েই দুলাল এটি করেছেন। অথচ ছগির হাওলাদারের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপি বর্জন করলেও আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাওয়া, এর আগের সংসদ নির্বাচনে দলের বিপক্ষে কাজ করা, ১/১১তে সংস্কারপন্থী নেতা ড. ফেরদৌস আহমদ কোরেশীর পক্ষে সদস্য সংগ্রহ করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। এতে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর পরও দলের ত্যাগী নেতারা ধানের শীষের পক্ষে কাজ করেন।

কিন্তু রহস্যজনক কারণে গত ১১ মার্চ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সম্পাদক স্বাক্ষরিত পত্রে তুষখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদককে দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করে নিষ্ক্রিয় থাকার অভিযোগ এনে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। ইউপি নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে এসে এ নোটিশ তুষখালী ইউনিয়ন বিএনপিকে ধ্বংস করার গভীর ষড়যন্ত্র। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওই তিন জনসহ ৩৭ নেতা দলীয় সদস্য পদ ছাড়া সব পদ থেকে অব্যাহতির জন্য বিএনপির উপজেলা ও জেলা কমিটির কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। বক্তব্যে দাবি করা হয়, আরো ৯টি ইউনিয়নেও দুলাল একই কাণ্ড করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে তুষখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফরিদ উদ্দিন খোকন, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মনিরুল ইসলাম দুলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক সলিম পঞ্চায়েতসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

রুহুল আমীন দুলাল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতেই ইউপি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়। কিন্তু তুষখালী ইউনিয়ন বিএনপির কিছু নেতা দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশের জবাব না দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করা দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘অনেক পুরনো নেতাকর্মীদের দ্বারা এমনটা আশা করিনি। দলীয় শৃঙ্খলা ভেঙে সংবাদ সম্মেলন করে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করায় তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’


মন্তব্য