kalerkantho

25th march banner

রূপগঞ্জে প্রজন্ম লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

লৌহজংয়ে বৃদ্ধ খুন

প্রিয় দেশ ডেস্ক   

১৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে প্রজন্ম লীগ নেতাকে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে মাদক ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে প্রতিপক্ষের হাতে খুন হয়েছেন বৃদ্ধ। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) : বন্ধুর হাতের আঙুল কেটে ফেলার প্রতিবাদ করায় রূপগঞ্জ উপজেলার রাসেলনগর ইউনিয়ন প্রজন্ম লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনির হোসেনকে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে মাদক ব্যবসায়ীরা। গত শনিবার রাতে উপজেলার চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রসহ আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে শাওন, মিল্লাত হোসেন, আলমসহ একটি চক্র বিভিন্ন ধরনের মাদক ব্যবসা করে আসছিল। গত শনিবার রাতে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির সময় মিল্লাতকে বাধা দেয় মাক্কি। এ সময় দুজনের মধ্যে বাগিবতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মাদক ব্যবসায়ীরা মাক্কির ডান হাতের সব আঙুল কেটে ফেলে। খবর পেয়ে মাক্কির বন্ধু মনির ঘটনাস্থলে এসে এর প্রতিবাদ জানান। এ সময় মনিরকে হত্যার হুমকি দেয় মাদক ব্যবসায়ীরা। একপর্যায়ে মিল্লাত, আলম, শাওনসহ ১০-১২ জনের একটি দল ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মনিরকে ধাওয়া দেয়। পরে মনিরের নানির বাড়ির সামনে মাদক ব্যবসায়ীরা তাঁকে কোপায় ও ছুরিকাঘাত করে। এতে মনিরের পেটের ভুঁড়ি বের হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মনিরকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।   হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মুন্সীগঞ্জ : লৌহজং উপজেলায় সালিস-মীমাংসার কথা বলে ডেকে নিয়ে মো. আনোয়ার শেখ নামের এক বৃদ্ধকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। জানা যায়, গত শুক্রবার দুপুরে উপজেলার মাইজগাঁও গ্রামের একটি বাড়িতে দাওয়াত খাওয়া শেষে একই গ্রামের শুভ রহমান ও মোশারফ হোসেন ইকবালের মধ্যে সিনিয়র-জুনিয়র নিয়ে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। উপস্থিত লোকজন পরিস্থিতি শান্ত করে। বিকেলে শুভর পক্ষে সালিস-মীমাংসার কথা বলে ইকবালের চাচা মো. আনোয়ার শেখসহ আরো কয়েকজনকে মাইজগাঁও বাজারে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই লাঠিসোঁটা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রস্তুত ছিল শুভ ও তার বাহিনী। ওই বাজারে সেলিমের দোকানে বসে সালিসের জন্য অপেক্ষা করছিল আনোয়ারসহ ইকবালের পক্ষের লোকজন। এ সময় শুভর পক্ষের লোকজন তাদের দোকান থেকে বের করে দেওয়ার জন্য সেলিমকে বলে। সেলিম তাদের দোকান থেকে বের হয়ে বাড়ি চলে যেতে বলে। তারা দোকান থেকে বের হলে দেলোয়ার বেপারীর নির্দেশে শুভ, আনিছ, শান্ত, বাবু বেপারী, হাসান হাওলাদার, অনিক বেপারী, শাওন বেপারী, আক্তার হোসেন, মনির বেপারী, আলমগীর বেপারীসহ ২০-২৫ জনের একটি দল তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় আনোয়ার, খোরশেদ ও আলী নুর আহত হন। তাঁদের মধ্যে আনোয়ারের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে ঢাকার হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন শনিবার রাতে তিনি মারা যান। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে প্রতিপক্ষ দেলোয়ার ও শুভ বাহিনী গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে লৌহজং থানার ওসি  জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মন্তব্য