kalerkantho

বুধবার । ২৫ জানুয়ারি ২০১৭ । ১২ মাঘ ১৪২৩। ২৬ রবিউস সানি ১৪৩৮।


টাঙ্গাইল-৪ আসনের উপনির্বাচন ২০ মার্চ

কাদের সিদ্দিকীহীন নিরুত্তাপ মাঠ

অরণ্য ইমতিয়াজ, টাঙ্গাইল   

১৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



আলোচিত টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের উপনির্বাচন আগামী ২০ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েছেন হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী।

তাঁর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনএফের আতাউর রহমান খান (টেলিভিশন) ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ইমরুল কায়েস (আম)। তিনজন প্রার্থী থাকলেও নির্বাচন নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তেমন আগ্রহ নেই। কারণ স্বাধীনতার পর থেকেই ওই আসনে একচেটিয়া প্রভাব বিস্তার করে আসছিল বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকীর পরিবার। গত নির্বাচনে ওই আসন থেকে সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়ে কাদের সিদ্দিকীর বড় ভাই আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী মন্ত্রী হয়েছিলেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে একটি অনুষ্ঠানে ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করার দায়ে তিনি মন্ত্রিত্ব ও সংসদ সদস্য পদ হারালে আসনটি শূন্য হয়। পরে ওই আসনে নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করা হলে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আব্দুল কাদের সিদ্দিকীসহ ১০ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

কিন্তু যাচাই-বাছাই শেষে ঋণখেলাপির অভিযোগে কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায়। পরে তিনি রিট করলে গত বছরের ২ নভেম্বর হাইকোর্ট নির্বাচন স্থগিত করেন। এ বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি কাদের সিদ্দিকীর রিট আবেদন খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। তাঁর মনোনয়ন বাতিল হয়ে যাওয়ায় আওয়ামী লীগের সোহেল হাজারীই একমাত্র প্রার্থী হিসেবে নিজের অবস্থান করে নেন। পরে আগামী ২০ মার্চ এই আসনের উপনির্বাচনের নতুন তারিখ ঘোষণা করে ইসি।

এলাকাবাসী জানায়, কাদের সিদ্দিকী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় কালিহাতী উপনির্বাচন জমে উঠবে বলে তাঁরা ধারণা করেছিলেন। এ নিয়ে কালিহাতীতে চায়ের আসর থেকে শুরু করে সর্বত্র আলোচনার বিষয় ছিল নির্বাচন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে কাদের সিদ্দিকীর প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় নির্বাচনী মাঠ নিরুত্তাপ হয়ে যায়। এ কারণে ভোটারদের মধ্যেও ভোট নিয়ে আগ্রহ খুব একটা নেই। তাদের ধারণা, সোহেল হাজারী খালি মাঠেই গোল দেবেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থী নির্বাচনে খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারবেন না।

এ ব্যাপারে কালিহাতীর পালিমা গ্রামের আবদুল মালেক বলেন, ‘সংসদ নির্বাচনের কোনো আমেজ নেই। সবাই জানে সোহেল হাজারী পাস করবেন। তাঁর সঙ্গে লড়াই করার মতো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নেই। ’

পুরুয়া গ্রামের আবু বকর বলেন, ‘কাদের সিদ্দিকী না থাকায় নির্বাচন জমজমাট হচ্ছে না। ফলাফল প্রায় ঠিকই হয়ে গেছে। নির্বাচনের পর শুধু ঘোষণা দেওয়া বাকি। তবে কাদের সিদ্দিকী থাকলে বোঝা যেত, কত ধানে কত চাল। ’

পাঁছচারান গ্রামের নাহিদ হাসান বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে কোনো আনন্দ-উল্লাস, আগ্রহ নেই। এক কথায় নির্বাচনী কোনো আলোড়নই নেই। কাদের সিদ্দিকী যখন মাঠে ছিলেন তখন সবার মধ্যে বেশ আগ্রহ ছিল। শক্তিশালী প্রার্থী ছিলেন তিনি। অন্যদিকে সরকার দলের সোহেল হাজারীও শক্ত প্রার্থী। সেয়ানে সেয়ানে লড়াই হতো। কিন্তু কাদের সিদ্দিকী না থাকায় সে অবস্থা এখন আর নেই। সোহেল হাজারী ছাড়া বাকি দুজনের তেমন কোনো প্রচারণাও দেখা যায় না। এটা সোহেল হাজারীর একক নির্বাচন। ’

এদিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সোহেল হাজারী গত ৮ মার্চ কালিহাতীর বল্লা করোনেশন উচ্চ বিদ্যালয়ে এক জনসভায় বলেন, ‘কাদের সিদ্দিকীকে ছাড়া ব্যক্তিগতভাবে আমি নিজেও নির্বাচন করতে চাইনি। বঙ্গবীর নির্বাচন করলে একটি সুন্দর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হতো। ’


মন্তব্য