kalerkantho


মাধবপুরে ত্রিভুজ প্রেমের পরিণতি

যুবক খুন, বাঁচাতে গিয়ে রক্তাক্ত কিশোরী

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বাঘাসুরা গ্রামে এক যুবককে গলা কেটে হত্যা ও কিশোরীকে কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করা হয়েছে। গত শনিবার রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ বলছে, ত্রিভুজ প্রেমের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে।

নিহত যুবকের নাম আশিক মিয়া (২২)। তিনি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার রাজাপুর গ্রামের অহিদ মিয়ার ছেলে। পেশায় তিনি জুয়েলারি শ্রমিক। তাঁকে বাঁচাতে গেলে ওই কিশোরীকে (১৪) আহত করে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। গুরুতর অবস্থায় মেয়েটিকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাধবপুর উপজেলার ওই মেয়ের সঙ্গে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার রাজমিস্ত্রি জনির প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মেয়েটি এর আগে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কলমচোরা থানায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যায়। সে প্রায় ছয়-সাত মাস আগে মাধবপুরে আসে।

এরপর আশিকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওই যুবক কয়েকবার মেয়েটির বাড়িতে বেড়াতে আসেন। গত শনিবার সকালে তিনি বুড়িচং থেকে আসেন। শনিবার রাত ৯টার দিকে খুন হন। খবর পেয়ে মাধবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। এ ছাড়া আহতকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। পরে তাকে সিলেটে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

শনিবার রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বাঘাসুরা পূর্ব গ্রাম ইন্ডিয়াপাড়ার সৈয়দ মিয়ার বসতঘর, উঠান ও তাঁর ভাই রফিক মিয়ার উঠানে রক্তের দাগ। হালকা লাল ও নীল রঙের শার্ট ও কালো প্যান্ট পরা যুবকটির মরদেহ রফিকের বসতঘরের কোনায় পড়ে আছে।

এ বিষয়ে মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা মুনির হোসেন বলেন, ‘পরিকল্পিত খুন। প্রতিবেশী মৃত দুবরাজ মিয়ার ছেলে সৈয়দ মিয়ার বাড়ি থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি পলিথিনসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে। ’

হবিগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার মাসুদুর রহমান মনির বলেন, ‘ত্রিভুজ প্রেমের ঘটনায় এই খুন হয়েছে। নিহতের বাবা মাধবপুর থানায় হত্যা মামলা করেছেন। লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ব্যাপারে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ’ তিনি জানান, আহত মেয়েটি পুলিশের কাছে কয়েকটি নাম বলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তার অবস্থা গুরুতর থাকায় কিছু বলতে পারেনি। সে সুস্থ হলে জড়িতদের নাম পাওয়া যাবে।

এক রশিতে যুগলের আত্মহত্যা : এদিকে আমাদের গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার ছান্দিয়াপুর গ্রামে কিশোর-কিশোরীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের ধারণা, তারা আত্মহত্যা করেছে।

মৃত কিশোর রোস্তম আলী খন্দকার (১৭) সাদুল্যাপুর ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র এবং কিশোরী সুলতানা আকতার মুক্তি (১৫) মহিষবান্দি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। ওই গ্রামের মহির উদ্দিনের ছেলে রোস্তম এবং উকিল মিয়ার মেয়ে মুক্তি।

পারিবারিক সূত্র জানায়, দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গ্রামের লোকজন সম্পর্কের বিষয়টি জানত। তাদেরকে নানাভাবে প্রশ্নের মুখোমুখি করে অভিভাবকরা। দুজন বিয়ে করার কথা বলে। কিন্তু দুই পরিবার কোনোভাবে এ সম্পর্ক মেনে নিতে রাজি হয়নি। কয়েক দিন আগে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় দুজন। কিন্তু অর্থকষ্টে বাইরে থাকতে পারেনি। গ্রামে ফিরে আসে। পরিবারের কাছে গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় শনিবার রাতে গ্রামের একটি পুকুর পারে গাছের ডালে রশি বেঁধে তারা দুজন আত্মহত্যা করে। স্থানীয়রা গতকাল সকালে দুজনের লাশ ঝুলতে দেখে পরিবারকে জানায়।

রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. আবুল হোসেন সরকার দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘ওই দুজনের পরিবার অতি দরিদ্র। তারা কোনো রকমে লেখাপড়া চালিয়ে আসছিল। তাদেরকে নিয়ে উভয় পরিবারে আশা ছিল। এ ইউনিয়নে এর আগে কখনো এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। ’

সাদুল্যাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরহাদ ইমরুল কায়েস বলেন, ‘প্রেমঘটিত কারণে তারা মনের ক্ষোভে আত্মহত্যা করেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ’


মন্তব্য