kalerkantho

সোমবার। ২৩ জানুয়ারি ২০১৭ । ১০ মাঘ ১৪২৩। ২৪ রবিউস সানি ১৪৩৮।


কেরানীগঞ্জে ভবন ভাঙতে গিয়ে জনরোষে ম্যাজিস্ট্রেট

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি   

১৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



কেরানীগঞ্জ উপজেলার ইমামবাড়ীতে অননুমোদিত একটি বহুতল ভবন ভাঙতে এসে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ম্যাজিস্ট্রেট জনরোষে পড়েন। গতকাল রবিবার দুপুরে তিনি পুলিশের পাহারায় পালিয়ে রক্ষা পান।

ভবন ভাঙার সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘রাজউকের অনুমোদন না নিয়ে বিল্ডিং কোড অনুসরণ না করে ভবনটি নির্মিত হচ্ছিল। এ জন্য সেটি ভাঙা হচ্ছে। ’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল ১১টার দিকে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভবন ভাঙার অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় রাজউকের কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান, আলম হোসেন, পরিদর্শক আবদুর রহমানসহ ১৫-২০ জন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের সহযোগিতার জন্য শতাধিক পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে একটি বুলডোজার ও একটি অত্যাধুনিক স্কেভেটর দিয়ে ভবনটির পশ্চিম ও দক্ষিণ পাশের তৃতীয় তলা পর্যন্ত আংশিক ভাঙা হয়। এ সময় ভবনের একাধিক মালিক বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। ভবনের দুই মালিক মো. ফারুক ও আমিনুল ব্যাপারি অভিযোগ করেন, ‘কোনো নোটিশ না দিয়ে রাজউকের লোকজন ভবনটি ভাঙতে আসে। ভবন ভাঙার নির্দেশ দেখতে চাইলে তাঁরা উল্টো আমাদের আটক করার হুমকি দিয়েছেন। ’

ভবনের আরেক মালিক নূর আলম বলেন, ‘ঠুনকো অভিযোগে রাজউকের লোকজন ভবনটি ভেঙে দিয়েছে। কেরানীগঞ্জের ৯০ ভাগ ভবন রাজউকের অনুমোদন না নিয়ে স্থানীয়ভাবে অনুমোদন নিয়ে নির্মিত হয়েছে। একটি স্বার্থানেষী মহলের টাকা খেয়ে রাজউক কর্তৃপক্ষ এ কাজ করেছে। ’

এদিকে দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী নির্বাহী ম্যাজিস্টেট নাসির উদ্দিনকে ঘিরে বিক্ষোভ করতে থাকে। একপর্যায়ে এলাকাবাসী উত্তেজিত হয়ে পড়লে পুলিশি পাহারায় সেখান থেকে সটকে পড়েন তিনি। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘রাজউক ইমামবাড়ী এলাকায় একটি ভবন ভাঙার জন্য আমাদের কাছে পুলিশি সহায়তা চায়। আমরা ফোর্স দিয়ে তাদের সহায়তা করেছি। ’


মন্তব্য