kalerkantho


চকরিয়া পৌর নির্বাচন

বিএনপি প্রার্থীর স্ত্রীর ওপর হামলা, ভাঙচুর

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি   

১৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



চকরিয়া পৌর নির্বাচনে প্র্রচারণায় গিয়ে বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থীর স্ত্রীসহ এক নারীকর্মী হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া বিএনপির নেতাকর্মীদের এলাকা ছেড়ে যেতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দেওয়া ছাড়াও তিনটি বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। গতকাল রবিবার বিকেলে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর নেতৃত্বে এসব ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে দলের নির্বাচনী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরী খোকন মিয়া।

নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান চৌধুরী খোকন মিয়া অভিযোগ করেন, দলের কর্মী বিউটি আক্তারসহ কয়েকজনকে নিয়ে রবিবার সকালে করাইয়াঘোনায় ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চাইতে গেলে নুরুল ইসলাম হায়দারের স্ত্রী পৌর মহিলা দলের সহসভানেত্রী রিফাত সাবরিনার ওপর হামলা চালানো হয়। আওয়ামী লীগের প্রার্থী নিজেই এ হামলায় নেতৃত্ব দেন। তাঁর এলাকায় যাতে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে কেউ ভোট চাইতে না যায়, সে জন্য হুমকি দেওয়া হয়। এ ছাড়া শনিবার রাতে ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নাজেম উদ্দিন, ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বাবুল চৌধুরীর বাড়িতে গিয়ে আওয়ামী লীগের কর্মীরা ভাঙচুর চালায়। পুলিশও বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির প্রার্থী বর্তমান মেয়র নুরুল ইসলাম হায়দার বলেন, ‘প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পরই আমি নির্বাচনী প্রচারণায় নামি। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া আচরণবিধি যাতে লঙ্ঘন না হয়, সে জন্য সতর্ক রয়েছি। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আওয়ামী লীগের আলমগীর চৌধুরী তফসিল ঘোষণার পর থেকেই আচরণবিধি লঙ্ঘন করে শত শত মানুষ ও গাড়ির বহর নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ভাঙচুর করা হচ্ছে। এলাকা ছেড়ে যেতে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে আমি নির্বাচন কমিশনসহ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। ’ তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আলমগীর চৌধুরী বলেন, ‘আমি চাই সুষ্ঠু, সুন্দর ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। কিন্তু বিএনপি প্রার্থী নির্বাচনের মাঠ থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য আগেভাগেই অবান্তর অভিযোগ করছেন। ’

কক্সবাজারে ১১ বিদ্রোহী বহিষ্কার

এদিকে কক্সবাজার থেকে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, প্রথম দফায় কক্সবাজারের ১৯ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ১১ ‘বিদ্রোহী’ চেয়ারম্যান প্রার্থীকে বহিষ্কার করেছে জেলা আওয়ামী লীগ। এই ১৯টি ইউনিয়নের মধ্যে কুতুবদিয়া, মহেশখালী ও টেকনাফের ১৭টি আগামী ২২ মার্চ এবং টেকনাফের অন্য দুটি ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২৭ মার্চ। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা ও সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বহিষ্কৃত নেতারা হলেন মহেশখালীর মাতারবাড়ী ইউনিয়নের মাস্টার মোহাম্মদুল্লাহ, অ্যাডভোকেট মোস্তাক আহমদ ও কাউসার সিকদার, কুতুবদিয়ার কৈয়ারবিলের মনোয়ারুল ইসলাম মুকুল, বড়ঘোপ ইউনিয়নের ছাবের আহমদ এবং উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের সিরাজদ্দৌলা, টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের নুর হোসেন, সেন্ট মার্টিনস ইউনিয়নের নূর আহমদ, আবদুর রহমান, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের শাহজাহান এবং বাহারছড়া ইউনিয়নের মো. হাবিব উল্লাহ।


মন্তব্য