kalerkantho

সুনামগঞ্জে আ. লীগের প্রার্থী বাছাইয়ে অনিয়ম

কেন্দ্রে নালিশ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



কেন্দ্রে নালিশ

সুনামগঞ্জে তৃতীয় দফা ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে অযোগ্য প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বলে সংসদীয় বোর্ডের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে। গতকাল রবিবার ধানমণ্ডির দলীয় কার্যালয়ে জেলা সভাপতি ও সদর উপজেলা সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে সংসদীয় বোর্ডের নেতা ওবায়দুল কাদেরের কাছে ওই অভিযোগ করেন সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আমির হোসেন রেজা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার সুনামগঞ্জ সদর, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার ২৬ ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের নাম দলীয় মনোনয়ন বোর্ডের কাছে পাঠায় জেলা আওয়ামী লীগ। অধিকাংশ ইউনিয়নে একক প্রার্থী থাকলেও কয়েকটি ইউনিয়নে একাধিক প্রার্থীর নামও দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও দোয়ারাবাজারের একাংশের আহ্বায়ক প্রার্থীদের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা নিয়েছেন। গতকাল রবিবার জেলা সভাপতি মতিউর রহমানের নেতৃত্বে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম, সাধারণ সম্পাদক মোবারক হোসেনসহ কয়েকজন নেতা ধানমণ্ডিতে দলীয় কার্যালয়ে যান। তালিকায় সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আমির হোসেন রেজা ও গৌরার ইউনিয়নের হোসেন আলীর নাম থাকলেও তাঁদের বাদ দেওয়ার জন্য গতকাল একটি লিখিত আবেদন নিয়ে যান জেলা সভাপতি। এ সময় পাশেই ছিলেন আমির হোসেন রেজা ও হোসেন আলী। তারা তাৎক্ষণিক ওবায়দুল কাদেরের কাছে অভিযোগ করেন জেলা সভাপতি মতিউর রহমান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোবারক হোসেন অযোগ্য, দলের বাইরের প্রার্থীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের আর্থিক সুবিধা নিয়ে একক প্রার্থীর বদলে একাধিক প্রার্থীর নাম দিয়েছেন। এখন ওই প্রার্থীদের বাদ দেওয়ার জন্য জেলা সভাপতির মাধ্যমে একটি সিন্ডিকেট আবারও তৎপরতা শুরু করেছে। দলের ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ জনপ্রতিনিধিদের বদলে অযোগ্য লোকদের মনোনয়নের জন্য তাঁরা তৎপরতা শুরু করেছেন বলে কেন্দ্রীয় নেতাদের জানানো হয়।

এ সময় ওবায়দুল কাদের ডাকলেও তিনি পালিয়ে যান বলে জানান অভিযোগকারীরা।

আমির হোসেন রেজা বলেন, ‘আমি জেলা ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগে নেতৃত্ব দিয়েছি। চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়ে এলাকার কাজ করেছি। এখন টাকা খেয়ে আমাদের মতো প্রার্থীদের বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। তাই নেতাদের সামনেই আমি তাদের ঘুষ খাওয়ার বিষয়টি প্রমাণ করেছি। অনেক প্রার্থী বাড়ি-জমি বিক্রি করে টাকা দিয়েছেন বলে শুনেছি। ’

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তবে দোয়ারাবাজারের প্রার্থীদের নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এ সময় অভিযোগকারীরাও ছিলেন। ’ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমানের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

 


মন্তব্য