৬০ লাখে সরল বিএনপি-335395 | প্রিয় দেশ | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০১৬। ১৬ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৮ জিলহজ ১৪৩৭


৬০ লাখে সরল বিএনপি

মো. মাসুদ খান, মুন্সীগঞ্জ   

১৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



৬০ লাখে সরল বিএনপি

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ষোলঘর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। বিএনপির চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এরই মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন। কালের কণ্ঠ’র অনুসন্ধানে জানা গেছে, এর বিনিময়ে বিএনপির প্রার্থী ৬০ লাখ টাকা পাবেন। এরই মধ্যে ৩০ লাখ টাকা তাঁকে দেওয়া হয়েছে।

বিএনপির নেতারা জানান, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর উপজেলা বিএনপির বিবদমান দুই পক্ষের মধ্যে প্রার্থী বাছাই নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। উপজেলা বিএনপির সভাপতি মমিন আলী সমর্থিত জুলহাস উদ্দিন দলীয় মনোনয়ন পান। বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি কাজী শামীম ঈমাম সাচ্চু। মনোনয়ন জমাদানের শেষ দিনের আগের রাতে দলীয় চেয়ারপারসনের গুলশানের কার‌্যালয়ে এ নিয়ে বাগিবতণ্ডা হয়। পরে জুলহাসের মনোনয়ন নিশ্চিত হয়। পরদিন উপজেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন প্রার্থী। তিনি বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে ইউনিয়নব্যাপী প্রচারণায় নামেন। নির্বাচনে তাঁর প্রতিপক্ষ ছিলেন ঢাকার বংশালের মোটর পার্টস ব্যবসায়ী আওয়ামী লীগের প্রার্থী আজিজুল ইসলাম। জুলহাস উদ্দিন কিছুদিন প্রচারণা চালান। হঠাৎ করে গত ৯ মার্চ চুপিসারে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য রিটার্নিং অফিসারের কাছে আবেদনপত্র জমা দেন।

ষোলঘর ইউনিয়ন বিএনপির একটি সূত্র জানায়, জুলহাসের ভাই ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম। নজরুল ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নাসির উদ্দিন দেওয়ান মিলে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সঙ্গে আঁতাত করেন। চুক্তি অনুযায়ী ৬০ লাখ টাকার মধ্যে নজরুলের হাত ধরে ৩০ লাখ টাকা গত ৯ মার্চ লেনদেন হয়েছে। টাকা লেনদেন করে নজরুল ওই দিন মালয়েশিয়ায় চলে গেছেন। বাকি ৩০ লাখ টাকা লেনদেন হবে ১৩ মার্চ রিটার্নিং অফিসার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়ার পর।

ইউনিয়ন বিএনপির কয়েকজন প্রবীণ নেতা বলেন, জুলহাস উদ্দিন মূলত ইতালিপ্রবাসী। তিনি ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য মাত্র। পাঁচ-ছয় বছর পর পর দেশে আসায় তাঁর পরিচিতি কম। এর পরও টাকার জোরে তিনি বিএনপির মনোনয়ন পান।

ষোলঘর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মজিবর রহমান বলেন, ‘আমাদের চেয়ারম্যান প্রার্থী আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তিনি ষোলঘর ইউনিয়নের ১২-১৩ হাজার লোকের সঙ্গে বেইমানি করেছেন। আমাদের মান-সম্মান নষ্ট করেছেন। এ জন্য তাঁর বিচার হওয়া দরকার। তাঁকে দল থেকে অবশ্যই বহিষ্কার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের কাজ না করে।’

শ্রীনগর উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আবুল কালাম কানন বলেন, ‘এর চেয়ে দুঃখের বিষয় আর কী হতে পারে? অন্য কোনো প্রার্থীও নেই যাকে নিয়ে আমরা লড়ব।’

ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নাসির উদ্দিন দেওয়ানের বক্তব্য নেওয়ার জন্য বারবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

বিএনপির প্রার্থী জুলহাস উদ্দিন টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘অসুস্থতার কারণে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন করেছি।’ অসুস্থ হয়ে কোন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন—এ প্রশ্ন করলে উত্তর দেননি তিনি।

আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘টাকা দিয়ে বিএনপি প্রার্থী কিনতে হবে কেন? আওয়ামী লীগের যে জনপ্রিয়তা রয়েছে, তাতে আমি এমনিই পাস করব। বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে আমার কোনো দিন ফোনেও আলাপ হয়নি। এগুলো স্রেফ গুজব।’

শ্রীনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘শুনেছি, তিনি আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে বিদেশ চলে গেছেন। এর চেয়ে লজ্জার আর কী হতে পারে?’

উপজেলা বিএনপির সভাপতি মমিন আলী বলেন, ‘টাকা নেওয়ার বিষয়টি আমিও শুনেছি। মনোনয়ন প্রত্যাহারের ঘটনায় আমরা বিব্রত।’

রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা এলিজ ফারজানা বলেন, ‘মো. জুলহাস উদ্দিন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করেছেন। আবেদনপত্র গৃহীত হলে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আজিজুল ইসলামের চেয়ারম্যান হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।’

মন্তব্য