kalerkantho


ফিরলেন নান্দাইলের সেই ‘নিখোঁজ’ শিক্ষিকা

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

১৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ময়মনসিংহের নান্দাইলের প্রাথমিক শিক্ষিকা আইরিন সুলতানার সন্ধান মিলেছে। গত বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি মোবাইল ফোনে পরিচয়ের সূত্র ধরে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে গিয়ে এক ছেলেকে বিয়ে করেন।

পরদিন তাঁর পিতা মেয়ে নিখোঁজ হয়েছে জানিয়ে থানায় ডায়েরি করেন। তিনি উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের কপালহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ছিলেন। গতকাল রবিবার গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে তাঁর বদলির খবর পাওয়ার পর এত দিন তাঁর নিরুদ্দেশ থাকার বিষয়টি জানাজানি হয়।

এদিকে প্রায় ১৩ মাস কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিত থাকলেও তাঁর বিরুদ্ধে তেমন কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে গত ৭ এপ্রিল উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে ওই শিক্ষিকাকে বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। জবাব না পেয়ে ২৭ আগস্ট তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। এ অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে পাঠানো বদলির আদেশ আসে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে। আদেশে জানা যায়, ওই শিক্ষিকাকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কলাকাটা হামছাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইরিন সুলতানা জানান, তিনি স্বামীর ঘরে ভালো আছেন।

তাঁর একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়েছে। ইতিমধ্যে তিনি সেখানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দিয়েছেন। বিভাগীয় মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি তো কয়েক দফায় অসুস্থতার ছুটি নিয়েছি। সেটা যদি কার্যকর না হয় তাহলে আমার কী করার আছে। ’

কপালহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা কনিকা রানী দাস বলেন, ‘অনুমতি ছাড়াই আইরিন সুলতানা এখন পর্যন্ত স্কুলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তাঁকে বদলির জন্য আমার বিদ্যালয় থেকে কোনো অনাপত্তিপত্র বা ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। ’

নান্দাইল প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আনারকলি নাজনিন জানান, বদলির বিষয়ে আদেশ পাওয়ার আগে তিনি কিছুই জানতেন না। তিনি জানতেন নিখোঁজ ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রয়েছে। এখন আদেশ পাওয়ার পর জেলা কর্তৃপক্ষের কাছে পরবর্তী করণীয় বিষয়ে পরামর্শ নেবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিউল হক জানান, তাঁর দপ্তর এ বদলির বিষয়ে কিছুই জানে না। বদলিটি মহাপরিচালক দপ্তর থেকে হয়েছে। ওই শিক্ষিকা কয়েক দফায় ছুটি নিয়েছেন। সে কারণে তাঁর চাকরি যাওয়ার কথা নয়। আইরিনের বাবা মো. আক্কাছ আলী জানান, নিখোঁজের মাসখানেক পর তিনি জানতে পারেন গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের শ্রীপতিপুর গ্রামের মো. মজিবুর রহমানের ছেলে মাহবুবুর রহমান তাঁর মেয়েকে বিয়ে করে। পরে অনেক চেষ্টা করেও মেয়েকে বাড়ি আনতে পারেননি। মানসম্মানের ভয়ে বিষয়টি তিনি কাউকে জানাননি। পরিবারের অমতে বিবাহিত ছেলেকে বিয়ে করা মেয়ের প্রতি ক্ষুব্ধ আক্কাস আলীর প্রশ্ন, দীর্ঘ ১৩ মাস কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও কিভাবে কেউ চাকরিতে বহাল থাকে।

এ বিষয়ে আইরিন সুলতানার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তাহমিনা খাতুন জানান, তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম শেষ হয়েছে। যেকোনো দিন প্রতিবেদন জমা দেবেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তাঁর বদলি হওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। এটা অধিদপ্তর বলতে পারবে। ’

এর আগে গত বছরের ১৮ মার্চ নান্দাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অফিসে বেলাল উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি আইরিনের বদলির আদেশে স্বাক্ষর নিতে এসে পুলিশের হাতে আটক হন। তখন থানাহাজতে থাকা বেলাল বলেছিলেন, তিনি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার পচারিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক। কিন্তু এখন জানা গেছে, বেলাল ছিলেন আইরিনের স্বামীর চাচাতো ভাই।


মন্তব্য