‘আমি কার কাছে যামু?’-335391 | প্রিয় দেশ | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১২ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৪ জিলহজ ১৪৩৭


রূপগঞ্জে হাসপাতালে গৃহবধূর আর্তি

‘আমি কার কাছে যামু?’

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি   

১৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গৃহবধূ ফাতেমা বেগম কাতরাচ্ছেন। গত শুক্রবার রাতে তিনি এ প্রতিবেদকের কাছে অভিযোগ করে জানান, প্রেমের কারণে তিনি ধর্ম ত্যাগ করে বিয়ে করেছেন। এখন স্বামীর নির‌্যাতন সইতে পারছেন না। তাঁর প্রশ্ন, ‘আমি কার কাছে যামু? কেডায় আমারে আশ্রয় দিব?’

ওই নারী জানান, রূপগঞ্জের কাঞ্চন পৌরসভার হাটাব জেলেপাড়া এলাকার কালী কুমারের মেয়ে তিনি। আগে নাম ছিল শিখা রানী দাস। বাবা গরিব হওয়ায় হাই স্কুলে লেখাপড়া সম্ভব হয়নি তাঁর। অভাবের সংসারে বাবাকে সহযোগিতা করতে স্থানীয় নবারুন জুট মিলে সপ্তাহে চাকরি নেন। এতে বাবার সংসার ভালোই চলছিল। হঠাৎ পরিচয় হয় হাটাব টেকপাড়ার মৃত ওমর আলীর ছেলে শাহিদুলের সঙ্গে। একপর‌্যায়ে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০০৫ সালে ধর্ম ত্যাগ করে শিখা পালিয়ে বিয়ে করেন। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার পর তাঁর নাম হয় ফাতেমা বেগম। বিয়ের পর স্বামীকে নিয়ে কাঁচপুরে ভাড়া বাসায় বসবাস করতে থাকেন। বিয়ের এক বছর পর তাঁদের সংসারে একটি পুত্রসন্তান জন্ম নেয়। ছেলের নাম রাখা হয় সোহেল। এর পর থেকে শুরু হয় স্ত্রীর ওপর নির‌্যাতন। যৌতুকের দাবিতে স্বামী তাঁকে প্রায়ই মারধর করেন। বাড়ি থেকে তাড়িয়েও দেন। তিন মাসের সন্তানকে তার বাবা ২০ হাজার টাকায় এক আত্মীয়ের কাছে বিক্রি করে দেন। স্বামীর কাছ থেকে প্রতারিত হয়ে ওই নারী কোথাও আশ্রয় না পেয়ে কাঞ্চন নবারুন জুট মিলে আবার চাকরি নেন। মিলের কোয়ার্টারে বসবাস শুরু করেন। পাঁচ বছর পর স্বামী জুট মিলে গিয়ে কর্মকর্তাদের কাছে ভুল স্বীকার করে স্ত্রীকে বাড়িতে নিয়ে যান। প্রথমে কয়েক দিন ভালোই সংসার চলে। পরে ফের শুরু হয় স্বামীর অত্যাচার। বর্তমানে ফাতেমা নবারুন জুট মিলে চাকরি করে সংসার চালান। তাঁদের সংসারে সাড়ে তিন বছরের শায়লা নামের এক কন্যাসন্তান রয়েছে। কিন্তু স্বামী কোনো কাজ করেন না। উল্টো ফাতেমার চাকরির টাকা নিয়ে নেশা করেন। স্ত্রী টাকা দিতে না পারলে শুরু হয় তাঁর ওপর নির‌্যাতন। গত শুক্রবার বিকেলে নেশার টাকা না দেওয়ায় স্ত্রীকে লাঠিপেটা করে গুরুতর জখম করেন।

ফাতেমা বলেন, ‘সাড়ে তিন বছরের মেয়েকে নিয়ে আমি এখন কোথায় যামু? কে আমার সন্তানকে দেখাশোনা করব?’

এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল ইসলাম বলেন, ‘শিখা ওরফে ফাতেমার আভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য