kalerkantho


রাজবাড়ীতে দুই কোটি টাকার প্রকল্প

বাতিল পাথরে কার্পেটিং

জাহাঙ্গীর হোসেন, রাজবাড়ী   

১৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বাতিল পাথরে কার্পেটিং

বিটুমিনযুক্ত বাতিল পাথরের সঙ্গে নতুন পাথর মিশিয়ে এভাবেই রাস্তা কার্পেটিংয়ের জন্য প্রস্তুত করা হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

দুই কোটি টাকা ব্যয়ে রাজবাড়ী পৌরসভার গোদার বাজার সড়ক পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে। এখন চলছে কার্পেটিং কাজ। এতে নতুন পাথরের সঙ্গে ওই সড়কের তুলে ফেলা বিটুমিনযুক্ত বাতিল পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে। পৌর কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ অনিয়ম করছে। ফলে জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

গত শনিবার দুপুরে জেলা শহরের কাজী হেদায়েত হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে গিয়ে দেখা যায়, মজুদ করা রয়েছে পাথরের স্তূপ। একাধিক পাথরের স্তূপের সঙ্গে বিটুমিনযুক্ত বাতিল পাথর মেশানো রয়েছে। আর ওই পাথরগুলো পাশে থাকা মেশিনে নতুন বিটুমিন দিয়ে জ্বালিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কার্পেটিং স্থলে।

সেখানে উপস্থিত রাজবাড়ী পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল করিম বলেন, ‘নতুন পাথরের সঙ্গে বাতিল পাথর মেশানোর কথা না। এ বিষয়ে আমি জানি না। এটা ভালো বলতে পারবেন উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুস সুবাহান। তিনি কার্পেটিং স্থলে অবস্থান করছেন। ’

কার্পেটিং স্থলে গিয়ে কথা হয় উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুস সুবাহানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বিএমডিআই প্রকল্পের অধীনে পাঁচ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে জেলা শহরের সাতটি সড়কের পুনর্নির্মাণের কাজ করা হচ্ছে। এর মধ্যে দুই কোটি দুই লাখ টাকা ব্যয়ে গোদার বাজার সড়কটি নির্মাণ করা হচ্ছে। নির্মাণ করছে রাজবাড়ীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরসিসিএল-এমআরএস জেভি। ওই প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পায় ২০১৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর। ২০১৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর কাজটি শেষ করার কথা ছিল। এখন কাজটি প্রায় শেষ পর্যায়ে। কার্পেটিং শেষ করতে কাজের মেয়াদ আরো তিন মাস বাড়ানো হয়েছে। ’ তিনি আরো বলেন, ‘এ সড়ক থেকে তুলে ফেলা বাতিল বিটুমিনযুক্ত পাথর সরিয়ে ফেলা হয়েছে। নতুন পাথর দিয়েই কার্পেটিং চলছে। ’ তবে তাঁকে পাথর মজুদ করা স্থলে গিয়ে কথাটির প্রমাণ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলে যেতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরসিসিএল-এমআরএস জেভির মালিক মুস্তাফিজুর রহমান শরিফের মুঠোফোনে একাধিকার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

রাজবাড়ী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী শাহাদৎ হোসেন বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিটুমিনযুক্ত বাতিল পাথর দিয়ে ১০ মিটারের মতো রাস্তার কার্পেটিং কাজ করেছিল। ইতিমধ্যে তা তুলে ফেলার জন্য বলা হয়েছে। এখন আর বাতিল বিটুমিনযুক্ত পাথর দিয়ে কাজ করা হচ্ছে না। ’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী জানান, বিটুমিনযুক্ত পাথর তুলে ফেলার পর তা রাস্তার নিচের অংশে ব্যবহার করা হয়। তাতে রাস্তার ক্ষতি হয় না। তবে বিটুমিনযুক্ত পাথর নতুন করে জ্বালালে তার আর কার্যকারিতা থাকে না। ফলে রাস্তাটির স্থায়িত্ব কমে যায় এবং অল্প সময়ের মধ্যে কার্পেটিং উঠে সড়কটি এবড়োখেবড়ো হয়ে যায়। তাই কোনোভাবেই বাতিল বিটুমিনযুক্ত পাথর কার্পেটিং কাজে ব্যবহার করা উচিত নয়। তিনি বলেন, ‘গোদার বাজার সড়কটি দীর্ঘদিন পর পুনর্নির্মাণ করায় মানুষের মধ্যে স্বস্তি নেমে এসেছে। তবে ওই সড়ক দিয়ে বালুবাহী ট্রাকসহ ভারী যানবাহন সব সময় চলাচল করে। কার্পেটিং কাজ নতুন পাথর দিয়ে করলে স্থায়ী হতো। ’

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য গতকাল রবিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজবাড়ী পৌরসভার মেয়র মহম্মদ আলী চৌধুরীর মুঠোফোনে কল করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। এ কারণে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।


মন্তব্য